.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১১

শিলচর গুরুচরণ কলেজের তিন ছাত্র বের করল 'পাগলবনে'

         সূর্যতপ নাথ ,রাজেশ শর্মা,এবং বিশ্বকল্যাণ পুরকায়স্থ - তিন বন্ধু মিলে ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ প্রকাশ করল 'পাগলবনে', জিসি কলেজ শিলচরে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূর্যতপর পিতা তুষার কান্তি নাথ, শিক্ষক অমলেন্দু ভট্টচার্য, এবং সুতপা দত্তদাস।





বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মিত্রা দিদি


'ঝাউ গাছের পাতা, তোমার মিত্রা দিদি ভালতো শিলচরে?' - জয় গোস্বামী










মিত্রা দিদি, তোমাকে নিয়ে কাব্য
লেখেনি কোন পুরুষ কোন দিন।
গলির মোড়ে বাজেনি সম্মিলিত
শীৎকার,  বখাটে ছেলেদের।


তোমাকে দেখতে আসেনি পাত্রপক্ষ,
এসেছিল শুধু মেপে নিতে,
তোমার বুক, চুল, নিতম্ব আর
যাবতীয় সব শারীরিক।


কত বার গেছ তুমি কামরূপ-কামাক্ষা ?
কত বার ছুঁয়েছ তুমি কাম পীঠে সিঁদুর ?
কত বার পাল্টেছ জ্যোতিষি তুমি ?
কত বার করিয়েছ জাদুটোনা ?


কত যুগ  উপবাসী তুমি ঢেলেছ  দুগ্ধ,
সুগঠিত  শিবলিঙ্গে ?


সে খবর জানে শুধু,
একলা রাতের পাশ বালিশ।



মীরা দেব বর্মন একটি তারা, মেঘে ঢাকা !

                                  (লেখাটি বেরিয়েছে আগরতলার সাতকাহনে)
     



নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক
         পায়েলখানি বাজে
মাদল বাজে সেই সংকেত
      কালো মেয়ে নাচে ।
                               পাগলপারা চাঁদের আলো
                                    নাচের তালে মেশে।। ‘

