.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

এটা ঠিক নয় যে আমার স্বপ্ন নেই

(C) মেঘ অদিতি


 (সুশান্ত করের এই কবিতাটি বেরিয়েছিল  'আমাদের সমকাল' ,২১ জুলাই ৮৮ --সংখ্যাতে। ভালো লাগল তাই তুলে দিলামঃ সুব্রতা মজুমদার)













টা ঠিক নয় যে
আমার সাধ্য নেই বা তেমন আকাঙ্ক্ষা ও নেই
দুটো কবিতা শুধু তোমারই জন্য লিখি ।
কিন্তু তখন , যখনই দুএকটা লাইন টেনে আনি
বুকের আগুনে আমি ছাই হয়ে উড়ি
স্বপ্ন নয় –
তোমাকে আমি কাগজে কালিতে শুধু কবিতা
লিখেই দিতে পারি।

এটা ঠিক নয় যে—
আমার সময় নেই বা তেমন আকাঙ্ক্ষা ও নেই
তোমাকে নিয়ে চাঁদের আলোয় ঘুরে আসতে
কিন্তু সেদিন ,
যেদিনই চোখ তুলে চাইনা আকাশে
একটা তারাও পড়ে না চোখে
সারাটা আকাশ জুড়ে শুধু বিদ্যুৎই খেলা করে মেঘে।

এটা ঠিক নয় যে
আমার স্বপ্ন নেই বা তেমন আকাঙ্ক্ষা ও নেই
তোমার ও দুটি হাতে নিজেকে আষ্ঠে পৃষ্ঠে বেঁধে রাখতে
কিন্তু ভয়,পাছে আমিই তোমাকে বেঁধে নিই
আর ফ্রেমের ভেতরে স্রেফ
টেবিলে সাজিয়ে রাখি ।                

                                                                                    




মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৪

ঈশ্বরী পাটনির দেশে




(এ বছরে অসমিয়া কবিতার জন্যে সাহিত্য একাদেমি প্রাপক কবি রবীন্দ্র সরকারের এই কবিতাটি ছেপেছে ব্যতিক্রম, মার্চ, ২০১৪ সংখ্যাতে । ভালো লাগল তাই তুলে দিলাম)
(C)Image: ছবি





















ঈশ্বরী পাটনির দেশে
          সবই তিনি করে দেবেন—
আকাশ ফুঁড়ে বৃষ্টি কিংবা রোদ
আলো বাতাস, শিশুদের জন্য দুগ্ধ প্রকল্প
পার্কে মখমলের মতো ঘাস।

সবই তিনি করে দেবেন—
বড় বড় রাস্তা ঘাট, সরল গাছের সারি
টেমসের জল বইয়ে দেবেন গঙ্গায়।
কলগেটের দাঁতের মতো ঝক ঝক করবে শহর
হেসে উঠবে জঙ্গল।
বুলেটের সঙ্গে হবে ব্যালটের শুভপরিণয়।

সবই তিনি করে দেবেন—
হাড় হাভাতের জন্যে ভাতের পাহাড়
আর ডালের সাগর...
আকাশের তারা গুনে সারা রাত কাটায়
সেইসব উলিজুলি স্বপ্ন বিলাসিদের জন্য
ছবির মতো ঘর...
ঈশ্বরী পাটনির দেশে সবই তিনি করে দেবেন!





শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৪

রঞ্জন আসছে



 (রণবীর পুরকায়স্থের এই গল্পটি ছাপা হয়েছিল শিলচরের গল্প কাগজ 'শতক্রতু'র , ১৯৭৮ সংখ্যাতে। ভালো লাগল বলে এখানে তুলে দিলামঃ সুব্রতা মজুম
দার)                         
 
  শ
নিবার তো দেড়টায় ছুটি। দেড়টাকে বাবু প্রায়ই একটায় এগিয়ে দেয়। স্বাতী বলল একসঙ্গে বেরোবে তাই দেড়টাকে দেড়টাই করল আজ। রেঁস্তোরার ঘেরাঘরে গল্প আর কথার নেশায় বুঁদ হয়ে যাচ্ছিল দুজনেই। স্বাতীর কথার উত্তরে যেন সত্যিই বদলে যাচ্ছিল বাবু। যদিও বদলে যাওয়ার ব্যাপারটা বাবু বোঝে না কিছুই । সবাই বলে। আজ স্বাতীও যখন বলল বাবু একটু দোমনা হয়ই । কিছু মানুষ আছে যাদের অনুমোদন থাকলে নির্জলা মিথ্যাকেও সত্যি বলে ভাবা যায়। স্বাতী ওরকম, ওর কথায় একটা প্রত্যয়ী ভাব আছে । তাই , ‘মোটেই না’ বলে স্বাতীকে এড়াতে পারবে না জেনেই বাবু ওকে পুরনো বাবু হয়ে দেখাতে চাইল । উল্টোপাল্টা কথা বলতে বলতে কখন যে দুজনে সত্যি সত্যি পুরনো দিনে চলে যায় খেয়ালও থাকে না । কথা বলে আর কথা শুনে যে এত আনন্দ অনেক দিন পর আবার জানল বাবু । সেসব দিন ফিরেও আসবে না । স্বাতীকেও মনে হচ্ছিল ব্যাবিলনের রাণীর মতো । পুরনো দিনের কত সব টুকরো এটা সেটা । বাবু জিজ্ঞেস করল, ---
    ---তোমার লাইফ পার্টনারের খবর কি গো ? মহাফাজিল ছেলে মন্টু , মজার মজার কথা বলত, নাটকটাটক করত, স্বাতীকে বলত ওর লাইফ পার্টনার । স্বাতী হয়তো এখন ওর খবরই রাখে না । স্বাতী হাসতে হাসতে বলল ,--- আর পারি না বাবু , তোমার ঐ গো বলাটা এখনও চালিয়ে যাচ্ছ! ‘আর পারি না’ কথাটা মণ্টু এত মজা করে বুক চেপে বলতো, মনে হতো, যেন বুকটা চেপে না রাখলে তক্ষুনি বেরিয়ে পড়বে । স্বাতীও পাল্টা বলল, --তোমার ফনোরমার খবর কি ? ফোনে প্রেম করত অনুরাধা , একসঙ্গে পড়ত , খুব লাজুক মেয়ে , কিন্তু ফোনে এমন সব কথা বলত , এখন ভাবতেও বেশ লাগে । স্বাতীর কথার উত্তরে বাবু শুধু ‘উ – ম ম’ করে একটা দীর্ঘ শব্দ করল, ফোন ছেড়ে দেওয়ার আগে ওরকম শব্দ করত অনুরাধা । ব্যাপারটা যে কী তা স্বাতী জানত তাই কথাটা ঘুরিয়ে দেয় ,বলে , --- আজ যে তোমার একটা মাত্র চিঠি এল ।
    ---- ‘তাইতো ! হটাৎ খেয়াল করে ঘড়ির দিকে তাকায় , তারপর করুণভাবে স্বাতীর চোখে তাকায় , -- চারটে ! অফিসে রয়ে গেছে চিঠিটা !’ বলেই ব্যস্তভাবে উঠে দাঁড়ায় বাবু ।
    ---- কী ব্যাপার ,  আবার অফিসে যাবে নাকি ? স্বাতীর প্রশ্নের উত্তরে নির্লজ্জের মতো বলে বাবু ,
   ----হ্যাঁ । স্বাতী খুব অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় বাবুর চোখে , যার একটাই অর্থ, সত্যি তুমি বদলে গেছ ।

