.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬

সিপিয়া রঙ সময়

 ।। দেবলীনা সেনগুপ্ত।।
(C)Image:ছবি

















ময়ের রঙ এখন সিপিয়াএই সিপিয়া রঙের সময়ে
কোন কথা বোলো না
চুপ করে থাকো আর
চোখে রাখো নিরীহ নিরীক্ষণ
সতর্ক শ্বাপদের মতো
পার করো প্রহরার ক্ষণ
সমস্ত প্রশ্নচিহ্ন
বিকলাঙ্গ ভাসিয়ে দাও
প্রশ্নহীন আনুগত্যে
নতজানু সভ্যতার কাছে
শোন, কথা বোলো না
দেখো, কথা বোলো না
গুণে রাখো পাতাদের অসহায় খসে পড়া
তারাদের অকাল পতন
শস্যক্ষেত্র জ্বলে গিয়ে বধ্যভূমি হওয়া
ভুলে যাওয়া অনাবিল স্বাধীন চারণ
এই বিপ্রতীপ সত্য সব
আগুন ও লাভা হয়ে
জমা থাক বুকের ভেতর
ইতিহাসের  পাতায় লিখো
অসহ্য উদগীরণ
ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির
জ্বলন্ত স্বাক্ষর।
(অন্যদেশ, ডিসেম্বর,২০১৬)




মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৬

নারী

 ।। মনোজিৎ দত্ত ।।
(C)image:ছবি

















মি -
পৃথিবীর সবচেয়ে স্রোতস্বী নদী
তোমায় উৎসর্গ করলাম
তুমি -
দুঃখ ভাসিয়ে দিও
সবচেয়ে গম্ভীর পাহাড়
আজ থেকে তোমার
তুমি ওখানে সুখ এঁকে রেখো
আমার প্রিয় হলুদ পাখীটা
আজ তোমার নামে ছাড়লাম
ওর পাতলা নরম ঠোঁটে
তোমার স্বপ্ন গুঁজে দিও।
এর পর তুমি এসো ...
নারী জানতে চাইলো ... কোথায়?
ঐখানে -
যেখানে ... পাহাড়
নদীর সঙ্গে কথা বলে ... একান্তে
যেখানে আমার হলুদ পাখী
টুপটাপ ডুব দেয় নদীতে ...
নারীতো বিস্ময়ে হতবাক ...
তবে কেন নয় এখন?
পুরুষ হেসে উঠে ...
জানো না বুঝি ...
নারীরা সুখ-দুঃখ-স্বপ্নহীন
হলেই ... বেশী রমণীয় হয়
অতঃপর নারী আসলো
নদীতে ডুব দিলো
দুঃখ গায়ে মাখলো আবার ...
পুরুষ স্তম্ভিত ... একি!
নারী -
জল-রঙে ছল ছল হেসে উঠে
... সুখ স্বপ্ন তোমায় দিলাম
... দুঃখটা আমারই থাক
হারাবার ভয় নেই




মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৬

আমরা ভারতবাসী

.. ..আমরা ভারতবাসি......... .

পেটে ক্ষুধা,মুখে হাসি-
.........দেশ'কে তবু ভালবাসি,
বেঁচে থেকে বানে ভাসি--
........মরে গেলে স্বর্গবাসী,
আমরা কিনা ভারতবাসি!

বিয়ের পরে "মা" দাসি,
.....,.বউ'কে ভীষণ ভালবাসি,
প্রতিবছর ঘুরে আসি--
.......পূণ্য পেতে গয়া কাশি,
আমরা কিনা ভারতবাসি!

গুণের চেয়ে গুণী বেশি,
........মুসলিম'রা ত বাংলাদেশি,
সীমান্তে যারা রক্ত খায়;
.......তারাই কিনা প্রতিবেশি?
ভোজন সেড়ে ফিরে আসি--
......আমরা কিনা ভারতবাসি!

সাদা'র চেয়ে কালো বেশী,
.........নেতা'রা সবাই পূর্ণশশী,
কাজের চেয়ে কথা বেশী--
.......বিড়াল কিনা বাঘের মাসি?
আমরা কিনা ভারতবাসি!

চুর ডাকাত পাশাপাশি--
...........গণতন্ত্র সর্বনাশী,
নীর্বাচনে "মা" আর "মাসি"--
.......সত্তা পেলে গরু পুষি?
আমরা কিনা ভারতবাসি!

আদেশ করি যখন খুশি,
,.......ইচ্ছে মতন হাওয়ায় ভাসি,
বাপের মাল,দেশ কাঙ্গাল--
............চতূর্সীমা ঘুরে আসি,
আমরা কিনা ভারতবাসি!

প্রতিশ্রুতি পেয়ে খুশি,
.......ঠকে গিয়ে কপাল দোষি,
মায়াপদ্মে সর্প লুকায়--
......মারে ছোঁবল প্রাণনাশী?
আমরা কিনা ভারতবাসি!

জনসংখ্যা অনেক বেশী,
........ধর্মের নামে মরেই খুশি,
অস্ত্র নয় কলম দোষী--
..........আমি এবার সন্ত্রাসী ;
আজ্ঞা পেলে ঘুরে আসি--
.......দেশ"কে সবাই ভালবাসি |

...............সোজা মজুমদার...........




শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৬

ভারত মাতার জয়

(সোজা মজুমদারের কবিতা। ভালো লাগল তাই তুলে দিলাম)
















কালো টাকা সাদা হয়,
......মাকে খুঁটোয় বাঁধা হয়,
প্রেমে সবাই রাধা হয়--
.....গুণ্ডা কিনা দাদা হয়,
জয়!"ভারত মাতার জয়!
ছেলেদের পূজা হয়,
.....মেয়েরা ত বোঝা হয়,
ধর্মের নামে সাজা হয়--
......অপরাধী রাজা হয়,
জয় "ভারত মাতার জয়!
বউয়ের কথায় নৃত্য হয়,
.........পিতা মাতা ভৃত্য হয়,
অভাগী "মা লাইনে রয়--
......ছেলে দেশের প্রধান হয়,
জয়! "ভারত মাতার জয়!
কৃষক সবাই ভুখা রয়,
......মালিয়ার ঋণ মুকুব হয়,
আবর্জনায় ডেংগু হয়--
.........পরিষেবা পঙ্গু হয় ,
জয়!"ভারত মাতার জয়!
ধর্ষকের হুম হয়,
.....প্রতিবাদী গুম হয়,
গরিব দেশে পাঁচশো কোটির--
........বিয়ের কিনা ধূম হয়,
জয়!"ভারত মাতার জয়!
কত মানুষ জবাই হয়,
.......পশু নিয়ে লড়াই হয়,
দেশ ডুবে ঋণের দায়ে--
.....মাতাল কিনা গোঁসাই হয়,
জয়!"ভারত মাতার জয়!
জনগণের অধিনায়কের জয়,
.......দ্বিধায় আছি জয় কিনা পরাজয়,
মৃত্যু যেথায় দুধ ভাত---
.......বেঁচে থাকাই সংশয়,
তবু ও জয়!"ভারত মাতার জয়!





বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৬

অর্চিষ্মান

।। অনিমেশ দে ।।
 
(C)Image:ছবি














কা মোমবাতিটা জ্বলছে ফাঁকা ঘরে
নেভাতে গিয়ে দেখলাম
একটা মানুষ-
মাথা নুয়ে বসে আগুনটার মাঝখানে
তাকে ঘিরে নীল শিখা।
একটু একটু করে পুড়ে যাচ্ছে
ছাল, মাংস, হাড়;
গড়িয়ে পড়ছে আঠালো রক্ত
ছড়িয়ে পড়ছে ধাঁধালো অর্চি
হঠাৎ শুনতে পাই
অস্ফুট একটা চিৎকার
                       যন্ত্রণা কাতর
আর পাখার ছটফটানি
মোমবাতিটার ঠিক নিচে
একটি আধপোড়া পতঙ্গ
পতঙ্গটিও কি অর্চিষ্মানকে বাঁচাতে গিয়ে
আত্মাহুতি দিল?