Sponsor

.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

Thursday, November 24, 2011

মৌলিক


ভাবছি যখন কেমন করে -করবো যোগাড় খাদ্য,
রাজধানী তে বাজছে তখন – অর্থনীতির বাদ্য ।
কিংফিশার হড়কে গেলে – ধরবে হাত সরকার ,
পেট্রোল , ডিসেল, কেরোসিনে- সাবসিডি র নেই দরকার ।
জিনিষের বাড়বে দাম – কমবে মূল্য টাকার ।
সারের দাম দ্বিগুন হল – সোনার ফসল ছারখার ।
এমনি করে কাটবে দিন – নিত্য নূতন রঙ্গে ।
গণতান্ত্রিক সার্কাস - দিল্লী আর বঙ্গে ।

Sunday, November 20, 2011

ভাগ্যলিপি


(উৎসর্গঃ আমার মত যারা সরকারী চাকুরীর পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরেন তাদের উদ্দেশ্যে।)

বোথ সাইড লেমিনেশন
রেক্সিন বাঁধাই কভার ফাইলে
শায়িত আমার সার্টিফিকেটগুলো
সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা থাকে
বছরের পর বছর ধরে

আর আমি............
আলু থালু চুল, মুখে একরাশ গোঁফদাড়ি
ঘামের দূর্গন্ধে মশা-মাছিরাও পালিয়ে বেড়ায়।
কেউ বলে আমার নাকি মাথায় সিট ধরেছে
কেউ বলে আমি দিন দিন নোংরা হয়ে যাচ্ছি
আমার পেছনের বিশেষণ এভাবেই দিন দিন বদলায়
আমার সার্টিফিকেটগুলোর ফাইলও
সময়ের সাথে ঠিক বদলে যায়
রাস্তার পাগলীটিও নির্দিষ্ট সময়ের অন্তরালে
প্রসব বেদনায় কাতরায়
শুধু আমিই............
শুধু আমার ভাগ্য বদলায় না।







Friday, November 18, 2011

মতি-ঝিল

             মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্ক এমন হয় যেগুলির কোন নাম থাকেনা। অনাকাঙ্খিতভাবে তৈরী হওয়া এই সম্পর্কগুলি টিকিয়ে রাখা যেমন কঠিন তেমনি নষ্ট করাও সহজ হয়না। আবার এই সম্পর্কগুলির কোন নাম দেওয়া বা অন্যরূপ দেওয়াও দুরূহ ব্যাপার| কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো এই সম্পর্কের অবসান মানে জীবনের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা বোঝায় বা বলা যায় মৃত জীবনের এগিয়ে চলা| ঝিলের সাথে মতির সম্পর্কটাও ঠিক তাই|
          প্রায় বছর দুয়েক আগে গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করেছে মতি| বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দাপুটে ফিল্ড অফিসার| স্বভাব-চরিত্র বা সামাজিক কর্ম–কাণ্ডে তার সুনাম সর্বজন বিদিত| কিন্ত মুশকিল হল এই- পৈতৃক সম্পত্তি না থাকার দরুন তার চলমান জীবন ধারায় অনিশ্চয়তার ছায়া দেখে কেউ কেউ তাকে উপযুক্ত মর্যাদা দিতে চায় না| অনেকে তো আবার অবহেলাও করে| তবে মতির মধ্যে সম্ভাবনা প্রচুর, কোনদিন তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না -এই অভিমত গ্রামের জ্ঞানীগুণী যে কয়জনের, তাদের মধ্যে অন্যতম হল অবিনাশদা| তিনিই একদিন মতিকে বলেছিলেন ঝিলের কথা, মানে ঝিল আর মতির বিয়ের কথা|
          ঝিল, মানে ঝিলমিলকে মতি এর আগে দেখেছে মোট একবার এবং একবারই, কথা হয়নি কখনও| তবে ভাল যে লেগেছিল সেকথা বলেছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের| এমনকী আলোচনাও হয়েছিল সন্ধ্যার অড্ডায়। তাই অবিনাশদার কথায় না বলার কোন কারণ ছিলনা তার কাছে। যদিও ঝিলের বাবার সম্পত্তি ও সামাজকি প্রতিপত্তির কথা কিছুটা সে জানত তবু এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামায়নি মতি কারণ প্রস্তাবটা যেহেতু অবিনাশদা রেখেছে। এদিকে ঝিলের বিষয়ে তেমন কিছু জানতে পারেনি মতি তবে মোবাইলে কথা হয়েছিল একবার, মাত্র একবারই, তাও অন্যকারণে। এর পর থেকেই ভাল লাগার ইচ্ছেগুলি ডানা মেলতে শুরু করে মতির মনে। কয়েকবার পথে যাওয়া আসার সময় মুখোমুখি হয়েছিল তারা তবে চোখে চোখ রাখতে পারেনি কেউই কারণ এতদিনে তাদের বিয়ের আলাপের কথা জেনে গিয়েছিল ঝিল, আর মতি ছিল যতেষ্ট সংযমী, সম্ভ্রমও বজায় রেখেছিল যথেষ্ট। তখন থেকেই ঝিলের মনে শ্রদ্ধাবোধ জন্মায় মতির প্রতি আর মুগ্ধতায় মজে মতির মন। নতুন সম্পর্কের বীজ বুনা হয়ে যায় নিজের থেকেই।
          এইভাবে চলতে চলতে একদিন মতির বাইকের চাকা এসে থামল এমন এক পয়েন্টে যেখান থেকে একটি পথ যায় পশ্চিমে ঝিলমিলদের বাড়ির দিকে তো অন্য পথটির প্রশস্তি এত বৃহৎ যে চলে যাওয়া যায় যেকোন দিকে। ঠিক তখন পিছন থেকে অবিনাশদার ডাক- ‌‌‌‌‌‌মতি শোন, ঝিলের কথা মন থেকে বাদ দিয়ে দে। ওরা বোধহয় অন্য পাত্র খোঁজছে।
             ...সামনে থেকে একটি বড় গাড়ী আসছে। তাকে পথ করে দিতে সরতে হবে মতিকে। বাঁ পায়ে গিয়ার বদল করে ডান হাতে এক্সিলেটর দাবায় মতি শুধু একবার এবং মাত্র একবারই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় পশ্চিমে।

আমি ভিন দেশী নই


জও আমি খুঁজি
বরাক-কুশিয়ারার জলে
আমার পূর্বজদের যে লাশগুলি
ব্রিটিশরা ভাসিয়েছিল সাতচল্লিশের আগে
তাদের অস্থি-র অবশিষ্টাংশ কোথাও যদি মিলে
তুলেদিতাম স্বঘোষিত ভূমিপুত্রদের হাতে
আধুনিকতম পরীক্ষায় প্রমাণ হত
আমি ভিন দেশী নই
বেড়ে উঠেছি এই বরাকেরই কোলে |

মনিমালার শরিক


(মনিমালা -১৬)




কেউ কেউ খুব একা
পায়নি সাথির দেখা
পথ চলতে ।
কেউ কেউ খুব বোকা
বুদ্ধি বড় ফাঁকা
নেভা সলতে ।
কেউ কেউ খুব চালাক
সব কিছু তে সবাক
কথা বার্তায়।

কেউ কেউ খুব রাগী
মেজাজ হারানো দাগী
খুব সস্তায় ।
কেউ কেউ খুব অলস
হারিয়েছেন সাহস
সন্দেহে ।
কেউ কেউ অভিমানী
বৃথাই হয়রানি
বিরহে ।
কেউ কেউ খুব ভাল
স্বপ্নেরই আলো
মননে ।
আমি শুধু প্রেমিক
মনিমালার শরিক
জীবনে ।

নবান্নের ঘ্রাণ

 

ৎসব সমারোহ শেষ ,চোখ পলক না
      ফেলতেই সবুজের আসমান হেমন্তের মাঠ ,
  যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজের সুখ মাখা,
     হাত ধরে ছুটে চলা--আবার থামলেই মাঠে
সূর্যমুখী ফরমান,মাঠে তাঁত বোনে কে,
সবুজের জমিন পালটে হৈমন্তি আঁচলে
ক্ষেত মন বুটি,তিলে তিলে জেগে ওঠে
 প্রাণ, মাঠ ভরে দুধ আসে ধানের বুকে,
সময়ের হাত ধরে শূন্য হয় মাঠ ,ধান
প্রাণ পেয়ে ভরে দেয় কৃষকের উঠান ,
  সবুজ সোনার ক্ষণ, নববঁধূ নবান্ন চন্দন
  ফোঁটায়, পা রাখে দুধ আলতায় গৃহস্থের
       আঙ্গিনায়। নবান্নের ঘ্রান ,প্রান পায় আহ্লাদি, 
সোহাগি অঘ্রান ।
                                      

Monday, November 14, 2011

ম নী ষা -২৮


(প্রিয়তমার উদ্দেশ্য একটা গদ্য )
 




 

তকাল কেবল তোমাকে নিয়ে
বিষাদের কবিতা লিখছি ।
এখন তোমার আনাগোনার সাথে সাথে
পাল্টে যাচ্ছে আমার বাচন
সকালবেলার তোমার ভাল থাকার ম্যাসেজ
ভাবনার অন্য আকাশে নিয়ে যায় ।
মনীষা পাল্টে যাচ্ছে সময় -শরীর
ঊল্টপাল্টা ভাবনা ।
এখন আমার স্বপ্নে স্বপ্নে তোমার ছবি
নিদান পক্ষে দুপুর বেলা তোমার একটা ফোন ।
এভাবে চলছে দিনের পর দিন
এসব হিসাব হীন সময়ে এগিয়ে আছি ।
তোমার সাথে দীর্ঘ দিন ছুটাছুটি ।
এবার কেবল প্রার্থনা বিরতির ।

Sunday, November 13, 2011

মনীষা -২৫






তুন বন্ধুরা লিখ আজ , জীবন ভোরের গান
এখন সময় তোমার আমার , লিখ রাখ ---
সব ইতিহাস ----
এইখানে সব প্রেম
শীতের কুয়াশা হয়ে নামবে
পাতার শিশিরে গুনব
তোমার ভালবাসার বিন্দু

মনীষা
এখন ঘুমায় মধ্যরাত
ভোর হয়ে যাবে সময়
সকালে আবার দেখা হবে।

শিশু দিবস হোক শিশুদের স্বাধীনতার দিন, মুক্তির দিন

ছেলেবেলা ভাবতাম, বড়রা বোধহয় দুষ্টুমি করে না, মিথ্যে বলে না, মারামারি করে না। তা নাহলে তারা এতো শাসন করবেন কেন? এখন বড়হয়ে দেখি বড়দের মতো বজ্জাত, নিষ্ঠুর, মিথ্যেবাদি প্রজাতি এই মানব সভ্যতার  কলঙ্ক! লজ্জা! আমি তাই আমার মেয়েকে শাসন করিনা। কেউ করছে দেখলে আমার পিত্তি জ্বলে! বড়দের বদমায়েসির একটা সীমা থাকা চাই। শিশু দিবস হোক শিশুদের স্বাধীনতার দিন, মুক্তির দিন। এই পৃথিবী হয়ে উঠুক 'বড়দের শয়তানি মুক্ত' নবজাতকের বাসযোগ্য ভূমি।

Saturday, November 12, 2011

ভালবাসার একটুকু ছোঁয়া পেতে










 মি বুঝিনা
ভালবাসা এত সুন্দর কিনা
ঐশ্বরীয় কোন কাজ
না মোক্ষ লাভের পথ, নাকি
প্রাত্যহিক জীবনের কোন তুচ্ছ ব্যাপার।
তবু মাঝে মাঝে
দমকা হাওয়ায় ঝরা পাতাগুলো
কারো সমাধি থেকে সরে গেলে, মনে হয়
চিরকালের জন্য কেউ বুক পেতে আছে
ভালবাসার একটুকু ছোঁয়া পেতে।

গণতন্ত্র









জিনিষের দাম বাঁড়ছে বলে
কাঁদছে যে সব কুমীর ,
তাঁদেরই বাড়ছে টাকা
হচ্ছে তারা আমীর ।
তুমি আমি খবর দেখি
পড়ি শুধু প্রবন্ধ ,
বাজারেতে ঘুরে বেড়ায় ,
মুণ্ডু হীন কবন্ধ ।
জানার চেষ্টা বামপন্থী
বন্ধ করি চোখ ,
গনতান্ত্রিক মহাভোজে ,
বেঁচে থাকার দুখ ।

