.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০১২

ধামাইল ~~নন্দিতা ও সখীরা





গোলাপ






হাঁড় কাপানো শীতে
ফুটে উঠে
গোলাপ|
গোলাপে
মুখ রেখে
খোঁজ পেলাম
জোত্‍স্না|
আকাশের দিকে দৃষ্টি দিয়ে
দেখলাম তোমাকে
শুধু তোমাকে|

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মূল অসমিয়া :
গোলাপ

হিম চেঁচা শীততো
ফুলি উঠে
গোলাপ|
গোলাপত
মুখ থৈ
বিচাৰি পালো
জোনাক|
আকাশলৈ চাই দেখিলো
তোমাক
মাথো তোমাক...
___________________
মূল অসমিয়া এবং বাংলা অনুবাদ দুইই ঃ মনোহৰ দত্ত





ত্যাগপত্র ।।

 ( বি অনির্বাণ ধরিত্রীপুত্র বাংলাসাহিত্যের একজন অগ্রগণ্য কবি। অনুবর্তন বলে একটি কাগজের সম্পাদনার সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবল নিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত। তার পরেও যখন এমন কবিতা লেখেন তখন তা নিশ্চয় কোনো গূঢ় বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে। সেই কথা ভেবেই মনে হলো এটি সংরক্ষণ যোগ্য এবং আরো বহু পাঠককে পড়ানোর মতো কবিতা । এই নিয়ে একটা ফেসবুক আড্ডা ,যেখানে আমি , দেবাশিস তরফদারও যোগ দিয়েছিলাম , এখানে পড়তে পাবেন হয়তো )

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 ...মূর্খের, পাণ্ডিত্য, সীমাহীন--
ই ত, লিট্‌ল্‌ ম্যাগাজিন,

একালের! --আমাকে পত্রিকা
প্রেরিয়ো না, অয়ি সম্পাদিকা;

ওহে সম্পাদক! --মন-বড়া
নিজেরাই ভাজ’, খাও! --কড়া,

ফুটন্ত, করুক ধ্বনি-- শোঁ-শোঁ!
কারও নাহি অবকাশ, ‘রোসো

বলিবার মত, কেহ নাই--
তবু শ্রেয়, সে-একাকিতাই!

বঙ্গাক্ষরে, অবঙ্গীয় পত্র
পড়িবার চেয়ে! --অন্নসত্র

লুপ্ত যদি, বরং উপাসী
রহিব-- কদন্ন ওই, বাসী--

ভক্ষিব না! --মূর্খের পাণ্ডিত্যে
খর্খরিতে, দিব না, এ-চিত্তে!
   


"বড় দুঃখে, হে লিট্‌ল্‌ ম্যাগ-- 
করিনু সম্পর্ক, বন্ধু, ত্যাগ... ..."

 
ইতি ১৫ই মাঘ, ১৪১৮ ।।




শনিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১২

অপার বাঙলার জন্যে

পার বাঙলার জন্যে,  ছোট্ট একটি প্রয়াস,আমার তৈরি ছোট্ট একটি ভিডিও ," রেইনি ডে " গানটির সাথে।




শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০১২

আপাতত, বাঙালি ঐক্যের সমস্যাটা বলি আবার।

 ( এই লেখাটি  'বন্ধ হোক সব বঞ্চনা, আমরাও চাই উন্নত বরাক' নামের এক ফেসবুকে গ্রুপে আমাদের চারজনের আড্ডাতে করা আমার এক মন্তব্যের সম্পাদিত রূপ। আড্ডা হচ্ছিল আমার, Shekhar,Hilal এবং Shovon মধ্যেই)
                রাকের বন্ধুরা আছেন এমন কোনো গ্রুপে এমন চিন্তা উদ্রেককারী আলোচনা খুব কম হয়। তাই এই আড্ডাটা আমার মাথাতে ঘুরছিল। দেখলাম, আমি কিছু কিছু বিষয় সত্যি আগে দেখিনি। যেমন Shekharদেব শুরুতেই বরাক আর ব্রহ্মপুত্রের বাস্তবতাকে মনে রেখেই ঐক্য সূত্র খোঁজতে গেছিলেন। এটা আগে আমার চোখে পড়েনি। তাঁর শেষ দিকের মন্তব্যের সূত্রে আবার পড়ে পেলাম। আমাদের এই আড্ডাতেই দেখা গেল যে Hilalভাষা ঐক্যের পক্ষে বলছিলেন, কিন্তু তাঁকেই আবার মুসলমান মর্যাদার পক্ষেই দাঁড়াতে হলো। আমাকে এবং Shekharবাবুকেতো বটেই। Shovonনিশ্চয়ই গভীরে না ভেবে আলটপকা মন্তব্য করে না। কিন্তু এটা বোঝা যায় যে মুসলমানদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা নিয়ে তাঁর অনুসন্ধান নেই। আমি আমার বক্তব্যের পক্ষে পরে নথি দিচ্ছি। আপাতত, বাঙালি ঐক্যের সমস্যাটা বলি আবার।                
             এই যে বৈচিত্রগুলো, সেগুলোর প্রতি যদি শ্রদ্ধা নিয়ে কৌতুহল বাড়ানো যায় এবং আমাদের সবার পুরোনো সমস্ত চিন্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে যাচাই করি, এবং অবশ্যি সেই লক্ষ্যে এক প্রবল আশাবাদ পোষণ করি তবে একটা সূত্র মিলতে পারে। আমি ভালো জানি না সেটি কী? কিন্তু মিলতে পারে। বৈচিত্র আর বিরোধের যে দুটো আন্তসম্পর্কিত কিন্তু আলাদা বস্তু-- এই সত্য মনে রাখতে হবে, এটা আপাতত বলতে পারি। এবারে আবার আসি শোভনের কথাতে। এমন কথাতে যেকোনো লোকই আপত্তি করবেন , কেউ মুসলমান হলে করবেনই,"why does it happen with a particular community only? Why not with the other minority religious groups?"
  আপত্তি করবেন, কারণ এটা সত্য নয়। ভারতে
পার্শি বাদ দিয়ে কোনো  ধর্মীয় সংখ্যালঘুই ভালো নেই। বস্তুত আর্থিক এবং সামাজিক ভাবে খৃষ্টান এবং বৌদ্ধরা সবচে' পশ্চাদপদ অবস্থানে রয়েছেন। এমন কি আর্থিক ভাবে সবল এক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীও যে সামাজিক ভাবে নিরাপত্তা এবং মর্যাদাহীন অবস্থাতে পৌঁছে যেতে পারেন, সেটি আমরা আশির দশকে শিখদের বেলা দেখেছি। আর মুসলমানমাত্রকেই  যখন তখন 'পাকিস্তানের চর' বা 'দেশদ্রোহী'  ভাবা হয় তখন কোনো মুসলমানই অন্যের সম্পর্কে স্বচ্ছন্দ বোধ করে না। আরেকটা কথা, দরিদ্র লোকেরা ধর্মকে আকড়ে ধরবেই , এমন কি বাস্তবে সবচে' অধার্মিক কাজেও তাদেরকেই বেশি পাওয়া যাবে। এই সত্য বহু হিন্দু মধ্যবিত্ত জেনে বুঝেও অনেক সময় বোঝেন না। সম্প্রতি অরিজিত চৌধুরী যুগশঙ্খে নিবন্ধ লিখে প্রশ্ন তুলেছেন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের লোকেরাই কেন বরাকে এতো অসামাজিক কাজ করছেন? তিনি মুহিব মজুমদারের উপর আক্রমণ, ভাঙাতে দোকান বাড়ি জ্বালানো ইত্যাদি প্রসঙ্গ টেনেছেন। নিত্য যারা অসম্মানের পরিবেশে থাকেন তারা 'ভদ্রলোকে'র মতো সর্বত্র ভারসাম্য রাখবেন কী করে? আমেরিকাতেও দেখা যাবে নিগ্রোরাই সবচে বেশি সামাজিক অসাম্যের শিকার, আবার কোনো নিগ্রো পাড়াতে চোর ছ্যেচ্ছড়ের হাত থেকে গা বাঁচানো যাবে না। 'ভদ্রলোকে'রা কোটি কোটি টাকা সুইস বেঙ্কে রাখেন, টেক্স ফাঁকি দেন, জেলে গেলেও নক্ষত্রের সম্মান পান। কৃষকেরা চুরি করে , ডাকাতি করে এবং জেলে পচেন। ভারতের যেকোনো জেলে গেলে দেখা যাবে সেখানে পচছেন মুসলমান , খৃষ্টান এই সব ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মানুষ , এবং অবশ্যই দলিত জনজাতির মানুষেরা। আমার একবার জেলবাসের সৌভাগ্য হয়েছিল, আর শিক্ষক জীবনে অন্য কাজেও জেলে গেছি। দেখেছি।
            এবারে আসি, বাংলাদেশে বা পকিস্তানে সংখালঘুরা কেমন আছেন-- সেই প্রশ্নে মুসলমানদের বিশেষ করে,বা তাদের সমর্থণে যারা বলবেন তাদের সাফাই দিতে হয় কেন? ওগুলোতো বিদেশ। দিতে হয় এর জন্যে যে ঐ দুটো প্রতিবেশি দেশের নজির দিয়ে দেখাবার প্রয়াস হয়, দেখো মুসলমানরা নিজেরা সুযোগ পেলে অন্যের প্রতি কেমন করে? সুতরাং এই কৈফিয়ত এই দেশের মুসলমানদের আত্মমর্যাদার স্বার্থেই দিতে হয়। জীবনে উন্নতির জন্যেও আত্মমর্যাদা বোধটা খুব জরুরি। কেননা এটি এক ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসও দেয়। ভারতে ইমামরা মুসলমানদের কী বিপদ ঘটাচ্ছে এই নিয়ে খুব তর্ক করা হয়, কিন্তু এরা যে 'ভুল পথে' হলেও সেই আত্মমর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাস সুরক্ষার কাজ করেন সেই সত্য গোপন করা হয়। আজকাল বদরুদ্দীন আজমল এই লক্ষ্যে রীতিমত খৃষ্টান মিশনারীদের মতো ব্যাপক কাজ করছেন। তাঁর এই সব কাজে বহু হিন্দু দরিদ্রজনও লাভান্বিত হচ্ছেন। এই নিয়েও দুটো ভালো লথা কাগজে খুব কম লেখা হয়। নিত্যদিন 'ইমাম' বিরোধী হিন্দু আস্তিক বা নাস্তিকেরা যা আজেবাজে লিখে মুসলমানদের সেই মর্যাদাবোধ এবং আত্মবিশ্বাসের জায়গাকে তলানিতে ঠেকিয়ে দেন, এবং তাতে 'অর্থনীতি বহুভূর্ত' ভাবে সস্তা শ্রমিক পেতে , রাজনৈতিকভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব বহাল রাখতে এই সব 'সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী হিন্দু'দের সুবিধে হয় এই নিয়ে ভাবনাচিন্তাই খুব কম , লেখা লেখিতো আরো কম। যে লিখবে তার চৌদ্দ গোষ্ঠীর শ্রাদ্ধ হবে। 
