.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৭

মহান অক্টোবর বিপ্লব জিন্দাবাদ



।। পার্থ প্রতিম আচার্য।।


য় নয় করে শতবর্ষে পড়েছে অক্টোবর বিপ্লব।জুলিয়ান ক্যলেন্ডার মতে ১৯১৭ এর অক্টোবরে সংঘটিত এই বিপ্লবকে অনেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মতে নভেম্বর বিপ্লব ও বলেন।
এই বিপ্লব আগের সকল বিপ্লব থেকে পৃথক এই কারণে যে আগের বিপ্লবগুলোতে শাসকের রং পালটেছে মাত্র মেহনতিরা দাস থেকে ভুদাস ,ভুদাস থেকে মজুরি দাস হয়েছে। এই বিপ্লবই প্রথম শ্রমিকশ্রেণিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছিল।এই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিল রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি।
রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি কে লড়াই করতে হয়েছে একদিকে মেনশেভিক সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে অন্যদিকে নারদনিক অতিবাম বিচ্যুতির বিরুদ্ধে।
যে বৈজ্ঞানিক দর্শনের ভিত্তিতে এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল তার নাম মার্ক্সবাদ। সাম্রাজ্যবাদী যুগের মার্কসবাদের নাম লেনিন বাদ। সোভিয়েতের পতনের পরে সাম্রাজ্যবাদী শিবির ঘোষণা করেছিল মার্ক্সবাদ মৃত।কিন্তু কী দেখছি আমরা? জনতার চাহিদা পূরণে পুঁজিবাদ আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ ।প্রতিনিয়ত বিকাশ হয়ে চলেছে নতুন সমাজের উপাদান।যখন পুরোনো সমাজ জনতার চাহিদা পূরণে অক্ষম হয় তখনই নতুন সমাজের আত্মপ্রকাশ হয়ে উঠে আসন্ন। মার্ক্স বলেছিলেন - পুরোনো সমাজের ভিতরে প্রতিনিয়ত বিকাশ হয়ে চলে নতুন সমাজের উপাদান।যখন পুরোনো সমাজ জনতার চাহিদা পূরণে অক্ষম হয় তখনই নতুন সমাজের আত্মপ্রকাশ হয়ে উঠে আসন্ন।
২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার আগের প্রবৃদ্ধি দেখে যারা ঘোষণা:করেছিল মার্ক্সবাদ তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে।কিন্তু ২০০৮ এর মন্দার পর আজ মার্ক্সবাদী অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের সত্যতা তারাও উপলব্ধি করছে।তাই তাদের পোষ্যদের দিয়ে প্রতিদিন মার্কসবাদকে গাল দিচ্ছে। কারণ তারা জানে মার্ক্সবাদ বিজ্ঞান।আমাদের এই যুগকে লেনিন বলেছিলেন যুদ্ধ ও বিপ্লবের যুগ। আজ সাম্রাজ্যবাদ সারা পৃথিবীতে যুদ্ধে রত।এমন একদিন নেই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও যুদ্ধ নেই। পচনশীল সাম্রাজ্যবাদ বাজার ,কাঁচামাল, রণনৈতিক অঞ্চলের দখলে নিজেদের যুদ্ধে বলি দিচ্ছে জনতাকে।
প্রশ্ন হলো বিপ্লব নেই কেন? মনে রাখতে হবে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের ভাঙন ,আন্তর্জাতিক এর ভাঙন এর মতো ঘটনাগুলো।সারা বিশ্বে এখন সেন্টার লেফটিস্ট দলগুলো প্রধান ভূমিকায় ।উদাহরণ ব্রিটেনের লেবার পার্টি( সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এর পার্টি) যাদের সম্বন্ধে এঙ্গেলস অনেক আগেই লিখেছিলেন ওই দলে কমিউনিস্ট বাছতে গেলে ঠগ বাছতে গা উজাড় হয়ে যাবে।অন্যদিকে অধিকাংশ 'বিপ্লবী’ দলগুলি কমিউনিস্ট মতাদর্শ এর বদলে অতিবাম পন্থী বিচ্যুতিতে আক্রান্ত।
তাই সময়ের দাবি বাম ও দক্ষিণ পন্থি বিচ্যুতির বিরুদ্ধে লড়াই করে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়া। নয়তো আন্দোলনগুলো হয় জাতপাত,ধর্মীয় উন্মাদনা কিংবা স্থানিক উগ্র প্রকাশে মুখ থুবড়ে পড়বে।বিপ্লবী সংগ্রামের হবে গর্ভস্রাব।প্যারি কমিউনের শিক্ষা নিয়ে যেমন সংঘটিত হয়েছে রুশ বিপ্লব তেমনি মহান অক্টোবর বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিয়ে চলমান শ্রেণী সংগ্রাম কে পথ দেখানোটাই আজ বড় জরুরী। অক্টোবর বিপ্লব লাল সেলাম।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন