.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

বিন্দুরা যে পথে

।। অভীক কুমার দে ।। 


(C)Image:ছবি

















.
বৃষ্টি। 

একেকটি বিন্দু নেমে আসছে।
বড়- ছোট- মাঝারি গঠন। 

ছন্দ বৃত্তের।
.
বিন্দুরা যে পথে নেমে আসে
সব পথ এক নয়,
মেঘা লয়ে সুর আর তাল বুঝেই...
.
তরলের তরল গোলক।
গোলকের কাছে গোলকের মেঘলা- ভাবনায়
ভেজা অভিমান আছে জানি,
এই অভিমান কখনও শীত কখনও কাঁটা।
.
নেমে আসার পর
বিন্দু বিন্দু জড়িয়ে যে পথে গা ভাসায়
সে পথেই গোলকের ছন্দবৃত্তি।
.
এপার ওপার সমানে ভিজে গেলে 

অবুঝ দেয়াল ভিন্ন তাপমাত্রায় পোড়ে...



সংসার

।। সুমন পাটারী ।।



(C)Image:ছবি











মি পারতাম, আচ্ছা বেশ--
এদিকে আসুন, এই আমার আর্তনাদময় সদর দরজা,
পা রাখুন, গা ছমছম করছে!
না, সামনে আসুন, এখানে এটা গোবরস্তুপ,
গন্ধ নয় আতর, আরেকটু আসুন,
এই এখানে আমার রান্না ঘর,
চুলার ধোঁয়া, প্রায়ান্ধ মার ইন্দ্রিয়,
কেঁচোর আখড়া,
এখানে ইটের স্তূপ,
এনে রেখে দিয়েছি দুবছর হলো, ঘর হয়নি,
আরেকটু আসুন, ওনাকে দেখে ভয় পাবেন না,
পিসিমা, জন্মপঙ্গু,
ভয়ঙ্কর শব্দে কাশছে বাবা,
ওদিকে যাবেন না, চ্যালা চ্যালা কফ, মাঝে রক্ত,
এদিকেই আসুন, এই আমার ঘর,
এই বন্ধন ব্যাঙ্কের সাপ্তাহিক বই,
রগরগে চোখে বলছে কাল শুক্রবার,
এগুলো দেখবেন না,
বন্দী আমার যৌবন বিলাস,
ঝলসে যাবেন এতো তাপ,
মায়ের গয়না নেই,
বেঁচে বোনের বিয়ে দিয়েছি,
ওনাকে বানিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন
ঐ পিতলের তালায় আটকে রেখেছি,
এখানে জমি বন্ধকের কাগজ,
এখানে, সুদ। আসল ধানক্ষেতে।
জানালা খুলবেন না, দানব ঝিঁঝিসুর,
এই আমি মিছিলে যেতে পারিনি,
এই আমি বন্যা দুর্গতদের জন্য কিছু বলতে পারিনি,
এই আমি আপনার স্তাবক হতে পারিনি,
পার্টি অফিস, এই আমির জন্য কোনো অর্থ রাখছে না
কারণ বাবা ও পিসির ওষুধ, মায়ের গয়না আমাকেই করতে হবে।



(বাইখোড়া দঃ, ত্রিপুরা )




সঙ- সার


অভীক কুমার দে



















.
মার শূন্যতা আর তোমার মায়াবী নীলে আমাদের আকাশ...



জীবন এক কবিতানদী


।। অভীক কুমার দে ।। 


























.
ব্দরঙ বিভাজিত হলে জীবন এক কবিতানদী...
.
জল মাটি আলো বাতাস আর শূন্যে যখন প্রেম
কেউ কবি শব্দ শোনে কবিতার,
মনের ভাষা একা হাঁটে সৃজনের পথে।
.
হাতেগোনা দিনরাত পথ দেখাতে এলে
একেকটা পঙক্তি বার্ধক্যের চিত্র আঁকে,
বদলে যাওয়া অবয়বে নদীর বর্ণহীন সারাংশ।
.
সারাংশ থেকে উঠে আসে জীবনের পরিভাষা,
যেখানে দলবদ্ধ বর্ণনার নীলে বাস করে শূন্যতা।
.
হয়তো শূন্যতাও কোন গোপনীয়তা জানে,
তাই বুঝি আকাশের সব শব্দ নীল...




কবি


।। সুমন পাটারী ।।


(C)Image:ছবি














সিলেবাসে থেকে কবিতা হয় না
কবিরা তা জানে,

তাই কবির কেউ থাকে না,

যে কবিতা গুলো বুকে চেপে
রাত রাত জেগে রেখে আসেন
ঘুমন্ত মানুষের দরজায়!

সকালে সবাই নিজজ্ঞানে নিরক্ষর।

নিজের লাশ কাঁধে নিয়ে একা হেঁটে যায় 

কবি তার বিলাপবহুল বাড়ির দিকে....



অন্তঃসারশূন্য


 


 ।।অভীক কুমার দে ।।
.
রে যাবার আগে একেকটি পাতায়
কালো কালো বিন্দু জমা ক্যান্সার,
শিরার কাছাকাছি টিউমারের মতোই জেগে থাকে
বিচ্ছিরি এটা সে'টা...
সত্যি সব স্বপ্নই মজবুত ছাঁকনির খাঁজে
কিছু সুখের কিছু অসুখের মেঘঢাকা চাঁদ
অন্তমিলহীন চলচ্চিত্রে
ঝুলন্ত লাশের মতোই আটক ঘটনা,
ছায়ার ছায়া জেগে থাকে একান্ত ছায়ায়...
.
বিচ্ছেদ সুর বেজে ওঠার আগেই যৌবনরঙ
টিকে থাকে না মায়াঘন রোদে,
তবু হেলায় খেলায় শেষবেলায়
হলুদ চোখ
খোলা আকাশ
অন্ত
একেকটি পাতায় কিছু সবুজ তখনও থাকে
যেটুকু শেষ ঝাঁকুনির পর অন্তঃসারশূন্য...

মিল খোঁজে ঝরে যাবার আগে;



আমার স্বপ্ন






                                              



  




।।  বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ।।

মার স্বপ্ন সুপুরি পাতায় পিছলে পড়া
আমার স্বপ্ন গাঙের উপর সাঁকোয় চড়া
আমার স্বপ্ন ধানের ছড়ায় সোনালি আভা
আমার স্বপ্ন গেঁয়ো পথের তরল লাভা
আমার স্বপ্ন নামতা পড়ার সুরের ধ্বনি
আমার স্বপ্ন কাঁঠাল পাতার ছবিখানি
আমার স্বপ্ন পথের শেষের অধ্যয়ন
আমার স্বপ্ন শেষ প্রহরের ফুল চয়ন
আমার স্বপ্ন ভবিষ্যতের রঙিন আশা
আমার স্বপ্ন দূরদূরান্তে হাওয়ায় ভাসা
আমার স্বপ্ন বন্ধু বদল, গজল-মিড়
আমার স্বপ্ন বাবুই পাখির স্বপ্ননীড়
আমার স্বপ্ন অনন্তকাল অপত্য সুখ
আমার স্বপ্ন অর্ধ আকাশ, চাঁদপানা মুখ
আমার স্বপ্ন ভাঙল যখন ভোরবেলায়
অবসাদ আর একাকিত্ব- দোরগোড়ায়
- - - - - - -



বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

দুটি কবিতা

|| অভিজিৎ দাস ||

পার্থক্য

জল ভরা বালতি
বালতি ভরা জল
এক নয় 

প্রথমটা বললে
বন্যার কথা মনে আসে

দ্বিতীয়টা বললে
মনে আসে পায়খানার কথা 

একইভাবে
তুমি ভরা আমি
আমি ভরা তুমি
এক নয়

প্রথমটা বললে
একজন কবি চোখে ভাসে
দ্বিতীয়টা বললে
পাগলিনী !



রিক্সা

রিক্সায় কোনো আয়না থাকেনা
কেউ কেউ পরে লাগান
পেছনে আসা গাড়ি দেখতে নয়
পেছনে বসা যাত্রী দেখতে
যখন ছোরা মারেন পেছন থেকে কেউ
তখন তাঁদের চেহারা যেমন হয়
অনেক রিক্সাওয়ালাই সেটা দেখতে ভালোবাসেন ।




কালকথা- ৪১

(C)Image:ছবি



















।। অভীক কুমার দে ।।
.
বিতা হাঁটছে,
রবি- দুখু মিঞার এলাকা পেরিয়ে অসময়ের গলিপথ,
তারপর ঋতুর বর্ষাভেজা মাঠ,
প্রতিটি লাইন একে একে নামছে আর পলিপথে হাঁটছে।
হয়তো কবিতা জানে--
মাঠ পেরুলেই বসতি আছে কারো,
যেখানে খেজুর পাতার ঝুপড়িতে বাস করে
কোনো স্বদেশ আর স্বাধীনতা।
.
ঝুপড়ির ভেতর অসাম্যতায় নকল কাজলরেখা বেঁকে গেলে
আর্তনাদে ঘেমে যায় শব্দবোধ,
পথ হারায়, তবু কবিতা হাঁটছে...
হয়তো কবিতা জানে--
ছন্দের রঙ খুঁজতে খুঁজতেই কাকভোর যেখানে
সেখানে ভাতের বদলে বিনে- পয়সার কনডম আসে এবং
বন্ধ ঘরে একছিদ্র পোতাশ্রয় গন্ধ ছড়ায়...
.
কবিতার ক্লান্ত শরীর স্বদেশের আনাচেকানাচে স্বাধীন,
যদিও রক্তচাপের থিতানো সুর আর
পরিচয়ের প্রভাতফেরি--
শেষ নেই...
রাত শেষে অসুখের মরা কান্নার পর
একেকটি লাশ গণনায় বেড়ে গেলে
দূরে কোথাও শোনা যায় ভূপেনবাবু গান--
'.... একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না...'



মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

সমর্পণ


।। অভীক কুমার দে ।।

(C)Image:ছবি























নাটকের মতোই অবিকল সমর্পণ।
কবেকার অচেনা কেউ সমর্থন দিয়েছে বলেই অস্থির ঢেউ,
মুখোমুখি তোমার- আমার ঈশ্বরছায়া...
.
মহানগর থেকে খবর এলে--
পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ-- সুখ থাকে না কোথাও,
আমার পাহাড়েও অবস্থানের কৌণিক অসুখ।
দরদামের দাপাদাপি আর ঋণাত্মক অবসাদ
বেলার পর বেলায় পা বাড়ালেই
একবুক হাঁড়িজল ভারি হয়,
তখন দেশীয় মাধ্যাকর্ষণের কৌতূহলী টান
জলেরদরেই টেনে নিয়ে যায় মৃত্যু নামের অদৃশ্য স্বাধীনতায়...
.
আসন- ভাষণে প্রতিদিন শাসনের পেটে শোষণ জন্মায়,
দাগ রেখে যায় অগণিত লাশের কাছে...