“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০১৬

গুচ্ছ কবিতা






 


















 ।। চিরশ্রী দেবনাথ।। 
( ১লা মে, ২০১৬তে দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত)


মিশ্রগুচ্ছ
..............
এক
গুলঞ্চ বেলা
.....................
ভীষণ গভীর রাতে
মধ্যবিত্ত শহরের খোলা ছাদগুলোতে
জমা হয় শহরের সব বিশ্রী মেয়ের প্রেম
তারা রঙ মাখে, চুল বাঁধে, চুলে দেয় গুলঞ্চ ফুল
সেইসব প্রেমেরা গুছিয়ে বসে ফিসফিস করে
শহর জেগে গেলেই আবার তারা
ঢুকে যায় ঘুপচি মেয়ের গহ্বরে
প্রতিরাতে  এভাবে তারা বুড়ো হয়
তারপর এক গরীব দুপুরে
মেয়েরা  তাদের প্রেম বেঁচে দেয়
সমাপ্তি সঙ্গীত গায় একটি মেয়ে
বাকি মেয়েরা দেখে দিনে দিনে
শেষ হয়ে আসছে গুলঞ্চ ফুলের ঝোপ.....

দুই
মাংসাশী সুর
....................
মাংস কাটার দোকানের কাছে বসে আছে
এক পরিযায়ী বেহালাবাদক
ছাল উঠছে, রক্ত ঝরছে টুপটাপ
বেহালায় জ্যোৎস্না সুর,চোখ বন্ধ
পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে মাংস কাটার গান
ছাল উঠছে, রক্ত ঝরছে টুপটাপ
বসন্তের পশুরা সার সার গান শুনছে
ঝরে ঝরে পড়ছে লোম, পোকা
সোনালি চামড়ায় ভেসে যাচ্ছে মাংস
সোনালি ছাল জমছে আর জমছে
বেহালার সুরে এবার শুধু
  ঘুমিয়ে পড়ার গান, ঝরা লোমের গান.....

তিন
মনখারাপের রিংটোন
...............................
কোন এক ভূমিকম্পের নবীনভঙ্গুর
পর্বতমালায় একটি কুটির আমাদের
সামনে বহতা রাস্তা
প্রহরে প্রহরে কেঁপে ওঠে মাটি
বদলে যায় রাস্তা, দৃশ্য, বারান্দার চেয়ার
শুধু একটি ঝর্ণা পুরনো, 'মনখারাপের '
এতো এতো বার মাটি কেঁপে ওঠে
ঝরনাটি  তবু ঝরতেই থাকে .....
তার একটিই শুধু রিং টোন ....

চার
মহাবলীপুরম্
.....................
সপ্তম শতাব্দীর তীরে ভেসে আসা একটু সমুদ্রক্ষণ
পল্লবসাম্রাজ্যের হীরকদুপুরে
অগোছালো একটু বিংশ মানবী
পাথর চিনেছে সবই
ধাতব নূপুর, সুগন্ধ পুষ্পবাস
পায়ের ছাপে কড়কড়ে বালিপতন
সুনামির ঝড়ো শ্বাস
আর
.........এই তো সেই পালিয়ে যেতে থাকা মেয়েটি....
পাঁচ
কাঞ্চীপুরম্
..................
এতো রুক্ষ তুমি আগেও ছিলে
এখনো তোমাকে ছুঁয়ে আছে আগুন বালিচ্ছায়া
অর্জুন রথের সব যুদ্ধ খেলা, বর্শা আঘাত
একটুও রক্ত দেয়নি আমায়
কোমরবন্ধনীতে শুধু চুবিয়ে গেছে ধীর ক্ষয়
কোন প্রাকসন্ধ্যায়, মনে করো সন্ধ্যার ফিরে আসা
চন্দ্রগ্রহণে দিয়ে যাওয়া ঝিনুক পোশাক, মুক্তোগ্রাস .....

ছয়
ভেলোর ফোর্ট
.......................
বসন্তের শেষ  চারণভূমিতে
অদক্ষ কালিদাসের শ্লোকসন্ধ্যা
দুর্গের প্রাকার থেকে
বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ঘুমন্ত রাত
ঘাস ঘাস সঙ্গিন চরণে হেঁটে গেলাম গ্রানাইট শরীর
পাথরের গরম শ্বাস, পরিখার জল
ভিনদেশী রোদ তিনটি হাতে মেলেছে জলপাখনা
সমুদ্রহাওয়ায় কুমকুম শুকিয়ে শুকিয়ে অশরীরী
এক দেবদাসী বন্ধু পাপ করেছিল
তার গচ্ছিত এই পদ্মপাপ
আমারি কাছে আছে সযতনে
ঘুরে ঘুরে এসেছি ফিরে
এক  ভুল তরবারির কাছে
স্তব্ধ হয়ে আছে ঝনঝন
ঝরাবো তাকে হাজার সন্ধ্যা পরে
ভিনদেশী মেয়ের অবাধ্য লালিত শাসিত অক্ষরে ...


কোন মন্তব্য নেই: