.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

( = নমামি বরাক ঃ উৎসব প্রাঙ্গণ জনসমুদ্র =
 ছয় মাসের মধ্যে পাঁচগ্রামের পেপার মিল চালু হচ্ছে ঃ মূখ্যমন্ত্রী )
= দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম =
  ——এম রিয়াজুল আজহার লস্কর——
@
নামামিতে বৃষ্টি হয়নি ভাগ্য ভালো বড়ো।
মন্ত্রীনেতা গায়ক নায়ক সবাই হলো জড়ো।।
লোকারণ্যে বাঁধটি খুশির ভাঙ্গা হলো জানি।
আলোর বন্যায় ঝিকিমিকি বরাক নদীর পানি।।

পাঁচগ্রামেতে সর্বা এলেন হেলিকপ্টার চড়ে।
বরাকটাকে ভাসান তিনি প্রতিশ্রুতির ঝড়ে।।
মূখ্যমন্ত্রী আমজনতার আরজ শোনেন নানান।
পেপার মিলটা হচ্ছে চালু দৃপ্তকন্ঠে জানান।।

পেপার মিলের কর্মচারী আছেন বড়ো ফাঁদে।
দশটা বছর হয়নি বেতন বাচ্চা বিবি কাঁদে।।
ধর্না মিছিল শত দিলো দুঃখ বুকে জমা।
সবার কাছে মূখ্যমন্ত্রী চেয়েই নিলেন ক্ষমা।।
@
( নির্ভেজাল সংবাদ পরিবেশন করে “ দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম ” )
১৯/১১/২০১৭



( মহারাষ্ট্রে নিজের হাতে তৈরী চিতায় আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করল ৯০ বছরের বৃদ্ধা )
= দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম =
 ——এম রিয়াজুল আজহার লস্কর——
@
ঘরের মধ্যে নিজের চিতা তৈরী করল খোদ।
আত্মহত্যা করল তাতে পেল না কেউ বোধ।।
নব্বই বছর বয়স হবে মহারাষ্ট্রের লোকটি।
কাণ্ড এমন ঘটল কেনো রাজ্য জুড়েই শোকটি।।

কাম্বলে দাদু নামটি তার যে একলা ঘরে থাকত।
সেই ঘরে রোজ ভোরে তার যে নাতনি এসে ডাকত।।
সেদিন ভোরে জাগেনি সে, অনেক হল গরজা।
পাড়ার মানুষ জমল এসে ভেঙ্গে ফেলল দরজা।।

দরজা ভাংতেই মিলল দেখা চিতায় বুড়ি জ্বলা।
আত্মহত্যার ঘটনাটি থানায় হল বলা।।
‘হয়তো মনে দুঃখ ছিল ’ পুলিশ বলে এসে।
তদন্ত খুব চলছে সেথা মামলা হল শেষে।।
@
( নির্ভেজাল সংবাদ পরিবেশন করে “ দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম ” )
১৮/১১/২০১৭




শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

সঞ্চিত শৈশব ও বরাক


সময়টা শৈশব, দিন তারিখ, সনের হিসেবটা,
লিপিবদ্ধ কোন এক জলফরিঙ্গের রঙিন পাখার অন্তরালে। 
বাবার হাত ধরে রোজ বিকেলে,
ঘুরে বেড়াতাম বরাকের তীরে। 
মধুরামুখ কি মিষ্টি নাম বলতো।
তার চেয়েও বেশী মিষ্টি সেই মুহূর্তেরা।
বাবা যখন শৈশবের আনন্দে মশগুল,
সবচেয়ে প্রিয় অসমবয়স্ক বন্ধুটির সাথে।
কখনো ছুটে বেড়াচ্ছেন।
বালু দিয়ে তৈরি করছেন খেলা ঘর।
কখনও বা চিনিয়ে দিচ্ছেন , এটা দ্রোণ ফুল।
ওটা বিশ কাঁটালি, ওদিকে যাসনে মেয়ে।
নৌকোর পর নৌকো আর,
মহাজালে মাছের সম্ভার দেখে অবাক হচ্ছি আমি।
হারিয়ে জাচ্ছি বারবার কুমির,জলদস্যু, মৎস্যকন্যার গল্পে।
আশ্চর্য নদী প্রেমিক লোক আমার বাবা।
এতো বছরের শিক্ষকতা দুধপাতিল ।
অন্নপূর্ণা ঘাট, সকাল বিকেল নদী পেরিয়ে।
তবু নিজের ছোট্ট মিনির হাত ধরে,
সূর্যকে বিদায় জানানো নদীরই কিনারায়।
শেষ বেলায় সুপুরী গাছে বাবুই পাখির বাসা দেখে,
যখন আমরা ফিরে আসতাম,
তখন আকাশের জানালায় উঁকি দিচ্ছে দু একটি তারা।
সেই তারারা আজও কথা বলতে আসে,
আমার রুক্ষ ব্যাল্কনির ওপারে।
নামামী উচ্ছ্বাসে ভাসছে শহর,
খবরটা এই মাত্র জানিয়ে দিয়ে গেল ,
এক নীল নয়না মাছরাঙা ।
ভালোবাসা বরাক,
আসলেই বাবা সঞ্চিত রেখেছেন আমার শৈশব,
দিগন্ত বিস্তৃত বরবক্রের গহীন বুকে।



সঙ- বিধান

সঙ- বিধান
.
সেদিন চাবিগোছা হাতে নিয়ে বলেছিলে--
তুমি তোমার মতোই গুছিয়ে নেবে সব।
.
শেষবার আকাশ দেখে ভেবেছি--
বাইরে মিছে আকাশ দেখা। ওখানে মেঘ বৃষ্টি রোদ আর শূন্যতা। তারার আলো বহুদূর। চাঁদের মিঠে চুমুর আশায় পক্ষকাল বসে থাকা। আমার আকাশ তোমার বুকেই খুঁজে নেবো বরং।
.
কিছুদিন যেতে না যেতেই তুমি তোমার মতোই গুছিয়ে নিলে। এক ঘা আইনের চাবুক, বুকের ছাদে উল্কা বৃষ্টির মতোই। নুপুর শব্দের সিতাঘর আকাশভাঙা শব্দের ! শব্দের ভেতর রূপের ভিন্ন নাচন ! ঠিকই বলেছিলে সেদিন-- তুমি তোমার মতোই গুছিয়ে নেবে সব...
.
গোধূলিবেলা। বৃষ্টি শেষের আলো। মীমাংসায় ছাই রঙের সহবাস আকাশে। এমন সংশোধিত সঙ- বিধান সাবিত্রীর হয়তো জানা ছিল না।
........................
অভীক কুমার দে




শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

১৯৮৩র অসম: নিপীড়িত বাঙালি হিন্দু-৫



মূল অসমিয়াঃ দিগন্ত শর্মা
বাংলা অনুবাদ: সুশান্ত কর
  ( শিলচর থেকে প্রকাশিত 'অরুণোদয়' কাগজে বেরুচ্ছে ধারাবাহিক। ক্লিক করুন প্রথম, এবং দ্বিতীয়,    তৃতীয় এবং চতুর্থ অংশ পড়তে) 
মন্দিরের নাগাড়ার শব্দে আজও শিহরিত হন
গোরেশ্বরের ভাষিক সংখ্যালঘু জনতা

শ্বর উপাসনার জন্যে বহু মন্দিরে প্রদীপ জ্বালবার সঙ্গে নাগাড়া বাজানো হয়। নাগাড়ার শব্দ ভক্তি-প্রাণ ব্যক্তিকে খানিক সময়ের জন্যে হলেও মাথা নোয়াতে বাধ্য করে। কিন্তু কামরূপ জিলার গোৰেশ্বৰ শহরের নিকটবর্তী হাজলপাড়া, বেতনা, সিলকিঝাড় ইত্যাদি গ্রামের ভাষিক সংখ্যালঘু জনতা আজও শিহরিত হন নাগাড়ার শব্দ শুনলে। মন্দিরে সন্ধ্যা বেলা বাতি জ্বালবার পরে দূরের কোনো গ্রাম থেকে যখন নাগাড়ার শব্দ ভেসে আসে, তখন সে এলাকার বাঙালীদের মনে ভেসে আসে আতঙ্ক জর্জরিত একটি দিনের কথা। যে দিনটিতে সেই বাঙালী সম্প্রদায়ের মানুষের উপরে অসমীয়া মানুষেরা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে আক্রমণ করেছিল। হত্যা করেছিল শতাধিক লোককে। ...
সেই আক্রমণ চালাবার আগে চারদিকে নাগাড়া বাজিয়ে একত্রিত হয়েছিল হাজার হাজার আক্রমণকারী। ‘নাগাড়ার শব্দ’ ছিল ছিল বিদেশী তাড়াতে লাঠি-বল্লম-দা –তলোয়ার- তির ধনুক নিয়ে দলে বলে অসমীয়া মানুষকে বেরিয়ে আসবার আহ্বান জানাবার সংকেত।  সেই সংকেত যেন ছিল গণনিধন যজ্ঞের শুরুর বার্তা।
সেদিনটি ছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ সন। কামরূপ জেলার গোরেশ্বর শহরের কাছের আটটি গ্রামে আক্রমণ করেছিল উগ্রজাতীয়তাবাদী অসমীয়া মানুষজন। সেই গ্রামগুলো ছিল হাজলপাড়া, বেতনা, সিলকিঝাড়, ৫ নং গোরেশ্বর, বালাহাটী, গোঁহাই গাঁও, জানপাড়া এবং ২ নং গোরেশ্বর। পুরো আঠারোটি গ্রাম ধ্বংস হয়েছিল। সেই ভয়াবহ দিনটির মনে করে হাজলপাড়া গ্রামের পঙ্কজ বিশ্বাস বলেছিলেন,“বিদেশী বহিষ্কার আন্দোলন বা অসম আন্দোলন ছিল আমাদের জন্যে এক মূর্তিমান আতংক। বিশেষ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিনটিতে আমরা প্রায় আটখানা গ্রামের মানুষ ১৬০জন আত্মীয় পরিজনকে হারিয়েছিলাম। সে দিনটির স্মৃতি আমাদের এমন ব্যথিত করে যে সেসব মনে পড়লেই কষ্ট হয়।মন্দিরের নাগাড়ার শব্দে প্রায়ই আমাদের সেই আতংকময় দিনটিকে মনে করিয়ে দেয়। কারণ নাগাড়া বাজিয়েই আক্রমণকারীরা একত্রিত হয়েছিল। প্রথমে হাজলপাড়া, সিলকিঝাড়, আর তারপরে অন্যান্য গ্রামগুলো আক্রমণ করেছিল। আসলে ১৭ তারিখে,অর্থাৎ আগের দিনে রামপুর (গোঁহাই হাউলি) গ্রামের নাগাড়া বাজিয়ে আক্রমণকারীরা জড়ো হয়েছিল। সেদিন রাতেই বরনদীর পুব পাড়ের অর্থাৎ দরং জেলার ঝালুকবাড়ি গ্রামে আগুন দিয়েছিল।পরদিন সকাল থেকেই কামরূপ জেলার বাঙালি বসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে আক্রমণ করেছিল।আমরা পালিয়েছিলাম।কিন্তু গ্রামের অনেকেই মারা পড়েছিলেন। ৩ নং হাজলপাড়া গ্রামের সুকোমল বিশ্বাসের পরিবারের ১৪ জন লোককে হত্যা করে ফেলে। সেরকম ধীরেন দাসের মা-বাবাসহ ৯ জন মানুষকে হত্যা করেছিল।”
সুকোমল বিশ্বাস জানালেন যে তাঁর পরিবারের বসন্ত বিশ্বাস (৬৫), সুকেশ বিশ্বাস (৪৫), পরিমল বিশ্বাস (৪০),কানন বিশ্বাস (২০), ভুবন বিশ্বাস (১২), বিজয় বিশ্বাস (১১), অণিমা বিশ্বাস (১৫), সন্ধ্যারানি বিশ্বাস (১৪), সুষমা বিশ্বাস (১৫), বিমল বিশ্বাস (৩৪) কে হত্যা করেছিল।