ফেসবুক আপনার রাজধানী এক্সপ্রেস হতে পারে, বাসাবাড়ি নয়।

               মার মায়ের বহুদিনের অভ্যেস ছিল কাপড় ধুবার জন্যে সার্ফ ব্যবহার করা। পরে যখন অন্য ডিটারজেন্ট আসতে শুরু করল,তিনি সার্ফ বলা ছাড়েন নি। আমার মা এবং স্ত্রী টুথপেষ্ট দেখলেই বলেন কলগেট। তা সে আমার প্রিয় ব্রাণ্ড ডাবর লাল দন্তমঞ্জনকেও। এবারে দেখুন অসমের একটি ছোট কাগজে ই-মেইল না লিখে লেখা হয়েছে ফেসবুক। এটা হাসির বিষয় নয়। এটি ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বোঝায় বটে। কিন্তু আমরা যারা চাই অসমের বাংলা সাহিত্য- সংস্কৃতি, বাঙালি বৌদ্ধিক চর্চা  একটা মুক্ত আকাশ হাতে পাক তখন ইন্টারনেট আমাদের প্রবল সুযোগ এনে দিয়েছে। একে আমরা অন্তত জাষ্ট ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে নিতে পারিনা। আর কেবল মাত্র ক'টি লাইকের (Like) মোহে ফেসবুক পাগল হয়ে থাকতে পারি না। কেননা মনে রাখবেন ফেসবুক আপনার রাজধানী এক্সপ্রেস হতে পারে, বাসাবাড়ি নয়। এখানে পাঁচদিন পরেও আপনার কোনো লেখা টিকে থাকে না, থাকলেও খোঁজ মেলে না। আমাদের সন্ধান করা উচিত কোথায় আমাদের লেখা সংরক্ষিত থাকে। আর যখন তখন যাকে তাকে সেগুলো পড়ানো যায়, বা সেগুলোকে ভবিষ্যতের কোনো প্রসঙ্গে ব্যবহার করা যায়। আমার মতে সে জায়গা ব্লগ, ওয়েবসাইট। আর তার জন্যে আমাদের মেইলের ব্যবহার থেকে শুরু করে আরো বহু কিছু শিখে নিতে হবে।  ভাবুনতো, যদি আজ শতদলের (আচার্য)  মনিষা-১ পড়তে চাই, তবে কোথায় পাই?  ইন্টারনেটের নিজের এক বিশাল সৃষ্টিশীল জায়গা আছে , সেগুলো  আমাদের জানতে হবে জানাতে হবে। যেমন মনোবৃত্তি নিয়ে এগুচ্ছেন আমাদের বাংলাদেশের বন্ধুরা কিম্বা অসমিয়া বন্ধুরা! উপরের ছবিতে ফেসবুক কেবল 'অজ্ঞতা' মাত্র নয়, একটা ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। মানে ওরা মেইলের ব্যবহারটুকুও জানেন না। কিন্তু দেখাতে চাইছেন, ওদেরও সেরকম অত্যাধুনিক ব্যাপার একটা রয়েছে! না জানা অপরাধ নয়। কিন্তু জানার অনিচ্ছে, আমাদের পথের সামনে বিশাল পাহাড় বসিয়ে রেখেছে। এ আমাদের বৌদ্ধিক জড়তার নিদর্শন মাত্র। এভাবেই কি পিছিয়ে থাকব আমরা?   

Sunday, November 6, 2011

যাযাবরের সম্মানে ও স্মরণে















যাযাবর :

চন্দ্রানী পুরকায়স্থ পিংকি

আবার সূর্যাস্তের মুখোমুখি
,
বরাক- লুইতের ঢেউয়ে ঢেউয়ে তারই ছায়া।

সমন্বয়ের সুতোর বিচ্ছুরণ ।
 
মানুষ মানুষের জন্য বলে ডেকে উঠা,

সেই সুধাকণ্ঠ,আজ চিরশান্ত ।
 
মহেশ, গফুর, আমিনা,
 
অসহায় দৃষ্টি তে আকাশ পানে তাকায়,

 তাদের হয়ে কথা বলা কণ্ঠ ,

আজ ইতিহাসের এক অধ্যায়।

তবে চাতকের চোখে আজও ভাসা ভাসা আশা,

হয়তো মেঘ হয়ে ঝরে পড়বে সেই কণ্ঠ,জীবনের খরায়।

গঙ্গা-পদ্মা-লুইতের জলে তারই আহ্বান,

গঙ্গা- পদ্মা দুই মায়েরই অশ্রুধারায়,

হারানোর আকুলতা।

পথের টানে পথকেই ঘর করা
,
যাযাবর আজ অনন্ত যাত্রা পথে।

তবে, তার পদচিহ্ন রয়ে গেছে মানুষের অন্তরে অন্তরে।




সর্বহারা



নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
পান্তা আনতে নুন,
সাত চড়ে তে রা কাড়ে না
এমনি তাদের গুন ।
তাদের জন্য দলবাজি
তাদের জন্য ভোট ,
তাদের জন্য বুদ্ধিজীবি র
রাজনৈতিক জোট ।
দেশে জ্বলে হাজার আলো
মার্কেটিং এর ফানুস ,
অন্ধকারে ঘুমোয় তারা
গণতান্ত্রিক মানুষ ।

Wednesday, November 2, 2011

অসমের বাঙালির রাজনীতিঃ বহমান বয়ান স্রোতে খানিক অবগাহন


         (লেখাটা সম্প্রতি 'একা এবং কয়েকজনে'র শারদ সংখ্যাতেপ্রকাশিত হয়েছে।)
         দেশজুড়ে চারদিকে যখন অরাজনৈতিকতার জোয়ার, মানুষ ব্যাপক এবং বিশাল গণআন্দোলনে যোগ দিতে দিতে জানান দিচ্ছেন যে তারা রাজনীতি করছেন না, তখন একটি কাগজ অসমের বাঙালির রাজনৈতিক ভাবনাএরকম একটা বিষয় বেছে নেয়াতে মনেই হয় তারা স্রোতের বিরুদ্ধে পা ফেলতে চাইছেন। কিন্তু স্রোতের বিরুদ্ধেও একটা স্রোত রয়েছে--- বলিউড পরিচালকেরাও প্রায়ই উচ্চারণ করে থাকেন জরা হটকেবাঙালির রাজনৈতিক ভাবনা নিয়েও কিন্তু এই জরা হটকেরবড় জটিল জাল ছড়ানো রয়েছে । একে রাজনীতি’, তায় এই জাল’—কথা বলতে বেশ ভয় করেই বটে। তথাপি স্রোতেতো লাশ ভেসে যায়, বিরুদ্ধে দাঁড়ালে অন্তত বোঝা যায় প্রাণটি টিকে আছে। তাই পরিকল্পকেরা ধন্যবাদার্হ ।
মুস্কিল হচ্ছে, অসমের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই নিয়ে কথা বলতে গেলে খড়কুটো যত সাহায্য করে, তৈরি নৌকো ততটা মোটেও নয়। অর্থাৎ, চর্চা এতো অল্প যে দুমলাটের বাঁধা বইয়ে পূর্বসূরি পণ্ডিতদের বাড়ানো হাতের সন্ধান খুব অল্প মেলে। অবশ্যি জ্ঞানার্জনে বই পত্তরই একমাত্র সাহায্য করেএই বিশ্বাস এই লেখকের বহু আগেই উড়ে গেছে । তার বাস্তব কারণ বোধ করি এই যে অসমের অসমিয়া ভিন্ন বাঙালি বা অন্যান্য জনগোষ্ঠী নিয়ে বইয়ের সংখ্যা যেমন অপ্রতুল, যেগুলো আছে সেগুলোও কোনো বই বাজারে সাজানো গুছানো করে পাওয়া বড় কঠিন কাজ। শিলচর গুয়াহাটির মতো নগরে যদিও বা কিছু সুবিধে রয়েছে, অন্যান্য শহরে বা গাঁয়ে তাও নেই বিশেষ। সুতরাং আমার বিশ্বাস সেই মাও-ৎসে-তুঙে। জনগণের কাছে যাও, জনগণের থেকে শেখো, জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দাও। এই না করে যত আলাপই করি না কেন, সবই শেষ বিচারে প্রলাপ হতে বাধ্য।
সুজিৎ চৌধুরী সম্ভবত এই সমস্যাগুলো খুব করে অনুভব করতেন, তাই তিনি একটা কথা বারে বারে লিখতেন, শূন্য স্লেটে দাগ কেটেযাবার কথাস্লেটশব্দটা এর জন্যে কি ব্যবহার করতেন , ইচ্ছে করলেই মুছে নতুন দাগ দেয়া যাবে বলে? হবেও বা! আমিও ওই দাগ কেটে যাবার বেশি কিছু করতে পারব বলে মনে হয় না, তা হবে তাঁর মত বিদগ্ধ জনের থেকে অনেক খাটো। তর্ক উঠতেই পারে, তিনি বা তাঁর মতো অনেকে, যেমন অমলেন্দু গুহ বা আরো অনেকে যাদের নামের তালিকা খুব একটা খাটো হবে না, যেটুকু দাগ কেটে গেছেন আমরা কি ওখান থেকে শুরু করব? না তাঁর সমান্তরালে? এইখানে, আমি কিছু শিবের গীত গাইব। কথা যখন