.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮

পথভোলা পথিক

      ।।      রফিক উদ্দিন লস্কর    ।।
দূর আকাশ পানে তাকিয়ে তাকিয়ে আমি
খুজে ফিরি নীল রঙের কারুকাজ,
ঢাকা পড়া কালো মেঘে নেই কিরন মালা
সূর্য রশ্মির কোনো দেখা নাই আজ।
খুজে ফিরি চলি তাই এপ্রান্ত হতে ওপ্রান্ত
কালো চাদরে মোড়া নীলাভ আকাশ,
পথভোলা পথিক আমি ঘুরি দেশে দেশে
কখন আকাশে হবে রবির প্রকাশ।
খুঁজে ফিরি তোমায় আমি বসন্তের দিনে
ভরদুপুরে উথলা বাতাসের মাঝে,
পাতায় পাতায় জড়ানো কতো স্মৃতিকথা
এ বুকের মাঝে মর্মর হয়ে বাজে।
ঘোলাটে স্বপ্ন মাঝে আজ বিভোর আমি
ঘুমের রাজ্যে কল্পনা কড়া নাড়ে,
শুনে সমুদ্রের স্রোতধ্বনি পুলকিত হই
তোমার কণ্ঠধ্বনি শেষ সীমা ছাড়ে।

২৫/০৫/২০১৮ইং
নিতাইনগর, হাইলাকান্দি (আসাম)




বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮

সত্য নীরব

    ।।        রফিক উদ্দিন লস্কর         ।।
মমতার টানে আজ আমি সত্যি দিশেহারা ,
ভাগ্য দিলোনা সায় তাই হলাম গৃহছাড়া ।
রঙ্গিন স্বপ্ন উড়াউড়ি করে মেলিয়ে পাখা ,
চেয়ে দেখি মায়াময় মুখটা ধূলোয় ঢাকা।
সব বদলে গেছে ঐ পথ-ঘাট আর প্রকৃতি,
প্রাচীন সংস্কৃতির আমি ক্ষণিকের অতিথি।
গগনচু্ম্বী ভবন আর চাকচিক্যতায় মানুষ ,
অর্থের কাছে হেরে গেছে, সব রঙ্গিন ফানুস।
মিটে গেছে মনের ক্ষুধা, পেটের ক্ষুধা প্রবল
অনাহারে কাঁদছে মানুষ , নেই পেয়ো জল।
ভোগসুখে যারা মেতে ওঠে, শূন্য মনের ঘর,
লোলুপ দৃষ্টি তার আপনজন হয়ে যায় পর।
দিবস রজনী তাড়া করে মরীচিকার মায়ায়,
শত অপবাদ কলঙ্ক তার শিরে শোভা পায়।
ফেলে আসা অতীত যখন দিয়ে যায় নাড়া ,
সত্যের কাছে পরাজিত তাই সব ছন্নছাড়া।
মার খায় বাস্তবতা, মনে হয় সবটা অবাস্তব,
মুখ খুলেনি কেউ দাঁড়িয়ে দেখে সত্য নীরব।
শান্তির দূত কপোত গুলো ডানা জাপটায় ,
স্বপ্নবীজ বুনে চলে নতুন ভোরের অপেক্ষায়।

২৩/০৫/২০১৮ইং
নিতাইনগর,হাইলাকান্দি (আসাম-ভারত)




রবিবার, ২০ মে, ২০১৮

প্রতিবেদন


তিনসুকিয়ায় ‘উজান’-এর ভাষা শহিদ দিবস পালন

গত ১৯শে মে’ সন্ধ্যায় স্থানীয় ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড প্রেক্ষাগৃহে এক অনাড়ম্বর, ছিমছাম অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভাষা শহিদ দিবস পালন করল তিনসুকিয়ার ‘উজান সাহিত্য গোষ্ঠী’। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন তথা অস্থায়ী শহিদ বেদী ও ১১ শহিদের প্রতিকৃতিতে পুস্পাঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে শুভারম্ভ হয় এদিনের ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের। এরপর সমবেত উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন ‘উজান’-এর শিল্পীবৃন্দ।
সমবেত সঙ্গীতের পর উজান সাহিত্য গোষ্ঠীর সভাপতি সুজয় কুমার রায় তাঁর নাতিদীর্ঘ ভাষণে বর্তমান অস্থির সময়ে শহিদ দিবস পালনের যাথার্থ্য বর্ণনা করেন। সম্পাদক ভানুভূষণ দাসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর মঞ্চে বক্তৃতা প্রদান করেন এদিনের আমন্ত্রিত বক্তা- তিনসুকিয়া মহিলা মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রবক্তা হিমাংশু বিশ্বাস। শ্রী বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে ১৯শে মে’র তাৎপর্য সহ হাল আমলে ভাষার আগ্রাসন তথা ভাষার বিপন্ন অস্তিত্ত্বের বিশদ ব্যাখ্যা সাবলীল ভাবে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে একটি স্বহস্তে লিখা রচনা পাঠ করে শোনান ১৯৬১র ভাষা আন্দোলনের জীবন্ত প্রত্যক্ষদর্শী নীহারিকা দেবী। অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় তিনি স্মৃতিচারণা করেন সেই অভশপ্ত দিনটির কথা।
এদিনের অনুষ্ঠানে একটি করে প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জিনিয়া চন্দ, দিশানী সরকার, বর্ণালি চৌধুরী, অচিন্ত্য দেব, মিতালি মালাকার, জীবনকৃষ্ণ সরকার ও ডঃ তুহিনা ভট্টাচার্য। তবলা সঙ্গতে ছিলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, হিমাংশু বিশ্বাস ও সুশান্ত চক্রবর্তী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন নমিতা ঘোষ, মুনমুন চৌধুরী ও বনশ্রী দত্তএকটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনান বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
সব শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অনুষ্ঠান সঞ্চালক ত্রিদিব দত্ত।
- - - - - - - - - - - - - - - - -