সুকোমল বিশ্বাস বললেন,“এখন সেসব কথা কেউ মনে করিয়ে দিলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। সেদিন আমার উপরেও আক্রমণ হয়েছিল।মারা গেছি ভেবে আক্রমণকারীরা ফেলে চলে যায়।কিন্তু পরে জ্ঞান ফিরে আসাতে বেঁচে গেলাম। আজ আমি শরীরে মনে সেই সংঘাতের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছি। ...”
কথাগুলো বলে সুকোমল বিশ্বাস শোকবিহ্বল হয়ে নীরব হয়ে পড়েছিলেনবিদেশী বিতাড়ন আন্দোলনের এক ভুক্তভোগী ধীরেন দাস বললেন,“আমার বাবা সুরেন্দ্র দাস,মা শান্তি দাস থেকে শুরু করে ৯ জন আত্মীয়কে হত্যা করেছে আন্দোলনকারীরা।আমরা কি অসমিয়া ভাষার শত্রু, না অসমিয়া জাতির শত্রু আজও বুঝে উঠতে পারি নি।১৯৬০এর ভাষা আন্দোলনেও আমরা আক্রান্ত হয়েছিলাম।সে যাই হোক,আমরা নির্যাতিত,নিপীড়িত মানুষের আজ অব্দি ন্যায় লাভ করতে পারি নি।এক এক জন মৃত ব্যক্তির বিপরীতে পাঁচ হাজার টাকা,আহত ব্যক্তির জন্যে দু হাজার টাকা এককালীন সাহায্য দিয়েছিল সরকার। এ কি সত্যিই প্রকৃত ক্ষতিপূরণ? দোষী আজও শাস্তি পেল না। ...”
এলাকাটিতে ক্ষেত্র অধ্যয়ন করে দেখা গেল যে সেই বাঙালিদের গ্রামগুলোতে আন্দোলনকারী,আক্রমণকারীরা শুধু যে মানুষ মেরেই ক্ষান্ত হয়েছিল তাই নয়।অনেকে গ্রামগুলোর থেকে মানুষের বিষয়-আসয়ও লুঠ করেছিল। উল্লেখযোগ্য যে গোরেশ্বর এলাকার বাঙালিদের গ্রামগুলোতে এবং দরং জেলার খৈরাবাড়ি এলাকাতে বিভিন্ন ভাষিক সংখ্যালঘু বসতিপূর্ণ গ্রামে চালানো আক্রমণের ফলে কয়েক শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ হয়েছিল গৃহহারা। গোরেশ্বর রেলস্টেশনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়ে অনাহারে অনিদ্রাতে দিন কাটিয়েছিলেন। এমন কি অঞ্চলটির ৫ হাজার মানুষ পরে পশ্চিম বাংলাতে আশ্রয়ের সন্ধানে গিয়েছিলেন।প্রায় ২৫ দিন ভুক্তভোগীরা আশ্রয় শিবিরে থেকে আবার গ্রামে ফিরে এসেছিলেন। ফিরে এসে দেখেন ভিটে-বাড়িতে শুধু ছাই আর ছাই। ...
‘আসু’,গণ সংগ্রাম পরিষদ,কর্মচারী পরিষদ ইত্যাদি সংগঠন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বিদেশী বহিষ্কারের নামে যে কলঙ্কিত ইতিহাস রচনা করল তার জীবন্ত সাক্ষ্য হাজলপাড়া,বেতনা,সিলকিঝাড়,গোরেশ্বর এবং দরং জেলার খৈরাবাড়ি এলাকার ভুক্তভোগী বাঙালি সম্প্রদায়ের জনতা।যারা আজও অপেক্ষা করছেন ন্যায় পাবার জন্যে।কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতবর্ষের প্রশাসনযন্ত্র উগ্রজাতীয়তাবাদের শিকার,ফ্যাসিবাদের বা সংঘাতের বলি অসমের মানুষকে ন্যায় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তার বিপরীতে দেশের অন্য প্রান্তের গোষ্ঠী বিদ্বেষ,সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বলি মানুষজনকে কিছু হলেও ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। উদাহরণ স্বরূপে ১৯৮৪ সনের ‘শিখ গণনিধন’ কাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার কয়েক লক্ষ করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।২০০২এর গুজরাটে যারা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সৃষ্টি করেছিল তাদের একাংশকে অন্তত আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছিল।গুজরাটের বিজেপি সরকার তথা নরেন্দ্র মোদী সরকার কেবিনেট মন্ত্রী মায়া কোডনানিকে গুজরাতের আদালত শাস্তির বিধান দিয়েছে। কিন্তু অসমে ১৯৮৩তে অনুষ্ঠিত সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাবার পরেও সেই গণসংহারকান্ডগুলোর কোনো বিচারই হল না। বরং যে সব মামলা রুজু করা হয়েছিল সেগুলোও আসাম সরকার বন্ধ করে দিল।হত্যাকারীদের সরকারী পৃষ্টপোষকতাতে মুক্ত করে দিয়ে সমগ্র ন্যায় ব্যবস্থাটিকেই কলুষিত করেছিল