         বাড়ি ফিরতে ফিরতে পাঁচটা বেজে গেল । মিনির সাজগোজ দেখেই বাবু ফিরে পেল তার পূর্বস্মৃতি যা সে ঘণ্টা তিনেকের জন্য হারিয়ে ফেলেছিল । বেচারি মিনি , বলে গিয়েছিল তৈরি হয়ে থাকতে, একসঙ্গে সিনেমায় যাবে ম্যাটিনিতে । সব ভুল হয়ে গেছে ওর । তবে মিনি যে সত্যি সত্যি তৈরি হয়ে থাকবে , এটতা ভাবে নি । মিনি তো এখন ওর সঙ্গে বেরতেই চায় না । ঘরে ঢুকতেই মিনি বলে , --- সিনেমা দেখে এলে ? মিনির প্রশ্নে সব অনুতাপ ভুলে যায় বাবু, নির্বিকার ভাবে মিথ্যেটাই বলে ফেলে , -- হ্যাঁ । শুধু হ্যাঁ-কে রাগের না ভাবতে পারে তাই বিশ্বাসযোগ্য করে বলল, অফিস থেকে সবাই যেতে বলল , তাই । মিথ্যাই যখন বলবে সত্যি কথাটা বললেই তো নাটক জমত ভাল করে । বাবু তা করে না । উত্তর পেয়ে মিনি বাবুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল ভাবলেশহীনভাবে । অবিশ্বাসী স্ত্রীকে ওর সহ্য হয় না । ভুলে গেল মিনি খুশি হবে বলে বন্ধ অফিস খুলিয়ে চিঠিটা নিয়ে এসেছে । সেই মিনি , মিনিকে এখন ওর এক করুণ ভিখিরির মতো মনে হল । ওর মিনি, প্রেম করা বউ মিনিকে ওরকম ভাবতে মন চায় না। তাই পকেট থেকে চিঠিটা টেবিলে রেখে ভিতরের ঘরে চলে যায় নিঃশব্দে । মিনির দিকে ফিরেও তাকাতে ইচ্ছে হল না ।
               কিন্তু ভিতরের ঘরে গিয়েই বা কোথায় নিশ্চিন্তি । দুটো তো মাত্র ঘর । বাইরের ঘরে চেয়ার টেয়ার কয়েকটা এবং লোক দেখানো  এটা সেটা সাজিয়েছে মিনি। ভিতরের ঘরই বেডরুম খাবার ঘর ভাঁড়ার সব কিছু, শুধু এক চিলতে রান্নাঘর আছে লাগোয়া । অন্য সময় রাগটাগ হলে বাইরের ঘরে এসে বসে থাকে বাবু।  আজ মিনি বাইরের ঘরে রয়েছে । ভাল্লাগে না এসব। এমন তো প্রায়ই ঘটছে । এর নাম কি নির্ভর করা! বাবু তো একে নির্ভর করা ভাবতে পারছে না , এ কেমনতরো হয়ে গেল মিনি । শুধু সন্দেহ করে । বাবুকে একা একা কোথাও যেতে দেবে না,নিজেও যাবে না , ভয় নয় একটা অশান্তির ভাবনায়ই বাবু মিনিকে মানিয়ে চলে। সেদিন, তাও ছুটির পর নয় , অফিস পালিয়ে কয়েক বন্ধু সিনেমা দেখল একটা, মিনিকে বলেনি। গোবিন্দ একদিন কথায় কথায় ব্যাপারটা জানিয়ে দিল ওকে । ব্যাস , আত্মপক্ষ সমর্থনের চান্স না দিয়েই তিনদিনের ফাঁসি হয়ে গেল  ওর। কথাবার্তা বন্ধ এক্কেবারে । আর একদিন, থাক আর একদিন, এরকম অনেক আরেক দিন আছে মিনির ।
          মিনিকে বলতে ইচ্ছে করে তুমি এরকম হয়ে যাচ্ছ কেন ? সেই দিনগুলি ফিরিয়ে দাও মিনি। আসামের গাঁইয়া কলকাতা গেছি । এই গাঁইয়া লোকটাকে শহুরে করার কত চেষ্টা করেছ তুমি । তোমার বন্ধু বাহিনী নিয়ে কত জায়গা ঘুরে দেখিয়েছ । বেলুড় মঠে বাদাম খেতে দাও নি, ব্যারাকপুরে গান্ধিঘাটে নৌকো চড়তে দাও নি । আর একদিন , শুধু তুমি আর আমি জয়গাছিতে গিয়েছিলাম তোমার এক বান্ধবীর বাড়িতে । হাবড়া ষ্টেশন থেকে সন্দেশ কিনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম , তুমি দাও নি, বলেছিলে ওসব এদিকে চলে না । তোমার শাসন তখন এত মধুর ছিল । এরকম প্রাক্তন সুখগুলির সঙ্গে এখনকার মিনিকে মেলাতে বড় কষ্ট হয় ওর । না, মিনি এরকম হতে পারে না , মিনিকে ও বুঝতে পারছে না , কোথাও একটা গণ্ডগোল হচ্ছে , বাবু ভেবে দেখল , আজ এমন হঠাৎ করে চটে যাওয়ার মানে ছিল না । এমন সময়ই , বাবু যখন মিনির জন্যে মমতায় আকুল হচ্ছিল তখনই একেবারে বাচ্চা মেয়ের মতো এঘরে দৌড়ে আসে মিনি । বাবুর হাতে চিঠিটা বাড়িয়ে দেয় । কোমরে দুহাত দিয়ে মুখে ফেটে বেরুনো খুশীকে ঠোঁটচাপা দিয়ে দাঁড়ায় ।চিঠির দিকে তাকানোর আগে মিনির দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা দেখল বাবু । শনিবারের ভাগ্যিটা এত সুন্দর ! একটু আগে স্বাতী ছিল , এত সুন্দর দুপুর , ঘরে মিনি, হয়ে গেল পুরনো মিনি । বাবু মিনির চোখে তাকায় বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে । মিনি বলে, -- কি দেখছ । বাবু বলে, -- ভাবছি ! মিনি ওর হাতের অর্ধেক খাওয়া সিগারেট টা টেনে নিয়ে বলে , -- কি ভাবছ ? বাবু বলে, -- ভাবছিলাম সন্দেশের কথা ।
              ---- কোন সন্দেশ ?
              ----সেই যে সন্দেশ আর আসে না ।
              মিনি খিলখিলিয়ে হাসে ।
        এই  সন্দেশ নিয়ে একটা মজার ব্যাপার আছে । মিনি দোকানিকে সন্দেশ আর রাধাবল্লভী দিতে বলেছিল । কলকাতায় কোনটাকে কী বলে জানে না বাবু । সন্দেশকে রাধাবল্লভী ভেবে খেয়ে নিল । তারপর দোকানিকে সন্দেশর কথা বলতেই মিনির খিলখিল হাসি । বাবু তো জানতে সন্দেশ মানে , ‘সুখে থাক’ বা ‘প্রাণসখা’র সাজে ক্ষীরের সন্দেশ ।
        সুখী মিনির চোখ থেকে দৃষ্টিটা এবার চিঠিতে সরিয়ে আনে বাবু । চিঠি কই , চিরকুট একটা একলাইনের , ‘রবিবারের সকালে প্লেনে আসছি’ ‘রঞ্জন’ । কোমরে হাত নিয়েই বাবুর আরো কাছে এসে মিনি বলল, --- ‘ফাজিলটা আসছে জ্বালাতে ।’ বাবু বুঝেও কনফার্ম – করার জন্যে মিনিকে বলল, -- ‘কোন রঞ্জন , এক পচপান্ন ?’
       ---- বাব্ব! তোমার এত মনেও থাকে ।
       ---ব্বা, এক পচপান্ন মনে থাকবে না ?
      ---ব্যাটা সিলেটি, জন্ম থেকে কলকাতায় , পঞ্চান্ন বলতে পারে না । মিনি হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ে । মিনির বন্ধু রঞ্জন কে বাবুর খুব পছন্দ । বড় প্রাণোচ্ছল ছেলে । মিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল ‘আমার ফেউ , রঞ্জন’ । রঞ্জনও মোটেই নার্ভাস না হয়ে বলেছিল , মাই টাইগ্রেস , আমার বডিগার্ড , এডিকঁ । তারপর বাবুকে শুনিয়েই মিনির কানে কানে বলে , তোর বাঘকে জাহাজটাহাজ দেখাবিনা , বলেই একটা ট্যাক্সি ডেকে  সোজা আউটরাম ঘাট । ভাড়াটা ওই দেয় , মিনি ওকে জিজ্ঞেস করে --- কত দিলিরে ? রঞ্জন বলে, -- ‘এক পচপান্ন’ । আর সঙ্গে সঙ্গে মিনি বাবুকে চিমটি কেটে নিজেই হেসে লুটোপুটি খায় । সেই রঞ্জন আসছে ।
         রঞ্জন আসছে । রোদের উমপাওয়া আদুরে বিড়ালের মতো মিনি বাবুর গায়ে গায়েই লেপ্টে আছে রঞ্জন আসার এই চিঠিটা পাওয়ার পর থেকেই । মিনি এত খুশি হয়েছে । আসল কথা কলকাতার মেয়ে নূতন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারছে না । ভরপূর্ণিমার পরের রাতই তো ঘুরঘুট্টি অমাবস্যা হতে পারে না । তাই রঞ্জন আসবে বলে একটু সাহসের উম দিচ্ছে । বাবুও এমন কিছু একটা চাইছিল । বাবুর সঙ্গে ঝগড়াটগরা করেও মিনি তেমন আনন্দ পায় না । শেষপর্যন্ত বাবুকেও হারিয়ে দেয় ।  রঞ্জন বা মিনি কেউই কখনও হারে না । ওরা কখনও সোজা ভাষায় কথা বলে না । মুখপুড়ি উল্লুক শুঁটকি হোঁৎকা এসবই ওদের সম্বোধন । বাবুরও রঞ্জনকে খুব পছন্দ । তার উপর এখন ওকে দেবদূত মনে হচ্ছে । এমন একটা সময়ে ও আসছে । খুশি খুশি মিনির চোখ তাকিয়ে বাবুর গলায় খুশির শিহরণময় একটা সুর গুনগুনিয়ে  উঠে । ‘ আজি মোর শূন্য ঘরে আসিল সুন্দর ।’ ভাবনাহীন ইচ্ছে চেপে সুরগুলি এসেও যায় বিনা নিয়ন্ত্রণে !
       রঞ্জন আসার খবরটা অনেক  সময় নিয়ে উপভোগ করে দুজনে । কোন কথা না বলে । শুধু সুখী সংলগ্ন সময় কাটিয়ে। মিনি বাবুকে কিছু বলতে যায়—কলিংবেলের আওয়াজে বাবু সুন্দরের আগমনী থামিয়ে বাইরের ঘরে আসে । মিনি ওকে সাবধান করে দেয় , আজ কোথাও বেরবে না কিন্তু ! দরজা খুলেই দেখে গোবিন্দ , ব্যাটা তুই ! তোমর না এ বাড়িতে আসা ববারণ , আমার বউ না মিশুকে না , আমাদের কলকাতা ছাড়া কথা বলে না, তবে কেন ? এসব কথা বাবু গোবিন্দকে মনে মনে বলে, প্রকাশ্যে বলে,--- কী ব্যাপার রে ? গোবিন্দ বলে, সোমবার অফিস যাবে না, বাবু যেন জানিয়ে দেয় । ‘আচ্ছা’ বলতে গিয়ে বাবুর মনে পড়ল সোমবারে ওরও যাওয়া হবে না হয়তো । রঞ্জন আসছে, কি প্ল্যানট্যান আছে ফজিলচন্দ্রের কে জানে ? তাই গোবিন্দকে বলে, -- আমিও যাব না রে !
       ব্যর্থমনোরথ গোবিন্দ যখন উঠবে উঠবে করছে তখনই মিনি চায়ের কাপ নিয়ে ঢুকল ঘরে । একি ! স্বপ্ন নু মায়াণ নু --- একি আমার বউ ? আমার বন্ধুর জন্য না বলতেই চা নিয়ে এসেছে , আবার গল্পও জুড়ে দিয়েছে । দ্যাখ, দ্যাখ ! গোবিন্দ , দেখে নে আমার ডাঁটিয়াল বউকে ! দাঁড়াও বউ ! তোমারও খুশির বেলুনটাকে  একটু পাঙচার করে দি এবার ।
      মিনিকে চটিয়ে দেওয়ার লোভটা হটাৎই হয় বাবুর ।গোবিন্দ চলে যেতেই বলে,---
     --- গোবিন্দ কেন এসছিল , বলেছে ?
    --- বলল তো কী একটা খবর ছিল ।
    --- খবর নয়, বল দুঃসংবাদ । রঞ্জন আসছে না ।
   --- ধ্যাৎ । মিনির আনন্দিত মুখটা বড় করুণ হয়ে যায় । বলে, --‘ফাজিল , ঘটা করে ফাজলামো করার মানে ছিল না, রবিবার সকালে প্লেনে আসছি।’ মিনি খুব সিরিয়াস হয়ে যেতেই , বাবু, নিজের মুখটাকে যথাসম্ভব দুঃখী বানিয়ে নেয় । মিনি বাবুর আরো কাছে এগিয়ে আসে, বলে, --‘আর কলকাতা যাব না কখনও।’ মনির চোখে আভিমানী মুক্তোবিন্দুগুলি টলটাল করছিল। বাবু ওর ভুল বুঝতে পারে, দুঃখী মিনির মুখের দিকে তাকিয়ে ওর অনুতাপ হয়, এরকম নিষ্ঠুরতা ওর উচিত হয় নি। এত সুন্দর মুহূর্তটাকে নষ্ট করে দিল সে । খেলা ভেঙে দেয় বাবু । মিনি অভিমানী পাখির দৃষ্টি নিয়ে তাকায় বাবুর চোখে,-- ‘তুমিও’।
      হতবুদ্ধি  বাবু মিনির বাঁ হাতটা ওর হাতে নিয়ে বারবার বলতে থাকে --‘আমার ভুল হয়ে গেছে মিনি।’
      মিনি ওর ডান হাতটাও বাবুর হাতে রাখে । বলে,--‘হ্যাঁ, হয়েছে তো আর এরকম করবে না।’ বাবুর সব দুর্দিনের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে মিনি আবার ঝলমলিয়ে ওঠে ।
       ইচ্ছে করে মিনিকে দুঃখী করেছিল বলে ওকে সুখী করার জন্য কিছু একটা করতে চেয়ে বাবু আলাপটাকে মিনিকে বলে—কলকাতা যাবে?
       --হটাৎ  যে ? মিনি সন্দেহের চোখে তাকায় ।
       -- না, বলছিলাম আমার তো ছুটি নেই, রঞ্জন আসছে । ওর সঙ্গেই কেন চলে যাও না? প্লেনে উঠিয়ে দেব, দুঘণ্টার তো মামলা । মিনি এবার বাবুর আস্তিন সজোরে খামচে ধরে বলে, --‘কেন যাব? রঞ্জনের সঙ্গে কেন যাব?’ সত্যিই তো, মিনি কেন রঞ্জনের সাথে যাবে? মিনির জবাবে বাবুর সারা শরীরে এক দারুন আনন্দের শিহরণ খেলে যায় । মিনির জবাবি মুখটায় তাকিয়ে নূতন করে দেখল মিনিকে । কেন যাবে মিনি, কেন যাবে রঞ্জনের সঙ্গে আমার মিনি ?
       একি সেই মিনি, যে মিনি বলত,-- তোমার তো কত চেনা জানা লোক কলকাতা যায়, বলে দিও, আমি একাই যেতে পারব ।
      তবু, আসছে রঞ্জন । কাল আসছে । ছেলেটা যেন একটা ঝড় । কি জানি কেন আসছে । মিনিকে লেখেনি । আর মিনি লিখে মাথা কুটলেও আসবে না, যদি ওর মাথায় খ্যাপা পোকাটা পারমিশন না দেয়, বাবু মিনিকে বলে,--
      ---এরকম অপ্রস্তুত করার মানে হয়, একদিনের নোটিশে !
      ---তোমার ভাগ্য ভাল নোটিশ দিয়েছে । তবু বাবু মিনিকে বলে,
      ---কী করা যায় বলতো? আমাদের ঘর দরের যা  ছিরি !
       মিনি নির্বিকার ভাবে বলে,-- ও একটা গাধা এবং গণ্ডার , ওর জন্যে ভাবতে হবে না, ও মাটিতে পাটি পেতে শোবে ।
      ---ধ্যাৎ, আমার বউ –এর বন্ধু , শালা বলে কথা , বলে বাবু ঘরের এটা সেটা টানতে থাকে । মিনি কাজের ছেলেটাকে ডাকে । একটা ছোট্ট খাট বাঁধা ছিল, তাই পেতে নেওয়া হয় বাইরের ঘরে ।
      ---প্রবলেম হলো বাথরুম নিয়ে । বড়ঘর দিয়ে যেতে হবে । বড়ঘরের লাগোয়া । ওঘরে তো মিনি আর বাবু । বাবু মিনিকে অসহায় ভাবে বলে--- কী হবে বলতো ? –-কিছুই হবে না  , বড়ঘর দিয়েই যাবে । মিনির উত্তরে সাহস পায় বাবু ,-- ঠিক আছে ঘর আমাদের যেমন আছে তেমনই থাকবে, রঞ্জন তো আর বাইরের লোক নয় ।
       মিনি বাবুকে তাড়া দিল আজ । ---নাও তৈরি হয়ে নাও , কিছু বাজার টাজার করতে হবে । ---তাইতো বাবুরও যেন মনে পড়ে যায় । এখানে এসে অব্দি বাজার টাজার করেনি, কাজের লোকটা যা এনে দেয় তাই । মিনিও তো বেরুতে চায় না । কোথাও যেতে চাইলে বলে, --ভাল্লাগে না । সিনেমা দেখতে চাইলে বলে, -- কোন ছবি ? নাম শুনে বলে, --ওটা আমার দেখা, বাজে ছবি ।
      কেনাকাটা সেরে রাত সাতটায় বাড়ি ফিরল দুজনে । মিনি বলে, --- আজ রান্নাবান্না করতে ভালো লাগছে না । বাবু কথাটাকে লুফে নেয় , বলে, --- চলো হোটেলে খেয়ে নিই, অনেকদিন খাই না ।