           এবারে, যতটা বলা হয়, সত্যি কি মুসলমান প্রধান দেশ গুলোতে সংখ্যালঘুদের অবস্থা খুব খারাপ? সব দেশেই কি? তবে দুবাই সহ, মধ্য এশিয়ার বহু দেশে ভারতীয় হিন্দুরা দলে দলে যান কী করতে? আফগানিস্তানের সংগে ভারতের এতো প্রেম কিসের। ঐ দেশতো ধর্মনিরপেক্ষে বলে এখনো নিজেকে ঘোষণা করে নি। হ্যা, অধিকারের অসাম্য আছে, আছে মর্যাদারও। যেমন আছে ভারতে। পাকিস্তানে বা বাংলাদেশে যদি হিন্দু লোক রাজনীতি, ব্যবসাতে তেমন উন্নতি করতে পারেন নি, তবে বিপরীতে এটাওতো ঠিক ওদের দেশে গুজরাট, ভাগলপুর, নেলীও হয় নি। সুতরাং বলতে গেলে বিরুদ্ধে, সব দেশের বিরুদ্ধেই বলা যাবে। ভারতে মুসলমানদের সংরক্ষণ দিয়ে দিলে ধর্মনিরপেক্ষতা গেল কোথায় এই প্রশ্ন তোলা হয়। কিন্তু এই প্রশ্ন যারা করে----, ১৯৯২র মুম্বাই দাঙ্গার , ১৯৮৩র নেলি দাঙ্গার কোনো বিচার হয় না কেন? ১৯৯৪র মুম্বাই বোম ব্লাস্টের অপরাধী ধরা পড়ে জেলেও যায়, কিন্তু যার প্রতিক্রিয়াতে এই সব হয় সেই বাবরি ভাঙ্গার নায়করা এতো সম্মানের সঙ্গে বুক ফুলিয়ে ঘুরে কী করে?  এই সব প্রশ্নের উত্তরটা কী? সে যাই হোক, আপনি যে পক্ষেই থাকুন, একটি কথাতো সত্যি যে ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নাতীত নয়। তবে এই প্রশ্ন করবার মানেই বা কী যে একটিও মুসলমান দেশ নেই যেগুলো ধর্ম নিরপেক্ষ। আবার এও সত্য নয়, যেসব মুসলমান প্রধান দেশ ঘোষিত ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ তাদের রাষ্ট্রনায়কদের একনায়ক বলে যখন মিছেমিছিই আমেরিকা প্রায় নৃশংসভাবে হত্যা করে তখন আবার আমরা নিজেদের গনতন্ত্রের বড়াই করে আহ্লদাদে মেতে উঠি। ইরাকে বা লিবিয়াতে যা হলো। মুসলমান যাবেতো যাবে কোথায়?
             এই প্রশ্নও কি মাথাতে আসেন না, যে মুসলমানদের প্রতি আল্লাই বড় অবিচার করে গেছেন! কী মুস্কিল! ভারত ছাড়া প্রায় সমস্ত মুসলমান প্রধান দেশে তিনি তেল দিয়ে গেছেন। ইন্দনেশিয়া মালোশিয়াতেও। আর একটা দেশ থেকে সামন্তবাদ বিদায় নেবে কিনা সেটি সিদ্ধান্ত নেবার দায়, ইউরোপ বাদ দিলে আর কোনো এশিয়, আফ্রিকী দেশগুলোর নিজেদের হাতে ছিল না। ভারতেও নয়। ভারতেও সামন্তবাদ টিকে আছে। আর তেলপ্রধান দেশগুলোতেতো বটেই। সৌদী রাজা বা ব্রুনেইর রাজার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করে না। সামন্তবাদ ঔপনিবেশিক শক্তিকে সস্তা শ্রম, কাঁচামালের অবাধ লুণ্ঠন এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাজারের নিশ্চিতি দেয়। আর তাই, আমরা মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের উত্থানে যতই বিপন্নবোধ করি, মার্কিনিরা তাদের সঙ্গেই কারবার করবার আলাপ জমাচ্ছে। ইরাকেও তাই হয়েছে। আফগানিস্তানেও মোটেও ধর্ম সম্পর্ক শূণ্য সরকার ক্ষমতাতে নেই। বরং বিচ্ছিন্ন কিছু জনজাতীয় যুদ্ধবাজদের জোট সরকার চালাচ্ছে। যারা মোটেও মার্কিনি বা ভারতীয় শিল্পপতিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো যোগ্যতা রাখে না। আর সত্য বলতে, ধর্মনিরপেক্ষ জাতি রাষ্ট্র একটি বোর্জুয়া মিথ্যাচার হিসেবেই থেকে গেছে। বৃটেন নিজেই এখন আবার নতুন করে এই সব প্রশ্নে জেরবার। আগামী দুই একবছরে স্কটিশরা বেরিয়ে গেলেও যেতে পারে যাদের সঙ্গে ইংলিশদের ভাষিক এবং ধর্মীয় বিরোধ রয়েছে। পুঁজিবাদ এগুলো জিইয়ে রাখে। কারণ, তার লুণ্ঠনকে সে যতই বাজারে স্বাধীনতার উপর ছেড়ে দেবার বড়াই করুকনা কেন, এতো ঠিক যে তার জুয়াচুরী আড়ালে থাকে না। এখনকার আর্থিক সংকট দেখাচ্ছে এই সত্যতা। 
            এই জোচ্চুরিকে আড়াল করবার জন্যে শাসকদের দরকার পড়ে সংখ্যাগুরুদের মধ্যে এক সমর্থণ ভিত্তি গড়ে তুলবার। সেই সংখ্যাগুরুর একটি ধর্মও থাকে, থাকে ভাষাও। আর ঠিক তাই আজকের কোনো দেশেই সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা আর মর্যাদা নিয়ে থাকতে পারে না। যারা এর বিরুদ্ধে লড়বেন তাদের তাই 'হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই বলেও লাভ নেই', 'লাভ নেই অসমিয়া বাঙালি ভাই ভাই বলেও'। আবার এর অর্থ এও নয় যে তবে 'হিন্দু মুসলিম বা অসমিয়া বাঙালি কাটাকাটি করা যাক' এর সবগুলোই শাসকদের লাভ করে দেয়। প্রথমটি তাদের উদ্দেশ্যকে আড়াল করে, দ্বিতীয়টি বড়বেশি উন্মুক্ত করে। শুরু তাই অবশ্যই করতে হবে সংখ্যালঘুর পক্ষে দাঁড়িয়ে সংখ্যাগুরুর নিপীড়িতদের এক করে। আর ঠিক তাই, আমি প্রায়ই অসমিয়াদের পক্ষেও দুই একটা কথা বলে ফেলি। তাতে শিলচরের কিছু বন্ধু আমাকে তাদের দালাল বলে ফেলেন। অর্থাৎ , আমি এমন একটা লোক যে কিনা 'হিন্দু বাঙালি', কিন্তু 'হিন্দু' আর 'বাঙালি' ছাড়া আর সবার পক্ষে দালালি করে! আরে বাবা, যারা একতরফা অসমিয়া বিরোধী বা বিদ্বেষী, সবেতেই অসমিয়া ষঢ়যন্ত্র দেখেন তারাতো নিজেদের লড়াইটা শুরু করবার আগেই হেরে বসে থাকেন। আর ঠিক তাই, বরাক উপত্যকার আজ অব্দি কোনো হিল্লে হলো না। ব্রহ্মপুত্রেরও বটে।
                                                                                                         (c) ছবি



বুধবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০১২

ভাবনা



তুমি  নিজের রক্তে লিখে দিয়ে গিয়েছিলে,
একটি শব্দ "স্বাধীনতা ",
আমার খাতার পাতায়।
অর্থ বুঝতে অনেক দিন লেগেছিল ,
এখনও কতটুকুই বা বুঝতে পেরেছি?
প্রতি সকাল সন্ধ্যায় ,একা একা নিরালায় ভাবতে বসি , 
তোমার রক্তের বিনিময়ে,
নিয়ে আসা স্বাধীনতা কি আমার কাছে সুরক্ষিত?  
বড় বড় অট্টালিকার আড়ালে গড়ে উঠা,
ঘিঞ্জি বস্তির আবর্জনার স্তূপ থেকে ভেসে আসা,
লাওয়ারিস শিশুর অসহায় কান্না,
আমার চিন্তার প্রবাহ কে তছনছ করে দিয়ে যায়।
অনাহারে মৃত্যুর হিসেব  সংবাদপত্রের প্রথম পাতাটিকে ,
ভাগ করে নেয় কালো টাকার হিসেবের সাথে।
প্রজাতন্ত্রে প্রজার অধিকার  শীত ঘুমে,
রাজনীতির গোলকধাঁধায় নির্ধারিত স্থান-কাল-পাত্রের জীবন।
বুকের ভেতর পুঞ্জিভুত বেদনা ঘর বাঁধে । 
রাতের আঁধারে ভেসে উঠে তোমার অশ্রুসজল চোখ দুটো,
তুমি হয়ত ঘৃণা করছ আমার এই অপারগতাকে,
কিন্ত সত্যি বলছি, আমি এখনও হারিনি।। 
আঁধার গুহার ওপারেই নাকি আলোর বাসা,
আর আমি  সেই আলোরই সন্ধানে।।






শনিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১২

দূরের নক্ষত্র

প্রকাশিত হল 'দূরের নক্ষত্র'-নন্দিতা ভট্টাচার্য'র
বাংলা কবিতা সংকলন ।
প্রকাশক ~~ভাষা সংসদ।
পাওয়া যাবে বইমেলায় । 'প্যাপিরাস' ,'অহর্নিশ' ,'অনুবাদ পত্রিকা' ,'কারুভাষ' ~র স্টলে ।



বুধবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১২

আমেরিকার বাংলা ব্যান্ড 'অপার বাংলা' আয়োজিতআন্তর্জাতিক মিউসিক ভিডিও প্রতিযোগিতা




         আমেরিকার বাংলা ব্যান্ড অপার বাংলা আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সকলেই বানাতে পারবেন মিউসিক ভিডিও আমেরিকার বস্টন শহরের বাংলা ব্যান্ড ‘অপার বাংলা’ সম্প্রতি তাদের প্রথম সিডি ‘ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো’ প্রকাশ করল। এই সিডির গান ইতিমধ্যেই সারা পৃথিবী জুড়ে সাড়া ফেলেছে। লন্ডনের বিবিসি রেডিও, কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা ও স্টার আনন্দ, সকলেই অপার বাংলার গানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এবার অপার বাংলা ব্যান্ড এক অভিনব ‘মিউসিক ভিডিও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে, যার স্লোগান হল – ‘অপার বাংলার গান, আপনি বানাবেন মিউসিক ভিডিও’।
      অপার বাংলার গান ‘রেইনি ডে’ নিয়ে মিউসিক ভিডিও বানাতে হবে। এই গানটি ‘ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো’ সিডিতে এবং অনলাইন পাওয়া যাচ্ছে। ভিডিও তৈরি করার জন্য শুধুমাত্র প্রয়োজন একটি সৃজনশীল চিন্তা, কারিগরী দক্ষতার প্রয়োজন নেই। ভিডিও বানান যাবে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে, হাতে আঁকা ছবি দিয়ে, এনিমেশন দিয়ে বা অন্য যে কোন মাধ্যমে। যারা নাচতে ভালোবাসেন, তারা তৈরি করতে পারেন নাচের ভিডিও, অবশ্যই ‘রেইনি ডে’ গানটিকে ব্যবহার করে। এ ছাড়াও যেকোন মাধ্যমে এই ভিডিও বানান যাবে। ভিডিও তৈরি করে প্রথমেই YouTube-এ পোস্ট করতে হবে , তারপর সেই YouTube ভিডিওর লিঙ্ক ইমেল করতে হবে এই ইমেল ঠিকানায় – apaarbanglaband@gmail.com ভিডিও জমা দেবার শেষ তারিখ হল ফেব্রুয়ারী ৫, ২০১২।
      এই প্রতিযোগিতায় থাকছে আকর্ষনীয় পুরস্কার। প্রথম পুরস্কার হল ৫০০ ডলার। এ ছাড়াও থাকছে আন্তর্জাতিক খ্যাতির সুযোগ। শ্রেষ্ঠ ভিডিও গুলি দেখান হবে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ও ভারত, আমেরিকার এবং বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলে। বিশদ জানতে ইমেল করুন এই ঠিকানায় -apaarbanglaband@gmail.com। বা ক্লিক করুন এখানে...


নিয়মাবলীর সঙ্গে পুরো গানটা এখানে এই ভিডিওতেও  শুনতে পারেনঃ



সৌজন্যঃপৃথ্বীরাজ চৌধুরী

অপার বাংলার মূল মানুষ কবি পৃথ্বীরাজের কবিতা শুনুনঃ



উরুকার রাত ,ভোগালি বিহু~~পৌষসংক্রান্তি

      পৌষ সংক্রান্তির আগের রাত । আসামে  বলে উরুকা । সেই রাতের জন্য হা পিত্যেস করে বসে থাকতাম আমরা সারা বছর  । এক মাস /পনের দিন আগে থেকে শুরু হয়ে যেত তোড়জোড় । ভেলাঘর তৈরি করার সাজসরঞ্জাম জোগাড় করা চলত অনেকদিন ধরে । শহরে সব কিছুই সংগ্রহ করা বেশ কষ্টকর। কিন্তু ভেলাঘর তৈরি করতে চাই খড় ,বাশ, কলার শুকনো পাতা বা পাচালি। বাঁশ দিয়ে ঘরের খাঁচাটি তৈরি হবে, চাল হবে খড়ের, দেয়াল হবে কলার পাচালি দিয়ে । পাশে হবে মেজি। বিশাল খোলা মাঠে  তৈরি হত । ছেলেদের মধ্যে এই নিয়ে  দারুন প্রতিযোগিতা ।কার ভেলাঘর কত বড়।কার মেজি কত উঁচু ।  মেজি খড় বা কাঠ দিয়ে  তৈরি হত । সিলেটে বলা হত মেড়ামেড়ি। দাদাদের ভেলাঘর ও মেজি ঘর বিশাল কাণ্ডকারখানা ।আমাদের ছোটখাট ব্যাপার  । ছোট্ট একটুখানি ঘর ।মেঝেতে খড় পাতা  ।তাতে হুটপাটি দাপাদাপি ।চেঁচিয়ে গান গাওয়া ,কত রকমের গল্প । বন্ধুদের একসঙ্গে এতক্ষন থাকা ।রাতের  পিকনিকের তোড়জোড় ।
               
               সেদিন টি ছিল চুরিরও রাত। কারোর বাড়ির পাঁচিল বেড়াটি আস্ত থাকতো না ।গোটা বাঁশের বেড়া  হই হই করে তুলে নেয়া হত। এ ছাড়া ফল, সবজি, মুরগি,হাঁস সবই চুরি হত ।    তারপর এল খাওয়াদাওয়া  ।সে কি আনন্দ।নিজের হাতে রান্না করে খাওয়া।রান্নাবাটি খেলা । দাদারা ঘুরে ঘুরে চাঁদা তুলত । আমাদের এর ওর কাছ থেকে চেয়ে চিনতে  সব্জি ,ডিম ,চাল  যোগাড় করা । কখন কখন মুরগির মাংস হত ।নিষিদ্ধ  মাংস । তারপর আবার কায়স্থ বামুনে মাখামাখি । ঠাকুমাকে পুরো ব্যাপারটাই চেপে দেয়া হত ।   মেয়ে বলে খাওয়ার পর বাড়ি ফেরা।রাতে থাকা চলবে না । ছেলেদের অবশ্য সে সব নেই।তাই দাদারা সারারাত ভেলাঘরে থাকত। আমাদের মন খারাপ হত ।ইচ্ছে করত সারারাত বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে কাটাই । তা আর কোথায় । তাই গুটি গুটি পায়ে ঘরে ফেরা ।  পরদিন সক্কাল বেলা চান করেই দৌড় ভেলা ঘরে ।এবার এতদিনে তৈরি করা প্রিয় ঘরটি জ্বালিয়ে দিতে হবে, তাই নিয়ম। ভোরবেলা সূর্য উঠছে আর দিকে দিকে মেজি , ভেলা ঘর পুড়ছে ।আগুন আর সূর্যদেব চোখাচোখি। পৌষের প্রচণ্ড শীতের সকালে কি আরাম !
                   