শিলাপাথার কাণ্ড এবং
তেওয়ারি আয়োগের প্রতিবেদন
আক্রমণ করতে উসকে দিয়েছিল সরকারি আধিকারিকই

১৯৮৩র  জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস অব্দি অসমে সংগঠিত হিংসাত্মক ঘটনাগুলো সম্পর্কে তদন্ত করতে ত্রিভুবন প্রসাদ তেওয়ারির নেতৃত্বে সরকার একটি তদন্ত আয়োগ গঠন করেছিল। যে আয়োগ সমগ্র ঘটনাবলী তদন্ত করে ১৯৮৪ সনে অসম সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।সেই প্রতিবেদনে অবিভক্ত লখিমপুর জেলার (তখন ধেমাজি ছিল মহকুমা) ঘটনাবলীর তথ্য ছিল। তেওয়ারি আয়োগের প্রতিবেদনে সংঘাতের পেছনকার বহু কথা উন্মোচিত করেছিল। বিশেষ করে সাধারণ জনতাকে নিরাপত্তা প্রদানে যে প্রশাসন যন্ত্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল তার স্পষ্ট উল্লেখ আছে এই প্রতিবেদনে।  উল্লেখ্য যে গত ত্রিশ বছরে অসম সরকার এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনে নি।প্রকারান্তরে সরকারের গড়ে দেওয়া আয়োগের প্রতিবেদনকে সরকারই লুকিয়ে রেখে ন্যায় ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছে। এই প্রতিবেদনে আর্নে চাপরি,চিমেন চাপরি ইত্যাদি অঞ্চলের,শিলাপাথার শহরের পাশের স’সাইতি,বামগাঁও,ইত্যাদি অঞ্চলে সংঘটিত ঘটনা,ধেমাজি শহরের উত্তর দিকে অবস্থিত বিষ্ণুপুর,শান্তিপুর এলাকাতে সংগঠিত ঘটনা সম্পর্কে কতকগুলো তথ্য রয়েছে।প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে আক্রমণকারীরা আসলে কোন শ্রেণির অন্তর্গত। সেখানে উল্লেখ আছে যে আর্নে চরাঞ্চলে সংঘটিত ঘটনাগুলোতে সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছিল না।বিপরীতে হিংসাত্মক ঘটনার আড়ালের এক অন্যতম কারণ ছিল ভূমিকেন্দ্রিক বিবাদ।প্রতিবেদনে লিখেছে এইভাবে,“It is clear that the rioting and group clashes did not take place on communal lines.In Arena (Arne) Chapari the Mishings and Assamese attacked the Bengali Hindus... In Bishnupur the Mishings and the Assamese attacked Bengali Hindus.In all cases the basic background of the clashes was one of land disputes.”
‘মিসিং জনগোষ্ঠী’ এবং ‘অসমিয়া জনগোষ্ঠী’র লোকে বাঙালি হিন্দুদের উপরে আক্রমণ চালিয়েছিল সেই সিদ্ধান্ত নেবার আগে বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠী এবং সরকারি আমলা –আধিকারিকদের থেকে শুরু করে প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিল তেওয়ারি কমিশন।অন্যদিকে,পুলিশ-প্রশাসন যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটবে বলে জেনেও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল সে কথাও প্রমাণ করেছে আয়োগ। তেওয়ারি আয়োগের প্রতিবেদনে পুলিশ প্রশাসনের সম্পর্কে উল্লেখ আছে এইভাবে,“There was also anticipation of the occurrence  at Arena (Arne) Chapori but police force could not be posted there in time.The officers who were made responsible for maintaining  law and order in Dhemaji Sub-division lacked determination and failed to take initiative in mobilising the available resources to tackle a very difficult situation.”
পুলিশ যে হিংসাত্মক ঘটনার আগে তথ্য পেয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ কোনো চেষ্টা করেনি তার বিস্তৃত ব্যাখ্যার দরকার নেই।
অন্যদিকে সেই সময়কার লখিমপুর জেলার উপায়ুক্ত তথা রাজ্য সরকারের জ্যেষ্ঠ আমলা কে সি মজুমদার তেওয়ারি আয়োগের সামনে কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। উপায়ুক্ত মজুমদার তেওয়ারি আয়োগের সামনে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে জেলার দুই আধিকারিক আর্নে চরাঞ্চলে আক্রমণে উসকানি দিয়েছিলেন।এ সম্পর্কে আয়োগ উল্লেখ করেছে এভাবে,“The Deputy Commissioner,in his deposition,stated that two Mishing Officers,namely Shri Lakheswar Pait, Executive Magistrate and Shri J C Pegu,Additional District Magistrate posted at Shilapathar,in his view,instigated the Local Mishing people to grab the land by force and to drive away the refugees.He also stated that the performance of the two A D Ms. Namely Shri H K Barua and Shri J C Pegu was not up to the mark 14.2.83”
উল্লেখযোগ্য যে লক্ষেশ্বর পাইত এবং জে সি পেগুকে পরে প্রশাসন বরখাস্ত করেছিল এবং আধিকারিক দু’জন তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।যদিও এক উপায়ুক্তের ভাষ্যতে বেরিয়ে পড়ে সমগ্র পরিস্থিতির আড়ালে ঠিক কোন ধরনের শক্তি ক্রিয়া করেছিল।এই প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে বিষ্ণুপুর,শান্তিপুর,চিমেন চাপরি,আর্নে চাপরি ইত্যাদি জায়গাতে সংগঠিত হিংসাত্মক ঘটনার আগে প্রশাসন ঠিকই খবর পেয়েছিল,কিন্তু বাঙালি হিন্দুদের আক্রমণকারীদের থেকে রক্ষা করতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। অর্থাৎ প্রশাসনের একাংশ আধিকারিকের রহস্যজনক ‘অবহেলা’র পরিণতিতে বহু মানুষ প্রাণ হারালেন। তেওয়ারি আয়োগের প্রতিবেদনের মতে প্রশাসনিক দুর্বলতার জন্যে সমগ্র জেলাতে ১৯৮৩র জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস অব্দি ১,৩৮৯টা হিংসাত্মক ঘটনা সংগঠিত হয়েছিল।অন্যদিকে সংঘর্ষ সৃষ্টির আড়ালে ‘আসু’ এবং গণ সংগ্রাম পরিষদের ভূমিকা সম্পর্কে তেওয়ারি কমিশন বিভিন্ন ব্যক্তি এবং আধিকারিকদের সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এই কথা লিখেছে, “The circumstances leading to the disturbances which took place during January to April, 1983 were provided by the fact that when it was decided to hold the general elections certain sections of public instigated by ASSU/AAGSP and political parties like,BJP,Janata and Lok Dal and some anti-social elements decided to boycott the election and even resorted to violence to further their objective.”

অবিভক্ত লখিমপুর জেলার অন্তর্গত বৃহত্তর ধেমাজি মহকুমার বিষ্ণুপুর,শান্তিপুর,আর্নে চাপরির বেশ কিছু গ্রাম,চিমেন চাপরির কিছু গ্রামে পরিকল্পিত ভাবে হিন্দু বাঙালিদের আক্রমণ করবার পেছনে ‘আসু’,সারা আসাম গণ সংগ্রাম পরিষদ (AAGSP),ভারতীয় জনতা পার্টি ইত্যাদি শক্তি যে ছিল সেসব ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। এমন কি আঙুল দিয়ে দেখাবার দরকার নেই  শিলাপাথারে হাজার হাজার হিন্দু বাঙালির রক্তে দোল উৎসব করেছিল কারা।     



( =গুজরাটে ভোট, হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করছেন রাহুল গান্ধী=
 হিমাচল প্রদেশে জয় প্রায় অসম্ভব ঃ কংগ্রেস )
= দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম =
 ——এম রিয়াজুল আজহার লস্কর——
@
গুজরাটে ঝড় কমছে মোদির সুযোগ এলো বড়ো।
গুজরাটে খুব খাটছে রাহুল মানুষ করে জড়ো।।
গুজরাটে ঝড় তুললো রাহুল আশা করে গদি।
বিরোধী জোট ধাক্কা খাবে দলটা হারে যদি।।

হিমাচলে ভোট হয়েছে হারবে সেথা কঙ্গ।
রাজ্যটা ঠিক যাচ্ছে বুঝা হচ্ছে মোদির সঙ্গ।।
গুজরাটে খুব কঠিন লড়াই খবর গেছে পাওয়া।
ময়দানে সব দল নেমেছে গরম হলো হাওয়া।।
@
( নির্ভেজাল সংবাদ পরিবেশন করে “ দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম ”)
১৭/১১/২০১৭



বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৭

কেন্নো পোকার রেল


মূল অসমিয়া: নবকান্ত বরুয়া
বাংলা অনুবাদ: সুশান্ত কর


কেরেলুয়ার রেল’ নবকান্ত বরুয়ার প্রসিদ্ধ শিশু নাটকগুলোর একটি। মূলত ‘আকাশবাণী’র জন্যে এমন বেশ কিছু নাটক তিনি লিখেছিলেন। ফলে মঞ্চ নির্দেশনা বলে সেরকম কিছু নেই। পদ্যে লেখা হলেও অভিনয়ের সময় কখনো বা পরিচালকেরা এতে সুরসংযোজন করে গীতিনাট্যেরও রূপ দিয়েছিলেন। বাণী কটকীর মতো কোনো কোনো পরিচালক ‘মুখোশ নাটক’-এ পরিণত করে এগুলো মঞ্চেও পরে অভিনয় করান। অন্য দুই এক নাটকের সঙ্গে ‘কেরেলুয়ার রেল’ নাটকটি যোরহাট , গৌহাটিতে বেশ ক’বার অভিনীত হয়েছিল। নবকান্ত লিখেছেন, এগুলো এতোই জনপ্রিয় হয়েছিল যে এককালে ছেলেমেয়েরা পথে ঘাটেও এর সংলাপ আওড়াতো। নাটকটির পাণ্ডুলিপি লেখকের কাছে ছিল না। আকাশবাণীতে নাটকটি অভিনয় করেছিলেন ভারতী বরুয়া, তিনি বহু পরে স্মৃতি থেকে এর পুনরুদ্ধার করে ছাপা সম্ভব করেছিলেন। ‘মনত পরার শব্দ’, ‘কাগজ কলমর রণ’, ‘ গোলাপ আরু বেলি’, ‘মই টুনটুনিয়ে টুনটুনালো’ এই চারখানা নাটক সহ ‘কেরেলুয়ার রেল’ নিয়ে  শিশু নাটকের সংকলন বেরিয়েছিল প্রথমে ১৯৮৪তে  ‘মনত পরার শব্দ’ নামে। ১৯৯০তে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণে নাম হয় ‘কেরেলুয়ার রেল’। এই সবক’টি আবার সংকলিত  হয় তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৩এ ‘অন্বেষা’ প্রকাশিত এবং গগণ চন্দ্র অধিকারী সম্পাদিত ‘ নবকান্ত বরুয়া শিশু সাহিত্য সমগ্র---প্রথম খণ্ড’-তে। যেখান থেকে আমরা অনুবাদের পাঠটি নিয়েছি। তিনি নিজে এগুলোকে ‘ননসেন্স রাইম’ গোত্রের বলেছেন। কিন্তু ‘রাইম’ বললে আমরা যা বুঝি, এর ছন্দ হবে ছড়ার--- সে নাটকগুলোতে নাটকের দাবি মেনে ‘ছড়া’র বহু কিছুই নেই, ‘ননসেন্সে’র সবটাই রয়েছে। মাত্রার বৈচিত্র্য আছে, গদ্যের চলন দেবার চেষ্টাও আছে। অন্ত্যানুপ্রাসও আছে, আছে শ্রুত্যনুপ্রাস।আবার বহু জায়গাতে নেই। অনুবাদ করতে গিয়ে আমাদের এই সব সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়েছে। আমরা প্রথমত, চেষ্টা করেছি বাংলা ছন্দের তিন রীতিরই আশ্রয় নিয়ে পদ্যের ধাঁচটা রাখতে। এবং যথাসম্ভব সর্বত্র অন্ত্যানুপ্রাস রাখতে। ফলে বহু সংলাপ ছাড়তে এবং কিছু সংলাপ জুড়তে হয়েছে বাংলায়। বহু শব্দকে নিয়েও খেলা করতে হয়েছে, তাতেই ‘বরসা, মশেলা, কিইচ্ছা’ শব্দগুলো এসেছে। যদিও নাটকের মূল গল্প কাঠামোটি অক্ষতই থেকেছে। দ্বিতীয়ত রেলযাত্রীরা বহুভাষিক হয়ে থাকে, এই কথাটি লেখক মনে রেখে শুধু অসমিয়া নয়, মাঝে মধ্যেই বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি কথন ভঙ্গীরও মিশেল ঘটিয়েছেন। একটি পুরো বাংলা পঙক্তি ছিল ‘কোথায় যাচ্ছ বরের পোলা’। সমস্যা হলো -- একে কি উলটে অসমিয়া করব? তাতে পাঠক ভাবতে পারেন, আমরা অনুবাদ করতে ভুলে গেছি। তো অসমিয়া আমরা রাখিনি। কিন্তু তৃতীয় সমস্যাটি আরো জটিল। তৃতীয় জিরাফের নাম ছিল ‘চিকুট’। এটিকে যমক অলঙ্কার করে ব্যবহার করেছেন।  ‘চিকুট’-এর অর্থ অসমিয়াতে ‘চিমটি’— এবং ‘চিমটি’ ধরে এর পরে গল্প এগিয়েছে। অথচ বাংলা উচ্চারণে শব্দটি হবে ‘সিকুট’ -- যার আর অন্য কোনো অর্থ হয় না। এই সমস্যাকে আমাদের সমাধান করে এগোতে হয়েছে। কী করেছি সে যথাস্থানে পড়াই ভালো। নবকান্ত লিখেছিলেন, “এই নাটককেইখনত কোনো বিশেষ মূল্যর দাবি নাই।” আমাদেরও এই অনুবাদ নিয়ে একই কথা। একটা পরীক্ষা করা হল, এই মাত্র।


আর হ্যাঁ, ছবিগুলো এঁকে দিয়েছেন দুর্লভ ভট্টাচার্য। সুকুমার রায়ের রচনাগুলোর মতোই এই ছবিগুলো ছাড়া নবকান্ত বরুয়ার রচনাও অসম্পূর্ণ। বাংলার পাঠকের অবশ্য তাঁর রচনাগুলো পড়লে উপেন্দ্র কিশোর, সুকুমার রায়দের মনে পড়বে। রবীন্দ্রনাথ সহ এঁদের কাছে ঋণ নবকান্ত স্বীকার করেন। বর্তমান সংকলনেও ভূমিকা লিখতে গিয়ে বীরেন্দ্রনাথ দত্ত সেসব বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। আমরা যেন মনে রাখি, উপেন্দ্র কিশোর এবং সুকুমার রায়েও লুই ক্যারল সহ বহু পশ্চিমা লেখকের প্রেরণা কাজ করছিল, নবকান্তেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। তার সঙ্গে শুধু তাতে বাংলার ঐতিহ্যের সংযোজন ঘটেছে। তার পরেও সুকুমার রায়েরই মতো নবকান্তের রচনা তাঁর নিজেরই রচনা, মৌলিক। ‘কোনো কবি বা কোনো শিল্পী সম্পূর্ণ এককভাবে অর্থপূর্ণ হ’ব নোয়ারে।’ বীরেন্দ্রনাথ দত্তের এই কথাটি মনে রেখে যদি এই একক অনুবাদ নবকান্তের বাকি রচনাতে প্রবেশে আগ্রহ বাড়ায় তবেই আমাদের এই পরীক্ষা, এই  শ্রম সফল।    ---অনুবাদক]       



ধুয়া:  ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক
পীঁ পীঁ পীঁ পীঁ
রেল চলে চলে রেল
             কেন্নো পোকার রেল চলে পাঞ্জাব মেল।

বিছা: মাকড়ি দি গো মাকড়ি দি;
বলছি তুমি, বাড়ি আছো কি?

