Sponsor

.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

Friday, April 28, 2017

গলিত সময়ের স্বপ্ন

   

     গোলাপের কাঁটার আঘাতে
      ক্ষত বিক্ষত হ্দয়
     অবক্ষয়ের বন্যায় ভাসে
      অজস্র জীবন
   
       দালির ক্যানভাসে আঁকা
       গলিত সময়ের স্বপ্ন দেখে
       লাস ঘরে ফেলে রাখা
       সারি সারি নিথর মৃতদেহ়,,,,,,
      

Thursday, April 27, 2017

ফুটপাতের পাগলি

            ।। রফিক উদ্দিন লস্কর।।

আকাশপানে চেয়ে দেখো  উড়ছে কালো মেঘ,
সে মাটির সাথে মিলবে এবার সবই করে ত্যাগ।
আকাশেরই ভাব দেখে ফিরছে ভয়ে সবাই ঘরে,
ঝড় বাতাসে বাজি রেখে পাখিরাও নীড়ে ফিরে।
ঝমঝমিয়ে আকাশ থেকে নামে শিলাবৃষ্টি ধারা,
হাটের পাগলিটা রইছে দেখি ফুটপাতেতে খাড়া।
গায়ে মোড়া ছিন্ন চাদর জলে ভিজে একাকার,
নিকষ রাতে বিদ্যুৎ চমকায় আশ্রয় নেই তার।
গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলে হোটেলের পাশে,
পেটের খিদা হয়েছে প্রবল কিছু খাবার আশে।
গুড় গুড় আকাশ,চারিদিকে শুধু জল আর জল,
খাবারের তাগিদে বেরিয়ে পড়েছে শিয়ালের দল।
পুলিশের গাড়ি টহল দিচ্ছে জলমগ্ন রাজপথে,
চোরের দল বেরিয়ে পড়ে হয়তো বা মাঝরাতে।
পেটের খিদায় আর ঠান্ডায় পাগলিটা কাতরায়,
আধারের সাথে বলছে কথা হাতের ইশারায়।
নাক ডাকিয়ে শয়ন করে  বাবুরা সোনার খাটে,
চাষির মনে মহানন্দ এবার ফসল ফলবে মাঠে।
শুধু পাগলিটার নেই মনে কোন আশার সঞ্চার,
রোদে মেঘে ফুটপাতে সে বোবা কিংবা চিৎকার।
সে কারো মা,কারো বোন, কারো বিবি নিশ্চয়,
ফুটপাতে দিনরাত, কেউ খুঁজেনি তার পরিচয়।

অজানা ব্যথা

(C)Image:ছবি
















।।  রফিক উদ্দিন লস্কর ।।

ঞ্চল মন তাই সারা দিন ঘুরে ভাবনার জগতে,
উদাস মনে নির্বাক হয়ে, চলছে সে কোন মতে।
মনন যুদ্ধ চলে সারা বেলা, তবুও হয়নি কিছু,
অজানা ব্যথা,কত কিছু কথা থাকে পিছু পিছু।
কত বিরহে দিন কাটে হায়! ভাবি বসে একান্তে,
রয়েছি পড়ে নীলাকাশের নীচে,ধরণীর ঐ প্রান্তে।
কেউ দেখেনি, কেউ শুনেনি হৃদয়ের আর্তনাদ,
কত আর সহি এতো জ্বালাতন, ধৈর্য মানে না বাঁধ।
জন্ম থেকে ভাসিয়ে চলেছি শুধু বেদনার সাগরে,
এখনি পাইনি কূল, হয়েছে পথ ভূল রয়েছি পড়ে।
লোহিত সাগরে তরী ডুবুডুবু, বইছে পাগলা পবন,
দিকভ্রান্ত মাঝি,তাকিয়ে দেখে সামনে মহাপ্লাবন।
আঁধার গ্রাসিছে আলো, এখনো বাকি অনেক পথ,
সাগর গর্জনে দুরুদুরু বুক, ভাঙামন হারায় হিম্মৎ।
সুদূরবিস্তৃত পথ, পাড়ি দিতে হবে একাকী এবে,
চুরমার করে শত ঢেউ তীরের দর্শন মিলবে কবে!