               ‘নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক পায়েল খানি বাজে’ – গানটিতে কালো মেয়ের ,  শ্যামা মায়ের ‘নিটোল পায়ের’ ভাবনা  কোন কবি ভাবতে পারেন সেটা নিয়ে বেশ ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলাম ।কেমন কবি মায়ের পবিত্র পা নিয়ে এমন জাগাতিক কল্পানায় মাততে পারেন। সমস্ত গানের  কথার মধ্যে একটি জাগাতিক মাদকতা।পাগলপারা আবিলতা। romanticism. এমন আধুনিক ভাবনা আমাদের ভক্তিমুলক গানের মধ্যে খুব কমই পাওয়া যায়।এক বন্ধুর  শরনাপন্ন হলাম  ।গান বাজনার যথেষ্ট খবর রাখে ।বলল শচিন কর্তার  স্ত্রী –মীরা দেব বর্মণের হইতে পারে ।মীরা দেব বর্মণ ? গান লিখতেন নাকি? কই সেভাবে ত শুনিনি । কই কখনও তো   সেটা নিয়ে মাতামাতি হয়নি!প্রচার নেই কোনও! তার সমসাময়িক সকল গীতিকারদের কথা বেশ সগৌরবে শোনা যায় । তবে মীরা দেববর্মণের নামটি  ধুলোয় চাপা পড়ে রইল কেন?  প্রছন্ন অগৌরবে? সে যে এক মহা খটকা !!
খুঁজতে খুঁজতে পেলাম  মীরা দেব বর্মণের এক নিকট আত্মীয়ের সরব কথা ,’korta was born genius,but Meera played an important role behind preserving his tunes by weaving them to-gether in notetions.Otherwise most of gems would have been lost.’
             মীরা দেব বর্মণ যে শুধু তাঁর স্বামী শচীন দেব বর্মণের গানের নোটেশন  সংরক্ষনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন তাই নয়। স্বামী ও পুত্রের চরম উৎকর্ষে  পৌঁছে দেয়ার মাপকাঠি  নির্দ্দিষ্ট করেছিলেন । অবশ্যই নিজেকে প্রচারের আলোয় না নিয়ে এসে । থেকেছেন আড়ালে ।অসামান্য সঙ্গীতের বোধ ও শিক্ষা তাঁর ছিল ।তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার ,সঙ্গীতশিল্পী  ও  নৃত্যশিল্পী। প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন ,সেই সঙ্গে যুগের তুলনায় সঠিকভাবে তালিমও পেয়েছিলেন। কেবলমাত্র শচীন দেব বর্মণের স্ত্রী বা রাহুল দেব বর্মণের মা ছিলেন কি তিনি? ‘she was a gem’  শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তুখোড় জ্ঞান সম্পন্ন গায়িকা ,নৃত্যশিল্পী ,রবীন্দ্রসংগীতেও সমান দক্ষতা,গানের কথাকার হিসেবে আধুনিক মনষ্কতা ,শব্দের  ব্যবহার , মাটির কাছাকাছি  থাকার  প্রবনতা,  অবাক হতে হয় ; assistant music director – হিসেবে ও চমক দেয়ার মত সুরের বিভা ছিল তার । শচীন দেব বর্মণের যে গান গুলোর সুরের আবেশে মাতাল হই ও নিয়ত গুন গুন করি—সে গুলোর অনেক সুর ই মীরা  দেববর্মণের সহায়তায় তৈরি হয়েছে ।
               জন্মেছিলেন তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্থানের(এখন বাংলাদেশ) কুমিল্লা জেলায়।  দাদু ও দিদিমার বাড়ীতে জন্ম থেকেই  থাকা পারিবারিক অসুবিধার কারনে। দাদু রায় বাহাদুর কমলনাথ দাশগুপ্ত ছিলেন ঢাকা হাইকোর্ট-এর চিফ জাস্টিস। তারপর কলকাতার সাউথ এন্ডে বসবাস শুরু করেন দাদু দিদিমার সঙ্গে। সেখানে  শুরু হয় পড়াশুনো সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গীত এর তালিম। দাদু দিদিমার বাড়ীতে বিদ্যালয় শিক্ষা ও সঙ্গীত শিক্ষা সমানতালে চলে।দাদু রায় বাহাদুর কমলনাথ  দাশগুপ্ত অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন ।নাতনীর সঙ্গীত শিক্ষার যথেষ্ট আয়োজন করেছিলেন । সঙ্গীত গুরু ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন; কীর্তন ও ঠুমরী শেখেন সঙ্গীতাচার্য ধীরেন্দ্রনাথ দেবের কাছে ;১৯৩০ সালে আনাদি দস্তিদারের কাছে রবীন্দ্র সঙ্গীতের শিক্ষা লাভ করেন এমন কি শান্তিনিকেতনে আমিতা সেনের কাছে নৃত্যচর্চাও করেন ।সঙ্গীতের সকল ক্ষেত্রে সমান পারদর্শিতা  ছিল তার। নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন, সম্পূর্ণ ছিল সুরের জ্ঞান ।
             ১৯৩৭ সালে  এলাহাবাদ মিউজিক কনফারেন্সে তাঁর দেখা হয় শচীন দেব বর্মনের সঙ্গে। তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হন শচীন ।বিয়ে হয় ১৯৩৮ সালে । বয়েসের তাফাত ছিল অনেকটাই ।এ ছাড়া শচীন ছিলেন ত্রিপুরা রাজ পরিবারভুক্ত । তাই আপত্তি উঠেছিল ।ঝড়  উঠেছিল দুই পরিবার থেকেই ।কিন্তু  দুজনেই ছিলেন অনড় ।তাই শুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল সাড়ম্বরে ।শচীনএসেছিলেন ঘোড়ায় চড়ে ,হাতে তারবারি । বসেছিল নহবতখানা, বাজিয়েছিলেন আলি হুশেন খাঁ ।  রাহুলের জন্ম ১৯৩৯ সালের জুন মাসে ।
            বিবাহের বছরেই All  India Radio, kolkata থেকে অডিশন দিয়ে উত্তীর্ণ হলেন।শুরু করলেন পড়াশোনাও।আই এ পরীক্ষায় বসলেন ।কিন্তু সংগীতের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন অনেক আগেই তাই পড়াশোনায় ইতি দিয়ে সঙ্গীতের পথ ধরেই হাঁটলেন। ইতিমধ্যে শচীন দেব বর্মণ তার সঙ্গীতের অভিমুখ বম্বের দিকে নিদ্দির্ষ্ট করলেন ।আর এক নতুন অধ্যায় শুরু হল। বম্বে গিয়ে মীরা দেবী ফয়াজ মহম্মদ খানের কাছে আবার তালিম নিতে শুরু করলেন। সঙ্গীতের পিপাসা ছিল অসীম। নিজেকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস চলছিল নিরন্তর।১৯৪৫ সালে All India Radio,Bombay থেকে অডিশন পাশ করে ঠুংরি ও গজল পরিবেশন করতেন। BOMBAY IPTA-র সংগেও যোগাযোগ ছিল ।বম্বের সাংস্কৃতিক  জগত তখন  প্রগতিশীলতার কেন্দ্র।  সেই সময় দুটি নাটক শান্তি ও নয়া প্রভাতের  গানের কথা রচনা করেন। শচীণ দেব বর্মণের সঙ্গে অনেক গানের রেকর্ডও করেন তিনি –আজ দোল দিল কে~(১৯৪৬),তুম হ বড়ে চিতচোর ~(১৯৪৬),কেন হায় স্বপ্ন ভাঙ্গার আগে~(১৯৪৯),কালি বদরিয়া ছা গয়ে, ডালি ডালি ফুল~(১৯৪৮),কে দিল ঘুম ভাঙ্গায়ে~(১৯৪৯)।                                                      
                          Assistant Music Director হিসেবেও তার বিকাশ ছিল উজ্জ্বল। সেই সময় কজন মহিলা সঙ্গীত পরিচালিকা ছিলেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।  সময় থেকে সব বিষয়েই এগিয়ে ছিলেন তিনি।স্বাকিয়তা ছিল তার সব সৃষ্টির মূল কথা। নয়া জমাণা, তেরে মেরে স্বপ্নে , শর্মিলি ,অভিমান , বারুদ ,প্রেম নগর – এই বিখ্যাত চলচ্চিত্র গুলোর সহযোগী সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি। এই চলচ্চিত্র গুলোর সুরের অভিযান মুখরিত করেছিল সমস্ত শ্রোতাদের । এখনো এগুলো আমাদের কাছে স্বর্ণযুগের গান । মন গাথা সুর সে সব। কিছু কিছু গানের যেমন- ইয়ে দুনিয়া আগর মিল যায়ে তো (রফি,পেয়াসা,১৯৫৭) ,কোই আয়া ধড়কন (আশা ,লাজবন্তী , ১৯৫৮), ওয়াক্ত নে কিয়া ,(গীতা দত্ত,কাগজ কে ফুল ,১৯৫৯) ,উচে সুর মে গায়ে যা, (কিশোর,হাউস নং-৪৪,১৯৫৯),মেরে বৈরাগী ভওমরা, (লতা,ইস্ক পর যোর নেহি,১৯৭০), শুন শুন শুন মেরী (লতা,ছুপা রুস্তম,১৯৭৩)-সুরের মূর্ছনায় আবিষ্ট হয়েছিল মানুষ ।তাঁর কথায় কয়েকটি বিখ্যত বাংলা গান-আজ দোল দিল কে বীণায়, কেন আলেয়ারে বন্ধু ভাবি,বাঁশী তার হাতে দিলাম,ভঙ্গিতে ওর নেশা, বিরহ বড় ভাল লাগে,গানের কলি সুরের দুরিতে,ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা,বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতে, কালসাপ দংশে আমায় ,কে যাস রে ভাটি গাঙ্গ বাইয়া,কি করি আমি কি করি, না আমারে শশী চেয়ো না , নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক, রাধার ভাবে কালা হইল, সে কি আমার দুষমন দুষমন, শোন গো দখিন হাওয়া , তাগডুম তাগডুম বাজে ।
        