মাকড়সা: না থেকে ভাই  কই বা যাব,
             তাঁত মেলানো, কই বা থুব?
বিছা: কী বা তুমি বুনছ দিদি?
মাকড়সা: আয় তোরে ভাই দেখিয়ে দি,
               ...... ফুল
বিছা: তোমার জন্যেই এনেছিলাম এক লাছি উল।
মামার  ছেলেকে দিতে  সোয়েটার চাই।
মাকড়সা: আগে কেন বলিস নি রে, ভাই?
   পরশু দেখ, লাগিয়েছি এইখানা তাঁত
   বাতাসে ছিঁড়ল কিনা সুতোটার গাঁট
             এক মাথা টানি যদি আর মাথা ছিঁড়ে
      আগেকার মতো যদি কিছুতেই জুড়ে।
বিছা:  আগের মতো লাগলে তবে,---  হবে
মাছিরাম কেরানিকে খবরটা তো দেবে।
কী দারুণ গো, কী দারুণ! নকল করা জানে
আমরা কী গো! মানুষই তো দেখে হার মানে!
মাকড়সা:  চল̖ , তবে কেন্নো রেলে ওর খবরে যাই।
মাছিরাম কেরানিটাকে কই বা গিয়ে পাই?
বিছা এবং
মাকড়সা: কেন্নো পোক ঝোঁক ঝোঁক, এই র্যা্লা!
দাঁড়াও দেখি,যাচ্ছ কোথা নবাব পোলা?
কাপলিং ছেঁড়া দেখি পাঞ্জাব মেল
ঠেল রে  গজরা, ইঞ্জিন ঠেল!
ধুয়া:   ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক
পীঁ পীঁ পীঁ পীঁ
রেল চলে চলে রেল
চলে পাঞ্জাব মেল।

                                              কেন্নো:  যাবে যদি, খোলো সাহেব
                        কালো ওভার ক’ট;
         মেমও ছেঁড়ো লাল রশি
                        লাগবে  চাকায় জট ।
                        করো না কো ঠেলা ঠেলি
                        ডান হাতে টিকিট কিনে
                                                              বাম হাতে দোয়ার মেলি
                                                              নাও গো বসার সিট চিনে।
                                                              গল্প করো, আলাপ করো,
                                                              কার পরিচয় কী?
                                                              পি পি পি!
                                                              মিষ্টি কথায় তুলে ধরো।
                                                              অচেনা কোনো প্যাসেঞ্জার
                                                             নিয়ে আমি  যাই--
                                                              এমন কোনো  কারবার
                                                             আমার তো গো নাই।
 বিছা:      ইনি মিসেস মাকড়ি দিদি তাঁত বুনেন ভালো।
চরকা নেই, মাকু নেই অন্ধকার বা আলো।
চিকন করে সুতো কাটেন,তাঁত বুনেন বসে
              পাড়া পড়শি কেউ শোনে না সাড়া শব্দ এসে।
              রান্না করা নেই, নেই তেল  মশেলা
              লিকুইড ডায়েটে  রোজ চলে  দু’বেলা।
মাকড়সা: একে তো চেনোই, নাম শ্রী বিছাধর
   গায়ে কালো সোয়েটার বরসা ঋতুভর।
  সরু গলা, যায় না খোলা
এ নিয়েই পথ চলা।
সবাই: এভাবেই যাই তবে, চলো!
কী বলো ভাই, কী বলো?
কেন্নো: যাই তবে এভাবেই
ওঠো,আছো যেভাবেই।
আগে গিয়ে বলে দিও,নেমে যাবে কই!
মাকড়সা: মাছিরাম মশায়ের বাড়িমুখে অই!
কেন্নো: কে সে মাছিরাম?
           কীই বা ভালো নাম?
             নীলচে
             না কালচে,
             বোতলা না মৌ,
            না ঐ  আদরের কুনকুনি বৌ
            ফলে ফলে ডিম পাড়ে,
                  বাকিদের বাড়িঘর ---
                    কে  চেনে  কারে!
মাকড়সা: আম ঝুলে ডালে ডালে
   নীল মাছি পালে পালে
   যেখানে মানুষ থাকে
   মাছি ঘুরে ঝাঁকে ঝাঁকে।
বিছা: এ মাছি  গো, সে মাছি না;
           কাঁঠালের আঠাতে তার পাখা লাগে না।
           আসলে কী গল্প জানো,
   বলি তবে,মানো কি মানো।
   মাছিমরা ছিল তার নাম,
   তখনো জন্মে নি তো রাম।
   যখন মরা মরা চেঁচিয়ে,
   উঁইঢিবি গুড়িয়ে
   বেরিয়ে রত্নাকর,
               লেখে রামায়ণ
               আমাদেরও মাছিবর,
   মাছিরাম কেরানিতে পেলো প্রমোশন।
কেন্নো: ঠিক আছে, ঠিক হ্যাঁয়!
দেখি, গাড়ি কই যায়!
উঠে যাও এইবার
আমিই ইঞ্জিন,আমিই ডেরাইভার!
                         ধুঁয়া নেই, ধূলি নেই
                         লাল এক রেল...
                         ঠেল রে গজরা, ইঞ্জিন ঠেল! 

ধুয়া:   ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক
পীঁ পীঁ পীঁ পীঁ
        রেল চলে চলে রেল
                        কেন্নো পোকার রেল
                        চলে পাঞ্জাব মেল!

বিছা:        আরে! এ যে আরো আছে প্যাসেঞ্জার
               রকম রকম কত রকম দেখো ফ্যাশন যার।
         ইনি মিস্টার গো বরুয়া, তাঁর ভাঙা মটর গাড়ি।
মাকড়সা: কলকাতা যাবেন বুঝি, হবে রিপিয়ারি?
কেন্নো: এ যে দেখি শিরি যুক্ত পি পিঁপড়া বাবু
             জংলি শসার বিচি লেগে হলেন বুঝি কাবু?
বিছা:        পি পিঁপড়া? নাম শুনি নি। কোথায় নিবাস?
কেন্নো:       পি কক্, পি হেন্ ---এদের পাশাপাশি বাস।
             সোনা পিঁপড়া, ডাঁই পিঁপড়া, পিঁপড়া আছে কত!
             লিখেছে এদের কথা শাস্ত্র আছে যত।
             কলহ না করে যেন কর্ম করে খায়,
             শিরি কিষ্ণ শেখালেন-- গীতাতে বাখায়!
               সব পিঁপড়া মিলে নিল পি পিঁপড়া নাম।

সবাই: বলো রাম রাম!
               উঠে যাও, উঠে যাও! কথায় কী কাম? 