     শুধু হোটেলে খাওয়া হয় না । মিনির আগ্রহেই নাইট শো সিনেমা দেখতে যায় ওরা । বাবু বলেছিল, --- আজ গিয়ে কী করবে , কাল তো রঞ্জন আসছে, একসাথেই । মিনি বলে, ---‘না আমারা দুজনে দেখব ।’ এরকম ইচ্ছে তো বাবুর অনেক দিনের । শুধু মিনিই এরকম ছিল না ।
     সিনেমা শেষের পরও বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না মিনির । ভাবছিল , --- রাতটা শেষ হলেই ও আবার সেই একা মিনি হয়ে যাবে না তো ? তাই বাবুকে বলে, --- আজ সারারাত যদি আমরা বাইরেই কাটিয়ে দিই ?
    --- দারুণ হবে । পুলিশ ধরবে । জেল হবে ।
    --- ধরুক । মিনি কিছুই মানবে না ।
    --- কাল সকালেই রঞ্জন আসছে , এয়ারপোর্ট যেতে হবে না , রাতজাগা চেহারা দেখলে ভাববে ওর টাইগ্রেস খেতে পায় না বিয়ে হয়ে ।
    --- ঈশ! ভাবলেই হল । বাবুর কাঁধে মাথা রেখে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফেরে দুজনে । বাবু আর মিনি ।
    --- বাড়ি ফিরেও ঘুম হয় না । দারুণ কথার নেশায় পেয়েছে মিনিকে । অনবরত বলেই চলেছে এটা সেটা । বাবু ভাবে , -- এইতো আমার মিনি । পুরনো মিনি ।
        মিনি বলে,
 --- আমাকে নিয়ে তোমার খুব অশান্তি না গো ? একথার কী উত্তর দেবে ভেবে পায় না বাবু । খুব আদরে সোহাগে জড়িয়ে ধরে বলে,
 --- না গো না, তুমি খুব ভাল বউ যে আমার ।
        বাবু এবার মিনিকে সত্যি কথাটা বলতে একটুও ভয় পায় না
        ---জান , আজ দুপুরে সিনেমা যাইনি ।
        ---জানতাম । এও জানতো মিনি?
        --- মোটেই জানতে না , বলতো কোথায় গিয়েছিলাম ?
        --- অফিসের কোন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিচ্ছিলে ।
        --- মিলেছে, তবে বন্ধু নয় , বান্ধবী ।
        --- স্বাতী নিশ্চয় ? হাসি মুখেই স্পষ্ট উচ্চারণ করে মিনি । এত সহজে স্বাতীর নাম এই প্রথম মুখে আনল মিনি । কোন সন্দেহ বা ঈর্ষার লেশমাত্র আভাসও নেই কণ্ঠস্বরে । বাবু এত হালকা বোধ করছিল । বাবু ভাবছিল , আরো যেন কী মিনিকে বলা হলো না । এক মজার প্রগলভতায় পেয়ে বসে ওকে । আর একটা সত্যি কথা বলতে যায়, জানো মিনি, আজ যখন সকালে আমাকে সন্দেহ করেছিলে , তখন তোমাকে একটা ভিখিরির মতো ভেবেছিলাম । ওকথা বলা যায় না, তাই , বলে,--
        ----স্বাতী বলছিল, আমি নাকি বদলে গেছি ।
        ----বিয়ে করে তো ?
       ----ওরা তাই বলে । কিন্তু ওটাও সত্যি নয় মিনি ।
       মিনি বাবুর মুখে হাত দিয়ে খুব আদুরে গলায় বলে ,
       --- না গো, আমি তোমায় সুখ দিই নি একটুও, কেমন পাগলাটে হয়ে গিয়েছিলাম ।
      ---- মিনি আমার মিনি । মিনিকে আবেগে আশ্লেষে জড়িয়ে ধরে বাবু ।
      ----- আর কথা নয় এখন , শুয়ে পড়, ভোরে উঠতে হবে , রঞ্জন আসছে । বাবু মিনিকে বলে , কিন্তু ওরও শুয়ে পড়তে ইচ্ছে নেই একটুও । অনেক রাতই তো পাশাপাশি শুয়ে ঘুমিয়েছে দুজনে ।






শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৪

আমার উল্লসিত হওয়ার কোন কারণ নেই















ভিশপ্ত পাঁচটি বছর চলে যাওয়ার পর
যতই উঠুক রাম-শ্যাম-যদু-মধুর ঝড়
আমার উল্লসিত হওয়ার কোন কারণ নেই।।

আমার জাতিসত্ত্বা, বর্ণবাদের কু-ফল
বঞ্চনা, অবহেলা আর আপমান সয়ে সয়ে
আমাকে থাকতে হবে সেই তিমিরেই
যেখান থেকে আলোর দিশা খুঁজে পেতে
আমার পূর্ববর্তী কয়েক প্রজন্ম নষ্ট হয়েগেছে।



বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০১৪

প্রলাপ : এক গুচ্ছ কবিতা...



(C)ছবি



















 প্রলাপের প্রলাপ


ত্য  কথাগুলো  কথাগুলো প্রবঞ্চনা,

নিপীড়ন আর শোষণের জগতে
বার বার ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে হতে
কখন জানি প্রলাপ হয়ে যায়।

প্রলাপ - ১


শুধু জামা পরলেই লজ্জা ঢাকা যায় না

অন্তরবাসটাও জরুরী।

প্রলাপ - ২


একটির পর একটি বসন্ত এসেছে

চলেও গেছে চুপিসারে
বুঝিনি কোকিলের কণ্ঠস্বর এত মধুর।

প্রলাপ - ৩

চারদিকে শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদের অপলাপ।
আমরা একত্রিত কখন ছিলাম?

প্রলাপ - ৪

অমাবস্যার জ্যোৎস্না গায়ে মেখে
বসে আছি অস্তিত্বের অভ্যর্থনায়
ডুমুর ফুলের ডালি হাতে নিয়ে।

প্রলাপ -৫

কুকুর বেড়ালের লালায় ঠোঁট ভিজে আছে
মানুষ মানুষের চুম্বন ভালোবাসে না।


প্রলাপ -৬


বিদ্যুৎ চমকের পর অন্ধকার যেভাবে পৃথিবীকে দ্রুত গ্রাস করে

তেমনি তার হাত
যখন  অন্য আরেকটি হাত ধরে চলে যায়
আমার হৃদয়ের অলিগলিতে আঁধার নমে আসে
আর আমি ঠিক বুঝে নেই
পুঁজিবাদের পৃথিবীতে ভালোবাসাটাও
টাকা দিয়ে কিনে নিতে হয়।

প্রলাপ -৭


প্রতিদিন নিষিদ্ধ প্রেমিকারা ভিড় করে রাস্তায়

একটু প্রেমের আশায়
খেলা করে প্রেম রাতের আঁধারে
'অশ্লীল' বাস্তবতায়
জন্ম দেয় মূষল ধ্বংসের হাতছানি নিয়ে।

প্রলাপ - ৮


রাজনীতির (নাকি নীতিহীন) বিষাক্ত ছোবলে

নীল হয়ে যায় রোজদিন কত অজগর
মৃত্যু নিশ্চিত তবু শেষবারের মত
সবকিছু গ্রাস করে নিতে চায়।

প্রলাপ - ৯


ওরা  অমাবস্যার  আকাশেও  চাঁদ ওঠাবে কথা দিয়েছিল

অমাবস্যা এসেছে ঠিকই চাঁদের আলোটাই শুধু চোখে পড়েনি।
  
প্রলাপ -১০

প্রেম মধুর তবে অমৃত নয়

এ যে বিষ, পানে অমরত্ব লাভ হয়।

প্রলাপ - ১১


বিদায়ই যদি দেবে তবে চোখে জল কেন

হৃদয়ে আগুন জ্বালো, আগুন
অগ্নি স্ফুলিঙ্গে একটু স্নান করি আজ।

প্রলাপ - ১২


প্রেম প্রেম খেলা তো অনেক হল

এবার নাহয় ঝগড়ার ছলে ঝগড়া করি।

প্রলাপ - ১৩


স্বর্গের নয়, পৃথিবীর কথা বল বন্ধু

চাইনা অপ্সরাদের উত্তপ্ত শরীরী স্পর্শ; মায়া মদিরা
একটু ঐহিক যন্ত্রণা পারোতো দাও
দুটি ঘর্মাক্ত দিন সৃষ্টি  সৃষ্টি খেলায়।

প্রলাপ - ১৪


বিশুদ্ধ জল, বিশুদ্ধ বাতাস, বিশুদ্ধ আহারের মত

আজ বিশুদ্ধ হৃদয়ের বড় অভাব পড়ে গেছে।

প্রলাপ - ১৫



তুমি মানবী; মায়াবী বলেই

তোমার ফেসবুক স্ট্যাটাস
ক্ষণিকে শতকের ফোয়ারা ছুটায়
আর আমি  নিজের স্ট্যাটাস নিজেই আওড়ে যাই বারবার।

প্রলাপ - ১৬


গুণতে গুণতে একশ তো হবেই

শিশুপাল যত খুশি পাপ করে যাও।

প্রলাপ - ১৭


দোকানের পাশে ফেলা

শিখরের প্যাকেটের টুকরোর মত
কতদিন বল ছেড়া হৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকা যায়
বরঞ্চ হৃদয়হীন লম্পট হব
কোনদিন সুযোগ পেলে ।

প্রলাপ - ১৮


সব সময় ভলো হওয়াটা জরুরি নয়

মাঝে মাঝে মন্দও হতে হয় ভালোর জন্য।

প্রলাপ - ১৯


বিজ্ঞদের পাশ গলিয়ে একটু এগিয়ে যেতে গিয়ে দেখি

এ যে সব রুক্ষ ছন্দ ছন্দ খেলা
আমার ভাবনার শব্দেরা বুঝি এবার
ফিরতি ট্রেনে পাড়ি দেবে অজানায়।

প্রলাপ - ২০

আজকাল লিখতে গেলেই হোচট খাচ্ছি
ভাবতে গেলেই ধপাশ্
শোতে গেলে ঘুম আসে না
মনে হা-হুতাশ।

প্রলাপ - ২১


আমি মার্কস্ বুঝি না

বুঝি না লেনিন, স্টেলিন, মাও সে তুং
আমি বুঝি না বুদ্ধ, জিশু, কৃষ্ণ
বুঝি না হজরত মহম্মদ
আমি আমার মত করে গেয়ে যাব গান
গান মানুষের।

প্রলাপ - ২২


আমার স্বাস্থ্যবতী ফোনবুকটার দিকে খেয়াল করিনি অনেকদিন

তাই তার মেদ ঝরাতে হিমশিম খাচ্ছি আজকাল।

প্রলাপ - ২৩


শহুরে ফুটবল

ঝুল বারান্দার মাঠ পেরোয় না কখনো


প্রলাপ - ২৪


সুন্দরী যাত্রীর পাশে বসা কুৎসিত পুরুষটিও

নিজেকে সুপুরুষ ভাবে
উল্টোটাও হয় মাঝে মাঝে।

প্রলাপ - ২৫


রাম শ্যামের সাধ্য নেই দূর্নীতি হটাবার

আমরা মায়ের আঁচলও বেচতে পারি
টু-পাইস কামাতে।

প্রলাপ - ২৬


নবান্নের শীতেই বোধহয় জমে গেছে

বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলো
তাইতো 'বন্ধু'র পাতা আজকাল
কেমন যেন একাকীত্বের বিষন্নতায় মূক।

প্রলাপ - ২৭


প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িকতার সুড়সুড়ি দিয়ে যতই আমাকে উত্তেজিত করো

ধর্মাস্ত্রের খোচায় ক্ষতবিক্ষত করো বিবেককে, -
আমি আমৃত্যু 'অমানুষ' থেকে যাবো তোমাদের চোখে তবু ধর্মচাড়াল নয়।

প্রলাপ - ২৮



কত দিন আঁধারে ঢাকা পড়ে যায়

কত রাত হয় আলোকজ্জোল
অবিরত কোলাহল শুনি চারপাশে শুধু
কেঊ নেই; কেউ নেই পাশাপাশি
বড় একা এ দীর্ঘ পথ
যেন ফুরোবার নয় কখনো।

প্রলাপ - ২৯


এ পথ বড় ধূসর

পথে মানুষ মেলা ভার।
এ পথ বড় ধূসর
যে পথে মানুষ পাওয়া যায়।

প্রলাপ - ৩০


প্রেম দূর থেকে যতই মিষ্টি দেখাক না কেনো

কাছে গেলে ঠিক গোসাপের মত বিষাক্ত থুতু ছুড়ে দেয়
তাই নিরাপদ দূরত্বে থেকে আমার কবিতা লেখা।

প্রলাপ - ৩১


শিউলি ফোটা রাতে

শিশিরের ফাঁক দিয়ে যেই নাক বাড়িয়েছি
বারুদ আর মানুষ পোড়া গন্ধ
নাক ঝালাপালা করে দিলো।

প্রলাপ - ৩২


শ্মশানপুরীর স্তব্ধতা ভেদ করে কিছুক্ষণ আগেই বাড়ি ফিরেছি

শরীরে এখনো অশরীরি আত্মার গন্ধ।

প্রলাপ - ৩৩


পাছে ভোরের সূর্যটা না জোটে

আমি গভীর রাতেও ঘুমন্ত চোখ দুটো টেনে জেগে থাকি;
ঘুমিয়ে পড়লে স্বপ্নে বেঁচে থাকার আনন্দে মাতি।