স্রোত নিয়েই শুরু হচ্ছিল, সেতো সরল রেখাতে এগোয় না। আমাদের জ্ঞান সরল রেখাতে এগোয়এই বিশ্বাস হচ্ছে আমাদের সব বিশ্বাসের বাড়া । ষোড়শকোনের একটা বইয়ের মধ্যে তাঁকে আবার স্থায়ীভাবে বেঁধে ফেলা যায় এটা আমার কাছে কেমন ঈশ্বরের বিশ্বাসের মতোই অসম্ভব এক বিশ্বাস বলেই মনে হয়। সুতরাং ফাঁক এবং ফাঁকি আমাতেও থাকবেই এবারে, নাস্তিক মন্দিরে পা ফেলতে বাধ্য হলেই যেমন দুরু দুরু বুকে বড় সতর্ক হয়ে যায়, আমার কাছেও বিদ্বজ্জন সমাবেশ তেমনি বড় এক আতঙ্কের বিষয়, তা কোনো সেমিনারেই কথা বলাই হোক , কিম্বা লিটিল মেগে গদ্য লেখা। এই কথাটা আমি আত্মরক্ষার্থে লিখছি মাত্র, কারো বিশ্বাসের সম্মানহানি করা আমার উদ্দেশ্য নয় মোটেও। কেন, কথাটা খুলে বলি। আজকাল ডিকন্সট্রাকশনের কথা হচ্ছে, ‘লেখকের মৃত্যুঘোষিত হয়ে গেছে। আমার কথাগুলোতে সেরকম কিছু কিছু ইঙ্গিত আপনারা পেয়ে থাকবেন। আমি ওই সব ফরাসি পণ্ডিতদের ভক্তও নই। কারণ ওদেশে ঢেউ উঠল তো এখানে এই দেশে হাওয়া বইলএও একরম অপ্রাকৃতিক এবং একরৈখিক জ্ঞানের ধারণা। আলোও শেষ বিচারে সেরকম আচরণ করে না, জল কিম্বা হাওয়াতো মোটেও নয়। এরা, দেখতেই দেখা যায় বড় বিশৃঙ্খল, কিন্তু শেষে গিয়ে ওদেরকেও একটা শৃঙ্খলা না মেনে নিলে কাজ চলে না। কথা হচ্ছে, আপনি কখন, কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন আর কোন দিকে তাকাচ্ছেন। সেই আপনিহতে পারেন ব্যক্তি কিম্বা সমাজ, অঞ্চল, জাতি, ধর্মীয় সম্প্রদায়, বর্ণ, প্রদেশ, রাষ্ট্র, লিঙ্গ ইত্যাদি যা কিছু অগুনতি পরিচিতি আপনি ধারণ করেন তার সম্মিলিত প্রতিনিধিও। মানুষ যখন কথা বলে, কিম্বা কাজ করে তখন সে কেবল একা করে না, তার সঙ্গে করে তার সমগ্র সমাজের স্মৃতি-সত্তা-স্বপ্ন, সে যখন খুবই ব্যক্তিকেন্দ্রিক তখনো
এবারে আমি মোটামোটি আমার কথা বলবার মতো জায়গাতে এসে গেছি। আমিও যে মাওয়ের নির্দেশে জনগণের থেকে শিখে এসে বলছি তা নয়। তবে জনগণের একটা বিশাল অংশ আজকাল কথা বলেন দৈনিক কাগজে । আরেকটা বিশাল অংশ সেখানে বলেনও না । প্রতাপের নিচে ঢাকা পড়ে যাওয়া সেই নীরবতাগুলোও কান পাতলে খানিকটা শোনা যায় বটে, কিন্তু না শোনা অংশটাই বেশি। এই সীমাবদ্ধতার কথা শুরুতেই জানিয়ে নিই। বস্তুত, অসমে বাংলা সংবাদপত্র এবং বৈদ্যুতিন মাধ্যমের প্রচার প্রসার সাম্প্রতিক কালে বাঙালির রাজনৈতিক ভাবনার জগতে এক নতুন মাত্রা নিয়ে এসছে। কেবল এই নিয়েই একটা নিবন্ধ দাঁড় করানো যায়।
প্রসঙ্গঃ অসমের দুই উপত্যকা এবং বাঙালি...............

আরো পড়তে পারেন

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...