          ১৯৭৫ সাল, স্বামীর মৃত্যু পর্যন্ত বম্বের বাড়ি  জেটে বাস  করেছেন।তারপর পুত্র রাহুলের সঙ্গে রাহুলের ভদ্রাসন মেরি ল্যান্ডে।কৃতী পুত্র রাহুল মারা গেলেন ১৯৯৪ সালে। পুত্র ও স্বামীর মৃত্যুর অসম্ভব শোক তাকে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় পৌছে দিল। শেষের সেদিন বড় ভয়ংকর ছিল এই অসামান্য গীতিকার, সুরমালিকার ।কথায় কথায় মালা গেথেছিলেন যিনি,বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর কথা।কেবল SD-র গান শুনলে নড়ে চড়ে উঠতেন।  চেতনার  জগত তার কাছে মুল্য হারিয়েছিল। ভাসির একটি ওল্ড এজ হোমে তার মৃত্যু হয় ২০০৭ সালের,১৫-ই অক্টোবর ।
           একজন এরকম মানুষের শেষের পরিণতি কেনই বা এমন হয় সে এক  বিস্ময়! তার গানের অভিনব ব্যপ্তি ভরিয়ে তুলেছিল কথা ও সুরের জগত।জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শব্দ, সুর ,ব্যঞ্জনা বাঙময় হয়ে উঠেছিল তার সৃষ্টিতে।জীবনমুখী শব্দবন্ধ সেদিন ছিল না,কিন্তু লোকজীবনেরই কথকঠাকুর ছিলেন তিনি।
             বাংলাদেশ  স্বাধীন হওয়ার পর  মাতৃভূমির টানে ছুটে গিয়েছিলেন সেখানে। যখন ফিরছিলেন গ্রামের পুকুর পার দিয়ে, দেখলেন একটি চৌদ্দ –পনের বছরের মেয়ে  পুকুর পারে বসে হাপুশ নয়নে কাঁদছে ।দু চোখে তার জলের ধারা।  জিজ্ঞেস করায় মেয়েটি বলল –সদ্য বিয়ে হয়েছে, ভাই আসবে বাপের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য। সকাল থেকে অপেক্ষা করে করে ক্লান্ত সে, ভাইয়ের আর দেখা নেই। তৈরি হল মন আকুল করা কথা ‘কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া আমার ভাই ধনরে কইও নাইয়র নিত আইয়া’।এমনি ছিল  মাটি দিয়ে তার প্রতিমা গড়া।
                                          শুধু বোঝা গেল না এমন মরমী  শিল্পীর প্রাপ্তির ঘর এত শূন্য কেন? শেষের কটা দিন ই বা কেন এত কষ্টে কাটাতে  হল শব্দসম্রাজ্ঞীকে? একটি পুরস্কারও তার জন্যে বরাদ্দ হল না? আশ্চর্য নীরব চরাচর!
                             “রইল তাহার বানী, রইল ভরা সুরে,রইবে না সে দূরে—“
                                ~~~~~~~~~~ঃঃঃঃ~~~~~~~                             