ধুয়া:   ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক
পীঁ পীঁ পীঁ পীঁ
            রেল চলে চলে রেল
                        কেন্নো পোকার রেল
                     চলে পাঞ্জাব মেল!

পিঁপড়া:  কে কে শুনবে বলো, মজার কিইচ্ছা।
                রূপকথা জানি বেশ, শোনাই যত ইচ্ছা।
মাকড়সা:  কিচ্ছা জানো! বেশ!
    সেই যে রাজা ছিল, গোধার দেশ!
বিছা: নইলে,সেই যে ছিল রাজহাঁস এক,
সোনার ডিম দিত। প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক!
নতুবা সেই বুড়ো
কচু খেতে সারা দিন মাটি গুড়ো গুড়ো...
পিঁপড়া: সেসব কথা,কথা কি এমন
অং বং চং
এ মন তালাসি, পেয়েছি নূতন
গল্প বলার ঢং।
 গোবরে  পোকা: বলো বলো বলো! কিসের ঢং?
                        চিনের যাদু বুঝি, চিং চাং চং !
                  নাকি সেই আলাদিনের  আশ্চর্য বাতি,
                        কেঁচোমাটি সন্ধানে হাম কলকাতা যাতি।
                  দৈত্যটা শিখেছে কি নতুন কেরামতি?
                         রেডিয়েটার হয়েছে লিক, চাই মেরামতি।
পিঁপড়া:       এক ছিল বন্ধু
              তার ছিল সন্দুক।
গোবরে পোকা: সন্দুকে বন্ধু থাকা কাহানি নেই মাঙতা।
পিঁপড়া: আরে, বলা ভুল হয়েছে,
                কী যেন,প্যাঁচ লেগেছে।
                 এইবার গল্প বলি, একদম টাটকা!
                 নেই কোনো ফাটকা।
                এক ছিল বন্দুক,
                না ছিল সন্দুক।
                 বন্ধুরা প্যাঁচিয়ে দিল রাং রাং রাং তা।
                  তবে বুঝো এইবার
                 কিছু কর কানটার।
                  কালো কচু তুলে এনে কান করো সাফ।
                  চিড়িয়াখানায় যেয়ে
                 তামোল পান  খেয়ে
                  একা একা  চরছিল তিনটি জিরাফ।
সবাই: জিরাফ!
পিঁপড়া:       হ্যাঁ, জিরাফ!
স্বরটা ভীষণ রাফ।
সারাটা শরীর ভরে তুল তুলে পাফ।
কপালে রয়েছে এক ছোট ফুট নোট
ওরা যে  বংশের, তার নাম হলো কূট।
সবাই: জানি, জানি, সেতো জানি!
মাটিতে গজায় লংকা ধানি।
কূট বংশ মহা বংশ
চাণক্যের অংশ
চিত্রকূটের সরোবরে
চরে পরম হংস।
গোবরে পোকা:      প্রথম জিরাফের নাম কি বা কূট,
বিসকূট, মিসকূট না কিসকূট?
পিঁপড়া: কেবলই ই কুট!
ওর ভাই সই করে
মিস্টার বি কুট।
তারও যে ছোট ভাই
  মিস্টার চি কুট।
ইকুট বিকুট  ভাই
তামোল পান খাই
জিহ্ব দেয় পুড়িয়ে
পাণ মশলা কুড়িয়ে
পায় কই---
                        যায় তার সন্ধানে।
কেবা বলো, জুড়ায় জ্বালা  মন দানে!
বাড়িতে তখন বসে   কোন কূট?
বাতাও ভাই, বাতাও দেখি! কোন কূট?
সবাই: সিকুট  সিকুট চিকুট!
পিঁপড়া: চিকুট! অসমিয়া চিকুট ।
                     চিকুট মানে চিমটি।
                        খাও, পাও টেরটি।
                                     ( পিঁপড়া সবাইকে চিমটি কাটে।
বিছা: আরে আরে আরে! পি পিঁপড়া  চিমটি কাটো কেন?
পিঁপড়া: আকাশ কেন নীল,পাহাড় কেন খাড়া? জানো না যেন!
লবণ জলে উঠেনা কেন সাবানের ফেন্?
চিমটি দিলে বাচ্চারা হে করে ঠেন্ ঠেন্!

বিছা: খবরদার! আমায় যদি কাটো!

তবে এই যে ফুলের ঝাড়ু,
  আমার গায়ে দেখ̖ছো, গাড়ু!
ছিঁড়ব তোমার পিঠে, দেখি কেমন করে ঝাঁটো।
মাকড়সা: পি  পিঁপড়া কেটে দিল। আনো রে আনো, টিংচার।
গোবরে পোকা: গো বরুয়াকে কাটিস যদি হবি তবে পাংচার।
পিঁপড়া: এসব এখন রাখো,
     কেন্নো রেলটা দেখো।
                                                         সবাই ওকে চিমটি কাটো, কুট!
    ইকুট বিকুট চিকুট। কাট কুট কুট!
সবাই:        হেইও!  হেই! উঠ উঠ উঠ!
    চিকুট চিকুট চিকুট!
 কেন্নো: খবরদার! খবরদার!
    পিপিলিকা খবরদার!
                 খবরদার বিছাধর!
                  মাকড়িদি নট নড়াচড়!
                 এতোক্ষণ ছিলাম রেল
                 খেলছিলাম মজার খেল
                    জানো না কি, পূর্বপুরুষ আমার অষ্টাবক্র
    গা প্যাঁচিয়ে হচ্ছি দেখো সুদর্শন চক্র।
মাকড়সা: আমার সুতা ছিঁড়িল
বিছা:              আমার জামা ফাটিল
গোবরে পোকা:  আমার পাখা ঝরিল
পিঁপড়া: আমি হলাম চ্যাপেটা। এখন কী করি লো! 
সবাই: বাঁচাও ! বাঁচাও!   হে অষ্টাবক্র পুত্র।
          চক্র যদি না মেলে দাও, পালাই তবে কুত্র?
কেন্নো: বেশ!
                 তবে চিমটিও যেন হয় শেষ!
                 উঠে এসো, উঠে বসো ! চালাই আবার রেল।
                 গার্ড বাবু বাজাও হে! বাজাও হুইসেল।   
ধুয়া:   ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক ঝোঁক
পীঁ পীঁ পীঁ পীঁ
                  রেল চলে চলে রেল
                        কেন্নো পোকার রেল
                        চলে পাঞ্জাব মেল।


                         ~~~~~০০০~~~~~

 
 
    





পিসির খাতা (গল্প)