 প্রলাপ - ৩৪


 শুভরাত্রি বলতে বলতে

বিদায় নেয় প্রতিটি মুহুর্ত
বিদায় নেয় ভালোলাগা প্রতিটি সময়

আমি অবসন্ন,

তবু জেগে থাকি অনন্তকাল ধরে
তোমার অপেক্ষায়।

প্রলাপ - ৩৫


নেতা শব্দের একটি প্রতিশব্দ হতে পারত গিরগিটি

অথবা গিরগিটির একটি প্রতিশব্দ নেতা।

প্রলাপ - ৩৬


আজ প্রতিবাদ মিছিল, হরতাল

রক্তচক্ষুর হুঙ্কারে থরথর কাঁপে রাজপথ।
আজকের প্রতিবাদী পুরুষের হাত
একদিন ঠিক কেড়ে নেবে কোন নারীর সম্ভ্রম।

প্রলাপ - ৩৭


আজ আমার মৃত্যুদিন তাই

সারা রাত ধরে প্রলাপ বকে যাবে
শোকার্ত আত্মা।

প্রলাপ - ৩৮


ভালোবাসা’র যাঁতাকলে শ্বাসরুদ্ধ 

হয়ে যাচ্ছি ক্রমশ।
খানিকটা বিশুদ্ধ ঘৃণা, বিদ্রূপ ছুঁড়ে দাও
আমি অতেই লুটপুটি খাব
যত্নে মাখাবো গায়।

প্রলাপ - ৩৯


যুগ যুগ ধরে দামিনীরা নিজেদের জীবন দিয়ে

পুরুষের চেতনায় কিছুটা আঁচড় কেটে যান শুধুমাত্র
এরচেয়ে বেশি কিছু নয়।
আঁধার নামবে রাজপথে আবারো কোনদিন
আবারো কোন এক দামিনীর শরীর
ছিড়ে খাবে মানুষখেকো হায়নার দল।


প্রলাপ - ৪০


ভোট উৎসবের প্রাক্কালে যুবারা ক্রীড়ামোদি আর

প্রৌঢ়রা হয়ে উঠেন ধর্মাসক্ত।

 প্রলাপ - ৪১


মানুষের সম্পর্কের মত

আজ পৃথিবী জুড়ে শীতলতা
ধ্বংসের মুখ দেখেই তবে উত্তাপ নেবে।

প্রলাপ - ৪২


ভয়ে জড়সড়

চলি জনতার উৎসবে
ভয়ে জড়সড় জনতা
কাঁদে গণতন্ত্র ত্রাসে।

প্রলাপ - ৪৩


শিক্ষিত সব ডিগ্রীধারী ভোটের খেলায় বিরত

দেশের ভার গাধার পিঠে
তাই পিছড়ে পড়ি অবিরত।

প্রলাপ - ৪৪


একটি মধ্যরাত থেকে আরেকটি মধ্যরাত

হাজারো মনের অলিগলি ঘুরেফিরে যখন
হিসেব কষার পালা
দূর দূর পর্যন্ত কোথাও ভালোবাসা বলে কিছু নেই আর
তাই কবিতা তোমায় নিয়েই আমার পথ চলা
ভালোবাসা উজাড় করে দেবো তোমায়
কথা দাও তুমি ভালোবাসা হয়ে ধরা দেবে
শুধু ভালোবাসা হয়ে আমার ডাইরির পাতায় পাতায়।

প্রলাপ - ৪৫


আষ্টেপৃষ্ঠে জঞ্জাল জড়ো হয় প্রতিদিন

হয়তো নিজের অজান্তেই কোনদিন ডুব দেব তাতে
আমি অসহায় চেয়ে থাকি শুধু।


প্রলাপ - ৪৬


আমার মা'ও বাংলায় কথা বলেন

আর তাই ৫২, ৬১, ৭১, ৭২, কিংবা ৮৬
সব মিশে একাকার আমার ধমনীতে।
শাহবাগ তুমি আমাকে খুঁজে নিও
দামাল প্রজন্মের ভিড়ে।

প্রলাপ - ৪৭


ছুঁবো না ছুঁবো না বলে তারে যত দূরে ঠেলে দেই

তত বেগে সে কাছে ছুটে আসে
তার পর জীবন হয়ে যায়।

 প্রলাপ - ৪৮


দেশ, সীমান্ত বদলায় শুধু

বদলায় কখনো মুখোশ
রক্তচক্ষুর শাসানিতে নাভিশ্বাস ওঠে সর্বত্র
আমি তুমি সংখ্যালঘু হয়ে 'বেঁচে' থাকি
মৃত্যুর সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে।

 প্রলাপ - ৪৯


গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলে সময়;

তুফানী মিছিল মৃত মানুষের।
পৃথিবীর সব সুখ নিংড়ে নিয়ে
ঘরে ফেরে ফিরতি মৌসুমি হাওয়া,
অসুখ অসুখ সর্বত্র মিছিল অসূখের।
স্বপ্ন তবু ঠিক বেঁচে আছে এখনো
একমুঠো তরতাজা শাহবাগে।

 প্রলাপ -৫০


নিষিদ্ধপল্লী, নিষিদ্ধ বই, নিষিদ্ধ খাবার;

নিষিদ্ধ ব্যপারগুলোতে আমাদের বড্ড ঝোক
তাই নিষিদ্ধ নয় শুধু
উপড়ে ফেলে দিতে হবে শেকড়সুদ্ধ বিষবৃক্ষ
ধুয়েমুছে সাফ করে দিতে হবে হৃদয়।

প্রলাপ -৫১


বিয়ে হল চুইঙ্গামের মত

প্রথমে ভীষণ মিষ্টি তারপর .........।

প্রলাপ - ৫২



ভাবনায় ভাব গদ্গদ বক্তৃতায়, না জানি কত টাকার ফোয়ারা ছুটিয়ে

তোমরা নারী দিবস পালন করো;
শুধু নারীকে মানুষ বল না।

প্রলাপ - ৫৩


সুখগুলো সব আড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে তবু

আমি অসুখ অসুখ চোখে প্রেমের কবিতা পড়ে যাব।
 
প্রলাপ - ৫৪

নীরব বন্ধুর চেয়ে ঘোর শত্রু ভালো

অন্তত বুঝে নিতে পারি যে বেঁচে আছি।

প্রলাপ - ৫৫


এই তো আছি দিব্যি সুখে হেসেখেলে

কি লাভ বল ভালোবেসে জ্বলেপুড়ে।

প্রলাপ - ৫৬


কবিতারা প্রেমের মত

চাইলেই ধরা দেয় না,
আবার না চাইলেই কখনো ধরা দেয় ভালোবাসা হয়ে।

প্রলাপ - ৫৭


মাঝে মাঝে বুকের ভেতর যেন

অনেকগুলো হৃদয়ের অস্তিত্ব টের পাই।
মনে হয় একটি অন্যটির থেকে পুরোপুরি আলাদা।
একটি হৃদয় ভাবে সে মুসলমান;
একটি ভাবে হিন্দু; আরেকটি...।
এভাবে এক একটি হৃদয় যেন এক একটি ধর্ম
ভালোবেসে বসে আছে।
তবে আরো একটি হৃদয় আছে আমার
সে সম্পূর্ণ আলাদা
যে কিনা প্রতিনিয়ত ভালোবাসা ঢেলে দেয় সর্বত্র
তাই আমার হৃদয়ে কোন ঘৃণা নেই।


প্রলাপ - ৫৮


আমি নিশ্চিত

আমৃত্যু তোমার কাছাকাছি থেকে গেলে
একদিন ক্রম ধাবমান মৃত্যুজাল
ছিড়ে  ঠিক বেরিয়ে আসব।  


প্রলাপ - ৫৯


আগুন নিয়ে কেই বা খেলতে চায়

তবু আগুন নিয়ে খেলতে গিয়েই
রোজ হাত পোড়ায়।


প্রলাপ - ৬০


স্বাধীনতা ঈশ্বরের মত

জানি ওটা নেই,
জানি ওটা হয় না
তবু নির্দিষ্ট দিনে ঠিক ধুপ-ধুনা জ্বেলে দেই
তারপর স্বাধীন বলে গাজন গাই।

প্রলাপ - ৬১



ভাবছি কালির দোয়াতটা ঝেড়ে

ধুয়ে মুছে তাকে তুলে রাখবো,
কলম খাতায় দেবো চাবি
চৌর্যবৃত্তির দায় মাথায় উঠার আগেই
ছুটি দেব কবিতা তোমায়।


প্রলাপ - ৬২


সমাজটা টুকরো আয়নার মত
সামনে থেকে মনে হয় হাজারটা চেহারা সাথে আছে
পেছনে ফিরলেই ধু ধু
শুধু একা আমি দাঁড়িয়ে।

প্রলাপ - ৬৩


বড় ভীতু ঈশ্বর চেলারা
যুক্তির বদলে খঞ্জর উঁচিয়ে ধরেন
বুলেটে ঝাঁজরা করে দেন বিরুদ্ধ পাঁজর।

প্রলাপ - ৬৪

প্রতিরোজ, প্রতিমুহূর্ত যে কথাগুলো আমি ভাবি
তা সব মনের গভীরে চাপা পড়ে যায় অহরহ
যে কটা মনের ফুটো দিয়ে বেরিয়ে পড়ে
তা তো প্রলাপ হয়ে যায়।

আর যা কিছু বলি সে তো তোমাদেরই কথা

যে কথাগুলো তোমরা শুনতে চাও

প্রলাপ - ৬৫

বাতাসে কান পাতলেই আজকাল
ধর্মাসুরের পদধ্বনি শুনি
নাক নিলেই ঝাঝালো সাম্প্রদায়িক গন্ধ।
আমি শুধু চেয়ে দেখি রোজ
মানচিত্র ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায়;
ডুবে কাদায় মানুষ অহরহ। 

প্রলাপ - ৬৬

নির্দল করে করে
চলেই তো যাচ্ছিল বেশ,
একদিন চোখ মেলতেই দেখি
অজান্তেই ঢুকে গেছি
কোন এক দলে আমিও।

প্রলাপ - ৬৭

হাত পিঠে রাখলেই মরম স্পর্শ
পা ঠেকালেই লাথি,
ডান হাত দিলে চল হ্যান্ডশেক করি
বাম দিলে, হাতটা সরাও
ছিঃ নোংরা তুমি
এভাবেই প্রতিদিন নিজের সাথেই
করে যাই হেলাফেলা!
কখনো ভাবি সাম্যবাদ;
সমতা, এগুলো নিছক কয়টি বর্ণ সমষ্টি মাত্র
এরচেয়ে আর বেশি কিছু নয়।

প্রলাপ - ৬৮

কোন এক অজ পাড়া গায়
নেতা, পাতিনেতার পায়ের ধূলো পড়লেই
বুঝে নিতে হবে ভোট উৎসব আসন্ন।

প্রলাপ - ৬৯

ঈশ্বর ঈশ্বর বলে যতই চেঁচামেচি করি
আমরা আসলেই এক একটা আস্তো নাস্তিক।


প্রলাপ - ৭০

কেজরিওয়াল কেজরিওয়াল কেজরিওয়াল
আম জনতার চোখের মণি
ভ্রষ্টাচারের বক্ষভেদী তীব্র আলোক মশাল।

প্রলাপ - ৭১

আমার দুটো দেশ,
আমার দুটো স্বাধীনতা দিবস,
আমার একটি হৃদয়
ভালোবেসে যাবো নিরন্তর।

প্রলাপ - ৭২

কাউকে জন্মদিন জীজ্ঞেস করলে
যদি উত্তর আসে
ইংরেজি বর্ষের প্রথম দিন,
আপনি ধরে নিতেই পারেন
লোকটি মিথ্যেবাদী।

প্রলাপ - ৭৩

ক্ষমতার দম্ভে সব মমতাও
একদিন ঠিক ফিকে হয়ে যায়।
অন্ধ মমতা দেখেনা
সেও তো প্রতিরোজ ধর্ষিতা
প্রতিটি দলবদ্ধ ধর্ষণে।

প্রলাপ - ৭৪

অন্ধকারের বুক চিরে দুঃস্বপ্ন রাত যত গাঢ় হয়
আর আমি ভাবি একাই ডুব দেব বিষণ্ণতায়।
দেখি আরো অসংখ্য বিষণ্ণ হৃদয়
ঠিক বসে আছে সহযাত্রীর অপেক্ষায়।

প্রলাপ - ৭৫

তোরা একটুকু চুপ কর
গোসাপের মুখে বিষাক্ত থুতু
তফাতে সরে পড়।

প্রলাপ - ৭৬

এখন মরশুম ভোট উৎসবের
তাই 'নেতা' 'পাতিনেতা'রা
শারদীয়া কুকুর-কুকুরীর মত।

প্রলাপ - ৭৭

অভিষেক হবে পিশাচের
তাই চারিদিকে হই হোল্লোড় নগ্ন নৃত্য;
দৈত্য-দানব আর যত অমানুষী আত্মার।

প্রলাপ - ৭৮

রোজগেরে ভোটের দিনগুলো
দ্রুত ফুরিয়ে যায়,
নির্বাচন শেষে আমরা তো সেই -
"পুনর মূষিক ভবঃ"

প্রলাপ - ৭৯

মন বিষাক্ত সব পোকার ঘর
ভাদ্র মাসের রোদে দাও।

প্রলাপ - ৮০


সমালোচনার খোঁচা যারা সহ্য করতে পারেন না
তারা কেউই আসলে মানুষ নয়।


প্রলাপ - ৮১


নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে পারলে
ঠিক 'বেঁচে' থাকা যায়।

প্রলাপ - ৮২


বাজারে ফেয়ারনেস ক্রিমের কাটতি চড়া
তবু পৃথিবীটা বড় কুৎসিত।


প্রলাপ - ৮৩

শত শত শায়িত স্বপ্ন কবর খোঁজে আজ
শত শত রাক্ষুসে মুখে আজ বিকৃত হাসি। 3.5.14


প্রলাপ - ৮৪

দুঃস্বপ্নের রাত পাড়ি দিয়ে কবে তুমি
শান্ত কলি ফুল হয়ে ফুটবে......! 4.5.14

প্রলাপ - ৮৫

প্রাতঃরাশ থেকে নৈশভোজ 
থোকা থোকা ফরমালিন
ভাবছি এখানেই পিরামিড বানাব 
তারপর হব মমি।

প্রলাপ - ৮৬


দুর্বল ঈশ্বর খোঁজে
সবল চালায় হাতুড়ি।

প্রলাপ - ৮৭


ষোড়শীরা কখনো কুৎসিত হয় না।


প্রলাপ - ৮৮


কিছু মৃতদেহ রোজ চুপিসারে চিটি রেখে যায়
আমার ইনবক্সে
কিছু মৃতদেহ আজও ভীড় করে
আমার কনটাক্ট লিষ্টে
শুধু মৃত চোখ দিয়ে চিঠি পড়িনি কখনো
কখনো খুজিনি মৃত বন্ধুদের।

প্রলাপ - ৮৯

এক একটা মর্টার সেল
প্রতিদিন আমাদের বিদ্ধ করে
এক একটা রকেট লঞ্চার
ধ্বংস করে মানবতা। 

প্রলাপ - ৯০


আজাকাল ছারপোকা, আঠালি, জোকের
বড় বাড় বেড়েছে, 
মাথায় মাথায় ঘুরছে সবার; 
সুযোটা পেলেই চড়ে বসবে সিংহাসন
তারপর তোমার আমার চুষে নেবে সব রক্ত।