                         **********
২৭/০৪/২০১৭ইং
নিতাইনগর,হাইলাকান্দি(আসাম)

Wednesday, April 26, 2017

সন্ধিসুধা

(C)Image:ছবি

।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন।।

স্কুলপাঠ্য বইয়ে  সন্ধিবিচ্ছেদ অধ্যায়ে 'গো' বিষয়ক দুটো শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ করতে প্রায়ই ভুল করতাম ৷ গো + অক্ষ = গবাক্ষ এবং গো + এষণা = গবেষণা ৷  গবাক্ষ মানে জানলা ৷ গবেষণা মানে কোনো বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান ৷ অর্থ যাই দাঁড়াক আমার সমস্যা ছিল সন্ধি বিচ্ছেদ নিয়ে ৷ তবে এই অর্থসূত্র ধরেই বাবা আমাকে এই দুটো শব্দের ব্যাপারে আমার সন্ধিবাতের বেদনার উপশমের উপায় বাৎলে দিয়েছিলেন ৷ গবাক্ষ শব্দের উৎস 'গো' 'অক্ষ' মানে গোরুর চোখ  থেকে ৷ আর 'গো' 'এষণা' অর্থাৎ গবেষণাকর্ম এতোই কষ্টকর যেটা ঠাডা দুপুরে গোরু খোঁজার মতো কষ্টকর ৷ প্রসঙ্গক্রমে একটা গল্পও শুনিয়েছিলেন ৷ গল্পটা এরকম - এক গৃহস্থ তার দুধেল গাভিটি হারিয়ে ভাদ্রমাসের রোদের মধ্যে বনবাদাড়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে এলেন ৷ দাওয়ায় বসে কাতরস্বরে বউকে ফরমায়েশ দিলেন, এক ঘটি খাওয়ার জল দাও না গো, মা! রান্নাঘর থেকে গিন্নি গজগজিয়ে উঠলেন - মিনসের কী মাথাটাথা খারাপ হইছে নি কীকর্তা উত্তর দিলেন, ভাদোমাইয়া দুফরে গোরু হারাইলে কথার আগামাথা থাকে না রে বইন ৷ বলাবাহুল্য এর পরে আমার আর  এ দুটো শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদে ভুল হয় নি ৷
         গোরুর আধার প্রযুক্ত হওয়ার প্রস্তাবে মনে হচ্ছে সন্ধিবিচ্ছেদের অধ্যায়ে আর একটা শব্দ যুক্ত হতে চলেছে ৷ শব্দটি হবে 'গো' + আধার = গবাধার ৷ গোরুর আধারকার্ডের এই নামকরণ যদি হয় না জানি কী পেরেসানিতেই পড়বে নতুন প্রজন্মের পড়ুয়ারা

নীলাকাশকে: ব্যক্তিগত কথামালা


।। পার্থসারথি দত্ত ।।

(C)Image:ছবি










হে আত্মজা,আমার কথা বলা,এতটা পথচলা
তোর জন্য সকলই রেখে গেলাম...
সময় হলে ফেলে আসা হলদে রঙের ডায়েরিখানা
খানিকটা খুলে দেখবে...
রেখে আসা সংকীর্ণ  মেঠো পথেই
তুমি খুঁজে  পাবে সুবিশাল  সড়কের সীমারেখা...


Tuesday, April 25, 2017

এক পশলা বৃষ্টিপাতের পর

।। পার্থ সারথি দত্ত।


(C)Image:ছবি

   












 কাঁপছে জল
    কাঁপছে পাতা
    কাঁপছে  ঝাউবন,ঘাসপাতা
                   
    আকাশ আছড়ে
    পড়ছে জলের ওপর
    কাঁপছে আমার চোখ
    কাঁপছে চোখের পাতা
    কাঁপতে কাঁপতে
    ডুবে যাচ্ছি আমি
    জলের  ভেতর
    জলের ভেতর
     স্বপ্ন আছে
     স্বপ্নের ভেতর
     যেমন থাকে জল...৷৷


    
                   ♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥

Saturday, April 22, 2017

সং মশাল

II শমীক চৌধুরী  II




(C)Image:ছবি





















যাবতীয় ভালো লাগা
নিমেষে বিষাক্ত হতে পারে..
মুহূর্তে ভেঙ্গে যায়
গডে উঠা সাম্রাজ্য

কোলাহল স্তিমিত হয়
শোকসভা পালনে..

মোমবাতি আজ
প্রতিবাদী স্মরণের অঙ্গ..

আজ আর দেখা যায় না
জঙ্গলে  জোনাকি...
জ্বলে না পতঙ্গের রং মশাল...