            ভেলাঘরের চারপাশ ঘিরে মা দের রাতের তৈরী পিঠে খাওয়া । মেজি ঘর জ্বালাবার সময় তিলপিঠে পান-তাম্বুল ও পয়সা দেয়া হত । আগুনকে  ঘিরে  চলত পিঠে খাওয়ার ধুম । গ্রামে এই মেজির পোড়া ছাই ক্ষেতের মাটিতে ছড়িয়ে দেয়া হত। বিশ্বাস তাতে মাটি উর্বর হয়।  আগামি বছরের আরও ভাল ফসলের আশায় ।কারন বিহু আসলে ফসল কাটা ,পুর্ন ভাণ্ডারের  উৎসব। ভোগালি বিহু ভোগের নতুন চালের উৎসব ।যেমন বাংলায় পৌষ  সংক্রান্তি  । মাটির গান। হারভেস্টিং সং । আর আগুন জ্বালিয়ে আসলে অগ্নি উপাসনা করা হয় । তাকে খুশি রাখা । সে আবার অন্য গল্প । আর্য্য প্রভুদের কথা । তারপর সংক্রান্তির দিন সারাদিন হইহুল্লোড় খাওয়া দাওয়া আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে পিঠে পাঠানো বা গিয়ে গিয়ে পিঠে খাওয়া ।যেহেতু তিল সংক্রান্তি তাই তিল পিঠের খুব চল ছিল আসামে এ ছাড়া ছিল ঘিলাপিঠা ,ভাতপিঠা ,খোলাপিঠা ,বরপিঠা।বরাচালের গুড়ি বানিয়ে ভাজা হত ,তাকে বলা হত 'হুরুম' । এ ছাড়া বিরনির চাল। পশ্চিমবঙ্গে এই চাল  দেখিনি । বাশের চোঙ্গের ভেতর অল্প জল দিয়ে উনুনে পোড়ান হত। তাকে বলা হত চুঙ্গাপিঠা ,  খুব জমাট বাধা  দই দিয়ে খাওয়ার রেয়াজ সেটা । এ ছড়া অসমীয়া সমাজে নতুন চালের পিঠা ,তিলের পিঠা, নতুন আলু খাওয়া হয়। আলু না খেলে নাকি পরের জন্মে শুয়োর হয়ে জন্মাতে হবে তেমন বিশ্বাসও আছে গ্রামে গঞ্জে ,মানে এতটাই আলুর মাহাত্ম্য । কারন নতুন আলুতো তখন ভরপুর ।মাছ ,মাংস ,বিশেষত চিতল মাছ খাওয়া হত । তেমনি আসামে থাকা বাঙ্গালীরা বিহু যেমন পালন করতেন পরেরদিন পৌষ  সংক্রান্তি পালিত হত মহা ধুমধাম করে ।বাঙ্গালিদের বাড়িতে হত পাটিসাপটা ,দুধপুলি ,চন্দ্রপুলি ,ছোলারপিঠে ,মুগসলই, জামপিঠে,গোকুল পিঠে ,এলঝেল  আর কত !!দুটো অনুষ্ঠানই গা জড়াজড়ি করে চলত । উৎসবমুখর হয়ে উঠত পরিবেশ ।ভালবাসার আবহটি ও গড়ে উঠত, মজবুত হত  সম্পর্ক । ভোগালি বিহু ও পৌষ সংক্রান্তি ,বড় আদরের ও অপেক্ষার উৎসব । কৃষকের কোলভরা ,মনভরা উৎসব ।



রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০১২

বিন্দু বিন্দু তারা......


          কালে আড়মোড়া ভাঙতে থাকা পৃথিবী কে দেখার লোভ কোন ভাবেই সংবরন করতে পারি নাযাওয়ার আগে ভোরের তারা আমাকে উঠিয়ে দিয়ে গেল। আকাশে একটু একটু ফর্সা ভাব চোখ কচলাচ্ছে । হাল্কা বাতাস গাছগুলির পাতায় পাতায় ফিসফিস করে বলে যায়, উঠো, ভোর হয় এল...। বড় বড় বৃক্ষ সব  আগে ভাগেই উঠে নিজের ডালে ডালে শুয়ে থাকা পাখিদের কে তুলতে আরম্ভ করে । এক এক করে তারা ঘুম থেকে উঠে, আর আস্তে আস্তে শুরু হয়ে যায় তাদের সংসারের কাজ । গাছে গাছে যেন মেলা, কথার মেলা, কিচির মিচির কিচির মিচির...। চারিদিকের স্তব্ধতার মাঝে কি অপূর্ব মধুর এই কথাগুলির সুর । কথাও আবার কাশ ফুলের কানে কানে বাতাস ফিসফিস করে কি জানি কি কথা বলে যায়, যা শোনে তারা খিলখিল করে হাঁসতে থাকে আর মাথা দুলিয়ে বাতাসের তালেতালে নাচতে আরম্ভ করে দেয়! নির্বাক হয় চেয় থাকি প্রকৃতির এই রূপ। কোন কথা বলতে ইচ্ছ্য করে না, দু চোখ ভরে শুধু আকুন্ঠ পান করে যাই......।
                   কেউ উঠে নাই, আমি ও পা টিপে টিপে হাঁটি, যেন একটু শব্দও এই পবিত্রতা ভঙ্গ করে দিতে পারে। বাদলা দিনে আবার দু চারটা মেঘও আমার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটে। এরকম একটা সঙ্গী পেলে কে না আনন্দে আত্মহারা হয়ে! বৃষ্টি বোধহয় শুনতে থাকে আমারও মেঘের কথোপকথন, তাই এক এক দিন ঘরে পোঁছানোর আগেই আমাকে জড়িয়ে ধরে বেশ জোরে... আমি বুঝি, এটা তার অভিমানের কান্না... বৃষ্টির এই একটা দোষ সে নীরবতার ভাষা বুঝতে পারে না, নাকি বুঝতে চায় না... সরবতার তলে চেপে রাখতে চায় নিজের অস্তিত্ব হারানর দুঃখ..., মেঘের সংসার থেকে বিদায় নেওয়ার দুঃখ...? যদিও সে জানে মেঘ  তো চির বঞ্জারা... তার কান্না দেখে আমিও তাকে জড়িয়ে ধরি আর দু জনেই ভেজাতে থাকি এক অপর  কে... বৃষ্টির চোখের জল মুছতে মুছতে আমি তাকে বলি, হক না মেঘ বঞ্জারা, এও তো সত্য, যেমন মেঘ ছাড়া তুমি অস্তিত্বহীন তেমনি তুমি ছাড়া মেঘেরও সংসার শূন্য...
                    এই চির পরিচিত মেঘও বৃষ্টির প্রেমও বিচ্ছেদ, চির সত্য... শাশ্বতআমি আবার প্রকৃতির কথা বলতে বলতে প্রেমের কথায় এসে পড়লাম। যদি ও প্রেম প্রকৃতি থেকে ভিন্ন কিছু নয়।আগে যে ঘরে থাকতাম, ওখানে একটা জঙ্গলের পোস্টের ছিল, তার ওপরে লেখা ছিল, “speak to the earth and it’ll speak to you.” এটা তো আমরা সবাই বুঝি যে এখানে বলা মানে নীরবে কান পেতে শোনা, অন্তর হতে অন্তরে অনুভব করা...। যখনই এরকম বসি, কত কথা যে গাছের ডালে, বাতাসে, তারায় তারায় ও চাঁদের চোখে দুলতে দুলতে আমায় ছুয়ে যায়...। স্তব্ধ বসে সুনি সে সব কথা। সিউরিয়ে উঠি শরত পূর্ণিমার রাতে প্রকৃতির মনের মত সাজ দেখে। পূর্ণ চাঁদে কে মেঘের আড়ালে খেলা করে পৃথিবীর সাথে খুনসুটি করতে।  
              এক এক রাতে পাহাড়্গুলি কে দেখি, চাঁদের জ্যোৎস্নায় স্নান করতে... সে সব রাতে শরতের  বাতাস গুন গুন করে গান গায়, সব গাছ মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে মৃদু তালে সংগত করে! প্রতিটি তারা যেন সেই  সুরের মূর্ছনায় ঝর ঝর করে কাঁদে... কি আশ্চর্য দৃশ্য!! প্রথমে চাঁদ কেঁদে ছিল বলে বিন্দু বিন্দু তারার সৃষ্টি হল আর তারপর তারাগুলো কাঁদল যখন, শিশির বিন্দু হয়ে ঝরতে থাকল!! আবার এই শিশির বিন্দু বাষ্প হয়ে চলে যাবে আকাশে; কিছু বৃষ্টি হয়ে পড়বে নীচে ও কিছু তারা হয়ে ঝুলতে থাকবে আকাশের শামিয়ানায় আর অপেক্ষা করবে সেই রাতের যখন আবার পাহাড়গুলো চাঁদের জ্যোৎস্নায় স্নান করবেও  বাতাসের গুনগুণ সুরের মূর্ছনায় তারা খসে পড়বে...।
                           খুব ভোরে প্রকৃতির সেই আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠা পবিত্র রূপ কি রাত্রের শিশির স্নান করার ফলেই? আপন মনে বলে উঠি, ঘাসের ডগায় বা পাতায় পাতায় আটকে থাকা ওগুলো কি?  শিশির বিন্দু না বিন্দু বিন্দু তারা.........।
                                        ........................
                                                                                                      (c) ছবি



রবিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০১২

সেনাবাহিনি বিশেষ আইন,ইরোম শর্মিলার লড়াই এবং বরাক উপত্যকাতে ঝাড়খন্ডি আদিবাসি চাশ্রমিকদের দুর্দশা

সেনাবাহিনি বিশেষ আইন প্রত্যাহার এবং ইরোম শর্মিলার লড়াই নিয়ে  নিয়ে আজকের ( ০৮-০১-২০১১) দৈনিক যুগশঙ্খে দুটো মূল্যবান লেখা বেরিয়েছে। সেই সঙ্গে বরাক উপত্যকাতে ঝাড়খন্ডি আদিবাসি চাশ্রমিকদের দুর্দশার বিপরীতে মালিক পক্ষ তথা বাঙালি বাবুদের ঔদাসীন্য নিয়ে একটি মূল্যবান চিঠি। মনে হলো সংরক্ষণ করা উচিত এবং সবাইকে পাঠের শরিক করা উচিত, তাই করা। ছবিগুলোকে দু'বার করে টিপলেই বড় হয়ে যাবে, চাই কি পুরো পর্দাতেও পড়া যাবে।





শনিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০১২

কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের ‘পুলিপোলাও’


‘পুলিপোলাও’ কবিতার বইটির এটি পান্ডুলিপি। প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৩এ। লিখেছেন বাংলাদেশ থেকে অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত শক্তিশালী কবিদের একজন। ১৯৬৫তে ঢাকার কলাকোপা-বান্দুরায় জন্ম।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর । এখন কাজ করেন অষ্ট্রেলিয়ার একটি কর্পোরেট হাউসে।
                   এবং ‘প্রবাসে দৈবের বশে’ থাকতে হচ্ছে বলে যে যন্ত্রণা, তার থেকে বেরিয়ে আসে এমন পংক্তিমালা, “শুধুই প্রকৃতি, প্রকৃতির উচ্ছিষ্টেই তুষ্ট ছিনু বটে;/ না মরে পাষাণ দেশ, দিলা দীপান্তর /তোমার--তোমারই জন্যে তবু আমি দিবা বিভাবরী/ পরদেশে ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি!” বইটির মূল সুর এই।
                 বেশ কিছুদিন আগে  তাঁর নিজের পাঠের শরিক করতে পান্ডুলিপিটি আমাকে পাঠিয়েছিলেন ত্রিপুরার থেকে কবি বন্ধু প্রবুদ্ধ সুন্দর কর। প্রবুদ্ধকে বলেছিলাম, সুব্রতকে পড়বার কিছু সূত্র ধরিয়ে দিয়ে একটা ছোট্ট নোট লিখে দিতে। তবে, ‘ঈশানের পুঞ্জমেঘে’র মধ্যি দিয়েও সহপাঠি খোঁজে নেয়া সহজ হতো। প্রবুদ্ধ বুদ্ধিমান, সে দায় এড়িয়ে গেছেন। হয়তো আলস্য,নয়তো আমি যে শরিক হলাম তা প্রমাণের অপেক্ষায়।
          এবারে, আমি এই গদ্যের কারিগর, কবিতা পড়ি মাঝে মাঝে।কিছুটা ভালোবাসায়, কিছুটা দায়ে। যেমন এখন বন্ধুদায় এই দুটোকেই মিলিয়ে দিল। পড়েছিলাম সঙ্গে সঙ্গেই। দারুণ রকম টেনেওছিল। কিন্ত প্রবুদ্ধের কাছে ফিরে যাবার জন্যে আরো কিছু প্রস্তুতির দরকার ছিল। সত্যি বলতে কি এর আগে সুব্রত আমার পরিচিত ছিলেন না একেবারেই। তাঁর কবিতা কোথাও পড়লেও মনে ছিল না।  ইতিমধ্যে  ‘অগ্রবীজ’ কাগজটি হাতে এলো। যার সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সুব্রত। সেখানে সাম্প্রতিক সংখ্যাতে ভাষা নিয়ে তাঁর একটি লেখা আছে ‘প্রমিতাক্ষরা’। সে লেখাতে আরো অনেকের সঙ্গে ভাষা নিয়ে তিনি প্রচলিত বহু সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের মুখে এনে ছেড়ে দিয়েছেন। এই ব্যাপারটি আমাকে টানল। কেননা, আমারও ভাষা নিয়ে ভাবনার স্রোত ঐ খাতে বয়। খুব ছোট্ট নজির তাঁর গদ্যের এবং বক্তব্যের , “অফ দ্য রেকর্ড। তোরেই তো? অনেক অনেক দিন আগে বোধ হয় একবার কইছিলাম যে বাংলাদেশের স্কুলগোয়ার-গো একই লগে কমসে কম তিনটা বাংলার লগে কুস্তি কইরা বড়  হইতে হয়,...... এই দুর্ঘট কলকাতার ছেলেপুলেদের নাই।এইটা একটা প্রকৃত হ্যান্ডিক্যাপ, কিন্তু আমাগোরই সমাজের একটা উপরওয়ালা শ্রেণি চায় যিশুর কাঁটার মুকুট-সম আমরা চিরকাল এইটা ধারণ করি, চিরকাল রক্তাক্ত হই (কেননা, আমরা হইলাম ইউনিভার্সাল ব্লাড ডনার)।”   ইনি যে একাবারে ফাজলামো করছেন না তা জানবার এবং বুঝবার জন্যে পাঠক ‘অগ্রবীজে’ লেখাটা পড়েই নিতে পারেন। ভাষার উপর তাঁর দখল যে কত গভীর তাঁর কবিতার নির্মাণেও তা ধরা পড়বে। যাদের তাও পড়বে না তাঁরা নিচের টীকা টীপ্পনি দেখে নিতে পারেন।
            ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে পরিচিতও হওয়া গেল। সেটি আজকের দিনে খুব কঠিন কিছু নয়। ফেসবুকে। কিন্ত কবিতা নিয়ে আলাপ হলো না। হবে। কিন্তু বইটি এখানে তুলবার অনুমতি নেয়া গেল। আলাপটি  করা গেল এবারে প্রবুদ্ধের সঙ্গে। কবিতার বিরুদ্ধে দুর্বোধ্যতার অভিযোগকে  হিসেবের বাইরে রেখে দিলেও তাঁর কবিতা পড়তে কারো অসুবিধে হবে না। ছন্দের মসৃণ টানে এবং তানে তা যাবে এগিয়ে। হ্যাঁ, সেই দশ আট ছয়ের পয়ারের লিখেছেন। কিন্তু পর্বগুলোকে সাজিয়েছেন নানা রঙে,ঢঙে এবং  বিস্তারে, নির্মাণ যেখানে যেভাবে দাবি করেছে। সেখানে তাঁর নৈপুন্য প্রশ্নাতীত। যারা অন্তমিল আশা করেন, তাদেরকেও তিনি অত্যুৎসাহেই প্রশ্রয় দিয়েছেন।  নাম নেই, আছে নম্বর। তাঁর মানে ১৯৯৫ থেকে ২০০১ অব্দি সিডনিতে বসে লেখা ৬৪টি কবিতার সবক’টিকে একটি মাত্র দীর্ঘ কবিতা বলে ভেবে যদি কেউ পড়ে ফেলেন তাতেও আপত্তি করবার কিচ্ছু থাকবে না। সেই দীর্ঘ কবিতার নাম ‘পুলিপোলাও’। ‘পোর্টব্লেয়ারে’র প্রচলিত  নামগুলোর একটি।
আমাদের কাছে ‘পোর্টব্লেয়ার’ নামটাইতো পরিচিত এবং প্রচলিতও? তবে আর এই সখ করে দুর্বোধ্যতার আমদানি কেন? এখানেই যেন তিনি ‘পরিচিত’, ‘প্রচলিত’ , ‘দুর্বোধ্যতা’র মানেকেও তীব্র শ্লেষে প্রত্যাহ্বান জানিয়ে বসেন। কার কাছে , কাদের কাছে? কারা এই ‘আমরা’? এই প্রশ্নগুলোও  বড় করে উঠে আসে। গ্রন্থনামের একটা টীকা তিনি জুড়েছেন এবং পড়ে আমাদের মনে হয়েছে তাঁর নামটিই সঠিক।  আমাদেরটিই এক ঔপনিবেশিক নির্মাণ। এই যে আত্মপরিচয়ের ঔপনিবেশিক নির্মাণ, একে ভাঙ্গতে গিয়ে তিনি ভ্রমণ করেছেন  বাংলাদেশ থেকে সিডনি কেবল নয়। সেতো করেইছেন এবং সেই ভ্রমণে থেকে গৃহকাতরতার কথা দিয়েই নির্মিত তাঁর প্রায় কবিতা। কিন্তু সেই সঙ্গে দেশ বিদেশ এবং অবশ্যই বাংলা তথা প্রাক-বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি খাঁজে পা ফেলেছেন নিবিষ্ট পরিব্রাজকের মতো। এবং সেখান থেকে যা কিছু সম্পদ পেয়েছেন তুলে এনেছেন। এবারে সে কাজওতো করেন যেকোনো কবি। কিন্তু তিনি যে কাজ করেছেন তাঁর চিহ্ন রাখবার জন্যে অনেক জায়গাতেই কোনো উদ্ধৃতি চিহ্নের দরকার বোধ করেন নি। তার চেয়েও বড় কথা সাধু-চলিতের যে রেল লাইনটির সঙ্গে আমরা পরিচিত, তার কোনো একটিতেই চেপে বসেন নি। তাঁর ভাষা পথ তিনি নিজেই নির্মাণ করে নিয়েছেন। ‘ছিনু’, ‘বাহিরিতে’ এই যে শব্দগুলোকে আমরা বাদ দেয়াটাকেই আধুনিকতার নির্দেশ বলে মেনে নিয়েছি, সেই নির্দেশকে তিনি হেলায় দূরে ঠেলেছেন।  তাঁর কবিতার ভাষার ‘আধুনিক’ যুগবিভাজনের কাজটি কঠিন বটে। এবারে যারা বাংলা ভাষাটিকে ভুলে গেছেন তাদের কাছেই মনে হতে পারে তাঁর ভাষাটি কঠিন।
হ্যাঁ, সাহিত্যের পরম্পরার সঙ্গে অপরিচিতিটা তাই বলে অপরাধ নয়, যদিও কবিতা পড়তে গেলে সেগুলোর চেয়ে কাজে  আসার সম্পদ আর কিছুই নেই, তাই তিনি এক দীর্ঘ টীকা জুড়ে দিয়েছেন শেষে। এটি তাঁর আগে কেউ করেন নি, করবার দরকারও বোধ করেন নি। কিন্তু তাঁর যেন আহ্বান, “হে পাঠক! যিনি আমার কবিতা পড়বেন তিনি আমার পূর্বসূরীদের পাঠ নিয়েছেন তো?” এ যেমন একধরণের কৃতজ্ঞ বিনয় তেমনি এক নতুন দীক্ষাও বটে। প্রবুদ্ধ বলছিলেন, আল মাহমুদ, ফারহাদ মাজহারদের পর আজকের বাংলাদেশে  সে ধারার কাউকে যদি পড়তে হয় তবে এই তরুণ সুব্রত অগাস্টিন গোমেজকে দিয়ে শুরু করতে হবে। তিনি আর দুই একটি নাম নিয়েছেন। কিন্তু আপাতত আমরা উল্লেখের দরকার বোধ করছি না।  
এই বইটির আগে পরেও বেরিয়েছে তাঁর বেশ কিছু বই। তার মধ্যে রয়েছে কিছু অনুবাদ এবং একটি উপন্যাস।  ‘অন্তউড়ি’ (আধুনিক পদ্য-রূপান্তরের চর্যাপদ, ১৯৮৯), ‘তনুমধ্যা’( কবিতা , ১৯৯০), ‘নির্বাচিত ইয়েটস’ ( অনুবাদ, ১৯৯৬), ‘এলিয়টের প’ড়ো জমি’ (অনুবাদ, ১৯৯৮), ‘কালকেতু ও ফুল্লরা’ (উপন্যাস , ২০০২), মাতৃমূর্তি ক্যাথিড্রাল’ (গল্প, ২০০৪), ‘কবিতা সংগ্রহ’ (২০০৬), দিগম্বর চম্পূ (কবিতা, ২০০৬), ‘গর্দিশে ছাসমে সিয়া’ (কবিতা, ২০০৮), ঝালিয়া ( কবিতা, ২০০৯), মর্নিং গ্লোরি (২০১০) এছাড়াও কিছু অষ্ট্রেলীয় কবিতার অনুবাদ করেছেন সৌম্য দাসগুপ্ত এবং অংকুর সাহার সঙ্গে, নাম ‘কবিতা ডাউন আণ্ডার’ (২০১০)। এক সময় মাসুদ আলী খানের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন ছোট কাজ ‘প্রসূন’। আশা করছি, এই নামগুলো অন্তত তাঁর সম্পর্কে সামান্য একটা ধারণা দিতেও বেশ খানিকটা সাহায্য করবে।



পড়ুন ‘পুলিপোলাও’ নিচে। আপনি একে নামিয়েও নিতে পারেন  পরে পড়বেন বলে, আর এখনই এখানে পড়তে হলেও পুরো পর্দাজুড়েও পড়তেই পারেন। নিচে দেখুন বোতাম আছে। হ্যা, আপনার ফ্লাসপ্লেয়ারের দরকার পড়তে পারে। সেটিও নিয়ে নিন এখানথেকে। ভালো লাগবে, যদি আপনার পাঠ অভিজ্ঞতা এখানেই লিখে রাখেন। নথিবদ্ধ হয়ে থাকবে। লেখকও দেখতে পাবেন।
Pulipolao