প্রলাপ - ৯১

গোপালের গন্ধ নেব বলে
যেই নাকের কাছে নিয়েছি
একটি গোলাপী কীট 
ভেঙ্গে চুরমার করে দিল সব রঙ্গিন স্বপ্ন ।

প্রলাপ - ৯২


জন্মান্ধ সব বেড়াজাল টপকে একদিন ঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যায়। আর ধর্মান্ধ চলার পথে অহরহ আষ্টেপৃষ্টে কাদায় জড়িয়ে ফেলে নিজেকে...।


প্রলাপ - ৯৩


বুকের ভেতর আগলে রাখা
গোলাপগুলো প্রতিদিন
তিলে তিলে শুকোয়
তোমার প্রতীক্ষায়...।


প্রলাপ - ৯৪
বিখ্যাত কিংবা কোন এক কুখ্যাত
প্রতিবেশি হলে সাহিতা চর্চাটা দারুণ গতি পায়।



প্রলাপ - ৯৫

মোবাইল ফোনটা সাইলেন্ট মুডে রেখে
প্রেমিকেরা নিসঙ্গ ঘুরে রাস্তায়



প্রলাপ - ৯৬
একদম হঠাৎ করেই যদি বাড়ির লোকেরা বলতে শুরু করেন
রোগা হয়ে যাচ্ছি
ধরে নিতে হবে স্বাস্থ্যটা ভালো হচ্ছে।



প্রলাপ - ৯৭

দারুচিনির কৌটায় অসংখ্য পিঁপড়ের ডিম।



প্রলাপ - ৯৮


অপ্রিয় মুখগুলোর মৃত্যু
কামনা করতে করতে
একদিন চেয়ে দেখি হারিয়ে ফেলেছি সব প্রিয় মুখ।



প্রলাপ - ৯৯



বিবেকহীন দেহটাকে আর কতকাল বয়ে বেড়াব
তার চেয়ে চল পুড়িয়ে ফেলি, পুড়িয়ে ফেলি দেহটাকে।




প্রলাপ - ১০০

প্রথমে সাম্প্রদায়িকতার
তারপর রাজনীতিটা শান্তি কমিটির
'আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে...।'



প্রলাপ - ১০১



সব সূখ তারল্যে 
তারল্যেই সব শক্তি
পাড়ায় পাড়ায় অলিতে গলিতে সর্বত্র 
ব্যস্ত যুবা কিশোর সব শক্তির আরাধনায় 22/10/14



প্রলাপ ১০২


উত্তরে ছিল যারা 
তারা আরেকটু উত্তরে সরে গেছে 
দক্ষিণমেরুতে যারা তারা আরো দক্ষিণে মাঝখানে আমি রোজ 
শুধু টুকরো টুকরো হই 
নিজের অজান্তে। 28.10.14



প্রলাপ - ১০৩

মোল্লা পুরুত যাজক সবগুলাই
এক একটা আস্ত নাস্তিক
ধর্মটা তো শুধু তোমার আমার।


প্রলাপ - ১০৪

তক্কিটা আমি আগেই পকেটে পুরেছি
আজ দাড়িটার সাথেও দিলাম আড়ি
তবুও ভয়ে ভয়ে দিন যায়
জেহাদির লিস্টে নাম না উঠে যায়।


প্রলাপ - ১০৫

সদ্য ধর্মচ্যুত আর পুরোনো কমিউনিস্ট 
দুজনেই অদ্ভুত
প্রথমজন পুরোনো ধর্মকে
যাচ্ছেতাই গালি দেন আর
অন্যজন ব্রহ্মভোজ্যির পর
হাত পাতেন ভোজন দক্ষিণার জন্যে ।

প্রলাপ - ১০৬

কবিদের হাজারটা প্রেমিক প্রেমিকা
বড্ড সাধ ছিলো কবি হব
পারলাম কই...!!!

প্রলাপ - ১০৭


ক্রিকেট হউক বা না হউক
কিস্যু আসে যায় না
বেটিংটা তো চলবে ইচ্ছেখুশি,
চলুন শুভ্র নিশান উড়িয়ে
বলি জয় শ্রী বিসিসিআই।


প্রলাপ - ১০৮

নিশিকুটুম্বেরাও আইনজীবীদের মত
কর্মস্থলে কালো পোশাক পরে।


প্রলাপ - ১০৯

চৌরাস্তার মোড়ে অথবা বাসস্টপের পাশে
যে ছেলেটি রোজ পেঁয়াজী,
পোকড়া, গরম চাট বিক্রি করে
সে কখনই ক্রেতাদের মন যোগাতে পারে না।


প্রলাপ - ১১০

পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ মিথ্যা
দুষ্কৃতির প্রতি পুলিশের আশ্বাস
সব স্বীকার করে নিলে ছেড়ে দেওয়া হবে।


প্রলাপ  ১১১

যতখুশি গালাগাল দাও
নীরবে সহ্য করে যাব;
আর না হয়
দূরে সরে যাব ভালোবাসা ভেবে,
আর আমার প্রতিবিম্বটাকে
ভালোবেসে যদি তোমার এই বিষোদ্গার;
তবে জেনে রেখো একদিন
আয়নার সামনে তোমাকে দাড়াতে হবে।


প্রলাপ  ১১২

আমার প্রিয় তিনটি জায়গা
রান্নাঘর, পায়খানা আর 
তোমার আঁচলের এক কোণ।


প্রলাপ  ১১৩

...... ঈশ্বরেচ্ছা ছাড়া একটি ধূলার কণাও নড়ে না...
ঈশ্বরের মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা
তাইতো রোজ
এত এত খুন,
এত এত ধর্ষণ। 


প্রলাপ - ১১৪


প্রতি মুহূর্তে অজান্তেই 
পরিচিতি হারিয়ে ফেলছি ,
পরিচয়হীনেরা আদৌ মানুষ থাকে ...!!!
(১০/০২/১৫)



প্রলাপ - ১১৫ 

যখন যখন এক একটি দম্ভস্তম্ভ ধ্বসে পড়ে
আমি ভেতরটায় লক্ষ হৃদয়ের উল্লাস টের পাই
ইচ্ছে হয় ময়ূরের মত নাচি। 
(১০/০২/১৫)





প্রলাপ ১১৬

মরলেই শুধু অমর হওয়া যায়।


প্রলাপ - ১১৭

গাদা গাদা বই গিলেও
গ্রন্থকীটেরাই তো সাম্প্রদায়িক গন্ধ ছড়ায়।



প্রলাপ - ১১৮



আমরা সবার প্রিয় হতে হতে একদিন
নিজের কাছে অপ্রিয় হয়ে যাই। 


প্রলাপ - ১১৯


যত পারো তিক্ততা দাও
আমি হৃদয় পেতে নেব,
মিষ্টিতে মধুমেহের ভয়
তেতো স্বাদ দীর্ঘজীবি


প্রলাপ -১২০



পরীক্ষায় বারবার ফেল করা
ছেলেটির বাহুতে সরস্বতী কবচম্ ছিল 
একটু আগে গাড়ির চাকায় পিষ্ট লোকটির 
অনামিকায় ছিল সংকট মোচন আংটি।


প্রলাপ - ১২১


কমিশন মানে 
জনতার কন্ঠরোধী সাইলেন্সার, 
কমিশন মানে ধামাচাপা দেয়া 
শত্রুর হাতিয়ার।



প্রলাপ- ১২২



বুকের পাজরগুলো 
আরো কোমল করে তুলো
চাপাতি ভোতা হয়ে যাবে আপনি, 
চলুক ব্লগিং.....।



জলপাই রঙা পোশাক আর
হাতে রাইফেল নিয়েই শুধু
সৈনিক হওয়া যায় না
আমরাও তো সৈনিক জীবন যুদ্ধের
বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে
হাসি ফোটাই সহস্র প্রাণে।