Friday, April 21, 2017

কৃষ্ণা চৌধুরীর স্মরণে



প্রয়াত কৃষ্ণা চৌধুরী (চক্রবর্তী)

কৃষ্ণা চৌধুরী শুধু পুণ্যপ্রিয়দার জীবন সঙ্গিনী ছিলেন না। আমাদের ছাত্রাবস্থাতে মুক্তনারীর প্রতীক ছিলেন। পুণ্যপ্রিয়দাই কি শুধু শিলচর সানগ্রাফিস্ক নামের বিখ্যাত ছাপাখানার মালিক মাত্র, যেখানে বিদগ্ধরা বই পত্রিকা ছাপান? আমাদের স্কুলজীবনে যারা বিকল্প ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, কৈশোর তারুণ্যের দিশা দেখিয়েছিলেন তাঁরা সেকালের সেই সব দামাল যৌবনের প্রতিভূ ছিলেন। দেয়াল ভাঙ্গা, জলে কাদায় ঘেরা স্কুলে , দরিদ্র পরিবার থেকে পড়তে যাওয়া আমার মতো অনেক যখন ঘরে-বাইরে-পাড়ায় শহরে নিজেকে প্রত্যাখ্যাত অপর বলে ভাবত--- তখন এরা সেই সব প্রত্যাখ্যাতদের অধিকারের আর মর্যাদার গল্প শোনাত আমাদের স্কুলে স্কুলে গিয়ে। এরা প্রথম জীবনে এস এফ আই করেছেন, পরে ডি য়াই এফ করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সংগঠনে শেষমেশ যোগ দিই নি। আমার পথ হয়েছিল অন্য। সে প্রসঙ্গও অন্য। কিন্তু পথটাই ধরা হত না যদি পুণ্যপ্রিয়দা, শুভপ্রসাদা, সনৎ কৈরি, অরূপ চৌধুরীদের বক্তৃতা শোনার অভিজ্ঞতা না হত। হ্যাঁ, পুণ্যপ্রিয়দার বক্তৃতাতে একসময় শহর শিলচর কাঁপত। একালের তরুণদের সেসব জানবার কথা নয়। তাঁর থেকে ভাল বক্তৃতা কেউ করতে পারত না। পরে যৌথ আন্দোলন করতে গিয়ে তাঁকে দেখে শোনে আমি কিছু কিছু বক্তৃতা করা শিখেছিলাম। বলতে পারি। বক্তৃতা করা এক কথা। আর লোক দাঁড় করিয়ে রেখে দেয়া আর কথা। পুণ্যপ্রিয়দা তাই পারত। তার উপরে পুণ্যপ্রিয়দা ছিল একজন দক্ষ সংগঠক। 
                         
সপুত্র কৃষ্ণা চৌধুরী (চক্রবর্তী)
কিন্তু আমি তো বলছিলাম কৃষ্ণাদির কথা।
যেখানেই, যে স্কুলে কলেজে তারা যাচ্ছেন, সভা করছেন স্লোগান দিচ্ছেন তিন মহিলাকে দেখা যেত , যেতই । তাঁদের সঙ্গে বলছেন, স্লোগান দিচ্ছেন, পোস্টার লিখছেন, সাঁটছেন--- এদের মনে হত অবিচ্ছিন্ন। এই কৃষ্ণাদি, প্রতিমা দি (এখন আশুদার স্ত্রী) আর জবাদি। আমরা যে 'দুষ্ট' সহচরদের সঙ্গে বড় হচ্ছিলাম---সেখানে নারী যে স্বতন্ত্র মর্যাদার মানুষ---সেই শিক্ষা তো বিশেষ হচ্ছিল না। এরা আমাদের মনে সেই মর্যাদা বোধ জাগিয়ে তুলছিলেন, আর গড়ে তুলছিলেন এই বোধ---যে সমাজে নারী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, নেতৃত্ব দিতে পারে না, মর্যাদার আসনে বসতে পারে না---সেই সমাজ কখনো শোষণ মুক্ত, সভ্য, আদর্শ সমাজ হতে পারে না। আমরা সেই সমাজে বড় হয়েছি যেখানে মেয়েদের বাড়ির বাইরে বেরোতে গেলে হাজার প্রশ্নের জবাব দিয়ে বেরোতে হত। আর গৃহবন্দি মেয়েদের দেখতাম পরনিন্দা পরচর্চা আর নইলে হাজারটা সংস্কারের বেড়াজালে বন্দি। সেখানে কৃষ্ণাদিদের দেখে মনে হত---তাদের যারা প্রশ্নবিদ্ধ করবেন---তারা খুব সুসভ্য নন, সুজনতো ননই। তাঁরা আমাদের জীবনে দেখা প্রথম কিছু 'আদর্শ নারী' ছিলেন না, ছিলেন নারীর 'বিকল্প আদর্শ'। সে এক সময় ছিল। পুণ্যপ্রিয়দারা সেই সময়কে ধরে রাখতে পারলেন কি না, এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন কি না---সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। আমরা কেউ পারি নি। সব আমাদের হাতে নেই। কিন্তু ভাগ্যবান যে তাঁরা পরস্পরকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন।

আরো পড়তে পারেন

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...