শুক্রবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১২

লোকাল লেডিস কামরা~~~~~~~~~~~~~~~

  ঐ আসছে ক্যাটারপিলার !কোমর দোলাতে দোলাতে । রোজদিন  রিয়া টেনশন ফ্রি  হয় এ ভাবে !! এরপর তো যুদ্ধ শুরু । ঐ এল । ওঠা গেলো  । মহিলা কামরা । একটি  ছোটখাটো প্রমিলা রাজ্য বল্লেও কম বলা হয় ।  আপাত শ্রেণি বিভাজন আছে কিন্তু আধিপত্য উচ্চবর্গের হাতে নেই। স্কুলের দিদিমনিরা সংখ্যায় বেশী। নরেন্দ্রপুর ,গড়িয়া , থেকে বনগাঁ  , কৃষ্ণনগর   ,ডানকুনি । কোথায় নয়? উত্তর থেকে দক্ষিন , পুব থেকে পশ্চিম ;  মেন থকে কর্ড সব লাইন । কখনো গঙ্গা পেরিয়ে ,কখন  ভ্যান  রিক্সায় , ট্রেনের আগু পিছু সব কিছু চেপে হাঁপাতে হাঁপাতে  ট্রেন ধরা ।  তবুও  যথেষ্ট সেজেগুজে পরিচ্ছন্ন হয়ে আসেন । পোশাক নিয়ে অনেক হাল্লা চিল্লা পেরোতে হয়েছে তাদের । কেউ নড়াতে পারেনি । দিদিমনিদের দেবী ভাবের  ধাচা  থেকে বেশ ভালই  মুক্ত হতে পেরেছেন নতুন প্রজন্ম । বসে কেউ একটু ঝিমিয়ে নেন । সকালে ঘুম থেকে ওঠা অব্দি ঘোড় দৌড়  । রান্নার লোক থাকলেও বাচ্চার টিফিন , নিজের টিফিন ,  বরের টিফিন । এখন খাওয়া তখন খাওয়া  বন্দোবস্ত করা ।দিনের সব কিছুর ব্যবস্থাপনা  করে রেখে আসা । ফিরতে ফিরতে তো সেই সন্ধ্যে । সুতরাং একটু খানি চোখ বোজা । কেউ কেউ আবার বই খুলে বসেন । এই তো দিনে একটুখানি নিজের মত করে সময় পাওয়া । কখন দেড় , কখন দুই ঘণ্টার যাত্রা । কেউ কেউ আবার এই সময় টুকু নিজের খাতা খুলে বসেন । কোথায়  কবে কি করলেন । বর কবার বিদেশ গেলেন  ,ছেলে কত টাকা রোজগার করে , সে বছর ক টাকা বর ইনকামট্যাক্স দিয়েছে ।  তা নিয়ে আবার মজাও কম হত না । এই রকম লোকদের খচাতে জুড়ি ছিলনা সুমির ।  'তারপর কি হল বলুন না  সীমাদি । ছেলের জন্য পাত্রি পেলেন , কোটিপতি ,ইঞ্জিনিয়ার ?' তিনি অতি উৎসাহে বলতে লাগলেন বর এবং ছেলের খতিয়ান । আর তারপর পিটপিট করে হাসতে লাগলো  আশপাশ।
           তা সে দিদিমনিদের ওপর আবার অনেকে মহা খচা । 'এই এসেছেন ~ এখনি শুরু হবে কোথায় নামবেন , কোথায় নামবেন ।' দোষ নেই এতক্ষনের যাত্রা বসতে তো হবেই ।  কোন কোন যাত্রি সহৃদয় । উদ্যোগী হয়ে  বল্লেন কোথায় নামবেন । কেঊ কেঊ  কিছু বললেন না । কিন্তু টুক করে পরের স্টেশনে নেমে গেলেন ।   সিটটি হয়ত পাওয়া গেল না ।
         সাড়ে দশটার ট্রেনে থাকে সবজি মাসিরা । ভোর চারটের উঠে বেরোতে হয় । তারপর শেয়ালদায় সবজি বিক্রি ।সব সময় কিছু বলার জন্য  ব্যস্ত ।  হয়ত সারা দিনের ক্লান্তি ।  তবে প্রায়ই সবার সঙ্গে উচ্চকিত । দিদিমনিরা জায়গা পাননি দাঁড়িয়ে আছেন । চুল উড়ে যদি কোন কারণে গায়ে লাগে তাহলে খুব রাগ হয় মাসিদের । এ নিয়ে বেশি কথা বলতে গেলে বলে বসল হয়ত' জানি জানি ব্যাগ দুলিয়ে কোথায় যাও ! 'সব্বনাশ ! তারপর আর মুখ খোলে কেউ ? ভদ্রলোকের  নিকুচি করেছে । পুরো আকুপাংচার ভদ্রতার মানদণ্ড। জেনারেল কামরায় থাকলে  দেখা যাবে  সঙ্গে  একটি  প্রেমিকপ্রবর  বর নয়, আশনাই -এর রকম সকম দেখলেই  বোঝা যায় ।  চোখে মুখে লজ্জা । এরপর উঠবে  সকালের খাবার । সেই কোন রাতে  উঠে কোনোমতে দৌড়ে বেরিয়ে আসা । কারো  কারোকে  আবার এর মধ্যে রান্না বান্না করে রেখে আসতে হয় । মুখে চা ছাড়া কোন কিছু দিয়ে আসা হয় না । তাই খাওয়া । পরোটা ,আলুর দম , ডিমের ঝোল কখনো কখনো । সঙ্গে জল ও নিয়ে আসে ভেন্ডার ছেলেটি । শেষে মিষ্টি । খুব যত্ন করে খাওয়ায় ছেলেটি । সবাই মিলে হই হই  ,যেন যৌথ পরিবার খেতে বসেছে । এটাই হয়ত সারাদিনের পুষ্টিকর খাওয়া ! তারপর সারা পরিবার কে খাইয়ে কি আর জোটে । বাড়ি পৌঁছেই তো ঘোড় দৌড় শুরু হবে । ফুলওয়ালি  ও ব্লাউস মাসিদের  আবার কাজেও বসতে হয় বাড়ি গিয়ে ।  দশটি  টি  ব্লাউসে বোতাম লাগালে এক টাকা । দশটি মালা গাথলে এক টাকা । তখন বাড়ির কন্যা সন্তানটিকে রান্নার হাল ধরতে হয় । তাই কখন কখন  ট্রেনে বসেই হাত চলতে থাকে ।বিকেলের ট্রেনে থাকে শেয়ালদার দিদিরা । দাঁড়াতে হবে স্টেশনের বাইরে খদ্দের ধরার জন্যে । ভেতরে গেলে পুলিশের ঝামেলা । তাদের মুখে সব সময় একটি সংকুচিত ভাব । সিঁথিতে এক ঢাল সিদুর । নিপুন শাঁখা পলা । মলিন একটি  ব্যাগ । কথা খুব কম বলে । ঝামেলা হলে অন্যকথা । তখন রণরঙ্গিণী ।  আর আছেন সুনিপুন নারী সাজে  মানুষ । দঙ্গল বেধে ওঠেন । চুন থেকে পান খসার দরকার নেই ,এমনিতেইরাখে হরি মারে কে । ভয়ে কাঁটা । বসার জায়গা দিয়ে নিশ্চিন্ত ।

             অপূর্ব মানুষের অবিরাম চলা । মনে হয় সমস্ত সমাজটা যেন এক কামরায় ঢুকে গেছে ।  শ্রেণিহীন রেলের কামরা । ছোট্ট একটি বাংলা । ভারতবর্ষ ছোট হয়ে নিজস্ব অবয়ব খুঁজে নিয়েছে।