স্বপ্নসখা



স্বপ্ন  মানে  চলকে হাওয়ায়    বানভাসি
স্বপ্ন  মানে   সূর্যচোখে          চোখরাখি
স্বপ্ন  মানে  চাঁদেরমনের       বাঁধভাঙ্গি
স্বপ্ন মানে   বৃষ্টিসুখে           ঝমঝমি
স্বপ্ন মানে   অজানপথে        দিইপাড়ি
স্বপ্ন মানে   গহীনগাঙ্গে        ডুবমারি
স্বপ্ন  মানে   বিরানপথের      ঘুমকাড়ি
স্বপ্ন মানে   নিদাঘবেলায়      ফুলতুলি
স্বপ্ন মানে   পাহাড়  চড়ে       দুখমাগি
স্বপ্ন মানে    দীর্ঘপথে           চলহাটি
স্বপ্ন  মানে   মনমাঝিতে         বৈঠাবাই
স্বপ্ন মানে    হৃদয়মাঝে         হাতরাখি।



মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

শব্দের সাথে কথোপকথন

 
মৌনতায় দিনগুলো বেশ ভালোই কাটে
মৃত শব্দের মধ্যে শব্দ দিতে দিতে 
নিজেকে ক খনো ক্লান্ত ম নে হয় না।
আসলে 'মৃত মানুষের' চেয়ে মৃত শব্দ ঢের ভালো - 
সাড়া দিলে সাড়া পাওয়া যায়।
আর 'মৃত মানুষগুলো' দিনের প্ র দিন
বছ রের প র ;
এক এক টি যুগ শেষ হয়ে যায়
তবু তাদের মৌনতা ভঙ্গ হয় না। 



সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১

স্বপ্নেরা স্বপ্ন হয়ে গেছে












স্বপ্নগুলো প্রথমে সবুজ রংয়ের হয়
তারপর ধীরে ধীরে এগুলো গাঢ় হতে থাকে
আর সাথে মিশতে থাকে একে একে -
লাল, নীল, হলুদ - হরেক রংয়ের স্বপ্ন।
একদিন সব রং মিশে গিয়ে স্বপ্নগুলো সব কালো হয়ে যায়।

আমার স্বপ্নগুলো সব স্বপ্ন হয়ে গেছে

তাইতো উদয়াস্ত নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি।
                                             
সারাদিন কাজের শেষে সন্ধ্যে বেলায়
যখন স্কুল পালানো ছেলেগুলো খৈনি ডলতে ডলতে আড্ডা দেয়
তখন, আমি শিক্ষিত বেকার ঘরে বসে কবিতা লিখি
আর এমনি করে যৌবনের এক একটি টুকরো ভেঙ্গে পড়ে
ছাঁদ হীন ঘরের দেওয়ালের মতো।




গুয়াহাটিতে বারোমাস বইমেলা


 গুয়াহাটিতে বারোমাস বইমেলা শুরু করল ভিকি পাব্লিশার্স।
  উদ্বোধন করলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।













অকাল বোধন



 
 
 
 
 
 
শীত তখনও তার উদার কপাট খোলেনি
শিশির একটু যা ডানা মেলছিল
বাতাসে শিউলির গন্ধও
.
যৌবনে পা দেয়নি
আকাশে সাদা মেঘের সাথে
মাখামাখি অনশনের;
চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুধু অসুখ
ঘোলাটে চাঁদের উত্তাপও দুর্বিসহ
এরই মাঝে একদিন ' জেগে ' দেখি
রাস্তায় ' ঘুমন্ত ' মানুষের ঢল নেমেছে
চলছে হর্ষোল্লাস।




ফিরে এসো এবার

           

 কাশ ফুলেরা দোলে দোলে কি যেন বলে চলে,
শারদলক্ষ্মী শুনতে কি পাও?
বন দেবীর দ্বারে দ্বারে,
শঙ্খ ধ্বনির গভীর স্বর।
তোমাকে খুঁজে বেড়ায় পথ শিশুর দল ।
খুঁজে বেড়ায় সেই অবুঝ করুণ চোখ ,
যার পিতা মাতা সন্ত্রাসবাদের শিকার।
রক্ত মাখানো রাজপথে ,
শকুনের সমবেত উৎসব।
আসুরিকতা যে আজ চরমে।
কোথায় রয়েছ জগত জননী,
ফিরে এসো এবার।
বিষ বাষ্পে মূমূর্ষু ধরনী, খুঁজে চলে তোমায় ।
খুঁজে চলে সত্যেন্দ্রের দল, সততাই যাদের শত্রু,
মৃত্যুর কারন।
কোথায় রয়েছ মঙ্গলময়ী , ফিরে এসো এবার।
চোখের কোনে কালো মেঘ নিয়ে,
খুঁজে চলে তোমায় নীরদারা।
যাদের মানসম্মান ভূলুণ্ঠিত ,
রক্ত পিপাসুদের অট্টহাসিতে।
অর্ধদগ্ধ অবস্থায় ,
বিছানায় শুয়ে শুয়ে ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ রেখে,
খুঁজে চলে তোমায়, পণ প্রথার বলি অনন্যারা।
কোথায় রয়েছ দনুজদলনী,
ফিরে এসো এবার।
ফিরে এসো এবার মর্তলোকে,
আর বসে থেকো না গিরির অপেক্ষায়,
গিরি- মেনকারা ও যে আজ আশ্রয়হীন,
নাম লিখা হয়ে গেছে কবে ,
বৃদ্ধাশ্রমের সেই আবাসিকদের ঠিকানায়।
সেই স্নেহময়-স্নেহময়ীদের চোখ খুঁজে চলে তোমায়,
কোথায় রয়েছ কল্যানী, ফিরে এসো এবার ।




শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১১

এ রাত্রির শেষ কোথায়











ভোরের কাগজ রক্তাক্ত
সান্ধ্য সংবাদও রক্ত হোলির বিষন্নতায় ভরা।
তবুও.....................
তবুও বর্ষার বিকেল যখন

সোনালী ঝিলিকে শিহরণ জাগায়
আশায় আশায় বুক বাঁধি -
কাল রাত্রির পর
সবুজ, শান্ত, সতেজ একটি পৃথিবীর

কিন্তু.....................
এ রাত্রির যেন ভোর নেই।



প্রিয়মুখ অসহায়,একটি সনেট



প্রিয়মুখ, আদুরে গ্রহটি হাঁটে পথ অসহায়
জন্মলগ্ন থেকে আগুন  হাতে হাত রয়
সারা শরীর ছিন্নভিন্ন টেকটনিক ভয়
ভাসমান মাটিতে ভাসে  মুখ অক্ষয়
নিরবচ্ছিন্ন অনিশ্চিত অনিকেত সময়।
আগুণের পিঠে বসে সেঁকে নেয় গ্রীবা
তরপর,তারপর ,কত  কত চলা বাঙ্ময়
অমোঘ অস্তিত্ত্ব সংকটে  ঢেকে দেয় আভা।

 হঠাৎ হঠাৎ ছায়া পড়ে অভিমানী ঠোঁটে
শরীর মোচড় দেয় ঘন হয় প্রারম্ভিক মান
কম্পনে বহমান শরীর ঝটিতি দুলে ওঠে
হিমবাহ গলে যায় জলে ভরে  হ্রদের উঠান
সহ্যের সীমানায় কাঁটাতার অচিরে ফোটে
মোছা যায় না শুধু জন্ম-লগ্ন-ক্ষণ ,কপাল লিখন।



বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মনিমালা ও পোকা


একটা পোকা ভর করেছে আমার মাথার ভেতর
চিন্তা ভাবনা সব কিছুতে – প্রভাব তার জবর
পোকা আমার সর্বনাশা – পোকা আমার কালো ,
আস্তে আস্তে মুছে দিচ্ছে –আমার যা সব ভাল ।
নিজের ভাল নিজের ভাল- করে করে খেল ,
পোকা আমার চালাক ভীষণ – সব গুঁটিয়ে নিল ।
ছোট পরিবার সুখি পরিবার – পোকার লাগে ভাল ,
সমষ্টিতে অবিশ্বাসী - পোকা খবর দিল ।
সিঁড়ি ভাঙ্গার মন্ত্র দিল – উঠতে হবে উপর ,
কোন বাঁধাই মানবে না- শাসায় পোকা জবর ।
দিনের বেলা খাটুনি – আর রাতে অবসাদ ,
পোকা বলে লেগে থাক- নইলে বরবাদ ।
পোকার থেকে বাঁচিয়ে যাই – যত্নে মনিমালা ,
পোকা এসে কড়া নাড়ে – বাড়ায় ঝামেলা ।
তবু পোকা বলছি তোমায় – হয়নি সব ই শেষ ,
জেগে উঠবে একদিন – আমার অবশেষ ।
ছেড়ে যাব সব কিছু – তোমায় বন্দি করে ,
ঈশানের পুঞ্জ মেঘে – মনিমালা হাত নাড়ে ।




একা মিছিলের পথ

শুরুর  লেখাটি তুলে দিলাম শতদল আচার্যের লেখা কবিতা

যুদ্দ নয় শান্তি চাই
এরকম এক মিছিলের মাঝে
প্রায়ই হেঁটে যাই,কখন
অফিসের যেতে কিংবা ঘরে ফিরতে

একদিন ও মিছিলের মানুষকে দেখিনি
কেবল দেখিছি মিছিল ।

পুরানো শব্দ উচ্চারণে শ্লোগানে
হয়তো মিছিল হেঁটে যায় ।

মিছিল কি মানুষ হয় ?

মিছিল প্রতিদিন আমারই
অন্নের সন্ধানে , আমার একার
হেঁটে যাওয়া ।