 পিসির খাতা
-----------------------


আমাদের বাড়িতে কতকগুলো ট্রাঙ্ক ছিল, বাড়ির বড় সদস্যদের আলাদা আলাদা ট্রাঙ্ক সেগুলো যখন ওঁরা খুলতেন,  আমাদের ছোটদের কৌতূহলের সীমা থাকত না আমরা ট্রাঙ্কের চারপাশে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে দেখতাম,  শিশু ভাইবোনরা যখন জিনিষপত্রের উপর ঝাঁপাতে আসত, তখন কড়া ধমকে আমাদের বাচ্চাগুলোকে নিয়ে দূর হটতে হত, তখন আমরা উঁকি মেরে একটু দূর থেকে দেখতাম প্রতিবারই ট্রাঙ্ক খোলার সময় দেখতে আসতাম, নতুন কিছু তেমন দেখতাম না, কিন্তু তবুও মনে হত এবারে নতুন কিছু রহস্য, অদ্ভূত কোনো সামগ্রী লুকোনো আছে, যা ডালা ওল্টালেই  বেরোবে
প্রত্যেকটি ট্রাঙ্কের মালিকানার মত, তার ভেতরের বস্তু, গন্ধ,  আলাদা আলাদা ছিল মালিকদের আমাদের প্রতি ব্যবহার  ও আলাদা ছিল
মায়ের ট্রাঙ্ক খুললে  আসত ন্যাপ্থালিনের গন্ধ ভেতরে শাড়ি, ব্লাউজ, আমাদের ভাল জামা সুন্দর করে ভাঁজ করা---মা সেগুলো বছরে একবার রোদে শুকোতে দিতেন যেদিন খুলতেন, আমরা ন্যাপ্থালিনের গন্ধ পেয়েই আমরা হাজির হতাম দেখতে ভেতরে সিল্কের দু- তিনটে শাড়ি, অন্য শাড়ি আরো তিন-চারটে আমরা শাড়িগুলোতে হাত বুলোতাম, সিল্কের নরম, মসৃণ ঠান্ডা আরাম লাগত মা বলতেন, কাপড়ে হাতের ধূলো লাগাচ্ছিস নিজেদের জামাগুলোও একবার খুলে দেখতে চাইতাম, কেজানে কখন এগুলো পরার আবার সুযোগ হবে আমাদের এক-দু সেট  জামা তোলা  থাকত বিশেষ কোনো উৎসব আমন্ত্রণে যাবার জন্য  মা খুলতে মানা করতেন, বায়না করলে ট্রাঙ্ক বন্ধ করে দিতেন
বাবার দুটো ট্রাঙ্ক ছিল, একটাতে বাবার কাপড়, সোয়েটার,আলোয়ান ইত্যাদি শীতবস্ত্র, কিছু কাগজপত্র সে ট্রাঙ্ক খুললে ন্যাপথালিনের গন্ধ অন্যটি তে শুধু থরে থরে বই  কাপড়বাঁধানো, কাপড়জড়ানো শাস্ত্রীয় বই, কাপড়জড়ানো নয় এমন বইও কয়েকখানা  বাবা সেগুলো মাঝে মাঝে খুলতেন সেসব বইতে কি লেখা আছে জানতে খুব কৌতূহল হত কিন্তু এখানে হাত দেওয়া আমাদের ছোটদের পক্ষে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল বাবা বলতেন, এগুলো তোমাদের জন্য নয়, হাত দেবেনা  আমরা সম্ভ্রমমিশ্রিত কৌতূহলের সঙ্গে সেগুলো খানিকটা দূর থেকে দেখতাম সেই ট্রাঙ্কের গন্ধ ছিল আলাদা,  একটু ধুলোধূলো, নাক সুড়সুড়োনো গন্ধ

ঠাকুমার ট্রাঙ্ক ছিল সবচেয়ে আশ্চর্য জিনিষে ভরা তার গন্ধ ও কেমনকেমন  সেটার আবার হুড়কো ভাঙ্গা, ফলে তালা লাগানোর ব্যাপারই নেই সেটা খুললে দেখা যেত রুদ্রাক্ষের মালা, অনেকদিন গত ঠাকুর্দার চশমা, গীতা,  কিছু রহস্যময় পোঁটলা, ঠাকুমার ছোটমেয়ে, আমাদের ছোটপিসি, যিনি বিয়ের বছরখানেক পর সন্তান হবার সময় মারা গিয়েছিলেন, তাঁর হাতে লেখা গানের খাতা, তাঁর বানানো একটি আসন,  একটি লম্বা কৌটো, তাতে সাধারণ খুচরো পয়সা, পুরোনো দিনের অচল তামার পয়সা, রূপোর একটি টাকা, ফুটো পয়সা অন্য একটি বেঁটে কৌটোতে  কতকগুলো কড়ি সেই কড়ি থেকে যখন আমাদের চারটি কড়ি দিয়েছিলেন খেলবার জন্য, আমাদের কি আনন্দ! আমরা বেশি ঘাঁটাঘাটি না করলে তিনি বকতেন না, বরং ঠাকুরদার জিনিষ, পিসির জিনিষগুলো খুলে খুলে আমাদের দেখাতেন
কিছুদিন পর যখন তিনি কাকার সঙ্গে তাঁর ওখানে বেশ কিছুদিনের জন্য যাবার তৈয়ারি করছিলেন, ছোটপিসির খাতাখানা বের করে আমাদের দিয়েছিলেন আমরা মানে আমার তিনবছরে বড় দিদি ও আমি আমরা দেখছিলাম খুব সুন্দর গোটাগোটা অক্ষরে খাতা ভর্তি কত কবিতা, ঠাকুমা বলেছিলেন সেগুলো গান পিসি অনেক জনের কাছ থেকে,  অনেক বই থেকে সেগুলো সংগ্রহ করেছিলেন
সেই খাতাখানা পেয়ে আমি খুব পড়তাম, কবিতাগুলো মুখস্থ করে ফেলেছিলাম, নিজের সুরে সেগুলো গাইতামও পরে দিদি যখন হাইস্কুলে ভর্তি হল, (আমি তখনো নিচু ক্লাসে,) ওর সঙ্গে ওর স্কুলে রবীন্দ্রজয়ন্তী দেখতে গিয়েছিলাম  ও হরি, ওখানে সবাই পিসির খাতার গান গাইছে!  তখনি জানলাম, আমি এতদিন নিজের সুরে যা গান গাইতাম তা হল রবীন্দ্রনাথের গান! রবীন্দ্রনাথের নাম আগেই জানতাম, দুচারটে কবিতাও মুখস্থ করেছি, সেই রবীন্দ্রনাথের গান পিসিও আমাদের জন্য তাঁর খাতায় রেখে গিয়েছেন বলে খুব আনন্দ লাগছিল শুধু রবীন্দ্রনাথের উপর অভিমান হচ্ছিল কেন  তাঁর গান আমার সুরে গাইলে ভুল হবে!!