Sponsor

.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

Sunday, March 26, 2017

স্রোতস্বিনী

স্রোতস্বিনী



নদীর সঙ্গে মিল খুঁজেছো কখনো ---
তোমার প্রয়োজন মেটাতে দুঃখ ঢেউ নেই কোনো
ভালোবেসে জল ছুঁয়ে দেখো , পায়ের পাতা ডুবিয়ে
খেলো খুশিখুশি নিক্কণে
তোমার জন্য একটা সভ্যতা গড়ে দিতে পারি
মেসোপটেমিয়ান ...

তোমার প্রেমহীন প্রয়োজনেও হাসতে থাকি
নৌকোর পাটাতনে ছলাৎ যেমন ,
তোমার জ্ঞানী উদাসীনতায় নিশ্চুপ হাহাকার ওঠে
শেষরাতের জোয়ারে
তোমার দুর্বিনীত ভাবাবেগে ছুঁড়ে দেওয়া
আবর্জনা বুকে স্বচ্ছতোয়া গতি থমকায় প্রতিটি বাঁকে

দেখতে থাকো ...
সব কাজ সেরে , তোমার অবজ্ঞায় , তোমার উন্মাদনায় ,
তোমার জন্য তোমারই অজান্তে
হয়ে উঠতেও পারি এক মহামারী ---

এর নাম প্রকৃতির প্রতিশোধ।।
 
           ---------------//------------
মধুমিতা নাথ

সব লোকে কয় লালন কী জাত


।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন।।                            

জ বারুণী স্নান ৷ জলদেবতা বরুণের নাম থেকে এর উৎস ৷ বারুণী স্নান তাই জলের উৎসব ৷ চৈত্রমাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে এই উৎসব হয়ে থাকে ৷এদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নদীতে স্নান ও তর্পণ করে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে জলদান করেন ৷ উদ্দেশ্য পূণ্যার্জন ও পাপমুক্তি ৷ এক কথায় প্রাচীন মানুষের পূর্বপুরুষ পূজারই একটি ধারা এটি ৷ এ ধরণের পিতৃতর্পণকর্ম মহালয়াতেও আচরিত হওয়ার বিধি আছে ৷ আবার কোনো কোনো সম্প্রদায়ের বিশেষ ধর্মীয় কারণেও এই পার্বণটিকে বিশেষ মান্যতা দেন ৷ যেমন মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্তরা তাঁদের ধর্মীয় গুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে, পশ্চিমবঙ্গে শ্যামনগরে এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের পশ্চিমদিকের গ্রাম বড়খলাতে এই তিথিতে মেলার আয়োজন করেন ৷  ত্রিপুরারাজ্যের দক্ষিণের সীমান্ত শহর সাব্রুম  সংলগ্ন ফেনি নদীর পাড়েও প্রতিবছর মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে হয়ে থাকে বারুণী স্নান ও মেলা ৷ ত্রিপুরা রাজ্যের ভারতভুক্তির বহু আগে থেকেই এই মেলা চলে আসছে ৷ ভারতভুক্তির পর যখন দুই দেশের মধ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় তখন থেকেই এই মেলা এক মানবিক আবেদনের রূপ নেয় ৷ এই মেলাতেই দেখা দেশের বাড়িতে ফেলে আসা মানুষজনের সাথে এপাড়ে উঠে আসা মানুষের ৷ নদীর বুকে এদিন দুপারের আত্মীয় স্বজনের গলা জড়িয়ে কান্নার রোলে বাতাস ভারি হয়ে উঠত ৷ এই প্রতিবেদকেরও ওপারের আত্মীয়স্বজনের সান্নিধ্যে এই করুণ আবহের অভিজ্ঞতা রয়েছে ৷ কালক্রমে বয়স্ক আত্মীয়স্বজনরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ৷ তাই এ দৃশ্য বর্তমান প্রায় বিরল ৷ পুরোনোদের যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে গেলেও বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যাঁরা এদেশে রয়ে গেছেন তাঁদের কেউ কেউ এদিনটাকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন ৷ তাছাড়া এখানকার ত্রিপুরি ও মগ জনজাতি অংশের মানুষের অনেক আত্মীয়স্বজন রয়েছে দুপারে ৷ তাঁরাও এদিন মিলিত হওয়ার সুযোগ নেন ৷
              সম্প্রতি সাব্রুমের বারুণী মেলা আগের চেয়ে অনেক বড়ো আকারের  আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে ৷ সেই ধর্মীয় বাধাবন্ধ আজ আর নেই ৷ কারণ বাঙালির রক্তেই আছে সম্প্রীতির বার্তা ৷ বাঙালিরই পূর্বসূরি চণ্ডিদাস, লালন ফকির, রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল ৷ যাঁরা মানুষে মানুষে সম্প্রীতির কথা বলেন ৷ সেই অসাম্প্রদায়িক বার্তা বুকে নিয়েই এদিন দুপারের হাজার হাজার লোক মিলিত হন ৷ নদী কোনো সীমানা হয় না ৷ কাঁটাতার কোন প্রতিবন্ধক হয় না ৷ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ব্যবধান থাকে না ৷ দুই ভূখণ্ডের মানুষ এক বন্ধনে বাঁধা পড়েন কিছুক্ষণের জন্যে ৷ কিছু ব্যবসায়িক বিষয়বুদ্ধিকে বাদ দিলে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার উদাহরণ পাওয়া যায় না এদিনের মহামিলনে ৷ শৃঙ্খলাটা যেন মানুষের মন থেকেই বেরিয়ে আসে ৷ কোনো জাতপাত ধর্মান্ধতা এখানে মাথা তুলতে পারে ৷ শুধু মানুষ আসে মানুষের কাছে আন্তরিকতা নিয়ে ৷ এবছরও তার ব্যতিক্রম হয় নি ৷ বিরাটপুরুষ অন্তর্যামী অলক্ষ্যে হাসেন আনন্দে ৷ 'তাই তোমার আনন্দ আমার 'পর ৷'


Saturday, March 25, 2017

'অ'শরীরী


।। অধিষ্ঠিতা শর্মা ।।


















প্রতি রাতে দরজায় কড়া নাড়ে এক মানবী
অবয়বহীন। চেতনার অদৃশ্য ইশারার হাতছানি-
ফেলে যাওয়া ছাপে বাড়াই পা।
নীরব গোপন যাতায়াত, পথ নৈঃশব্দ্যের
সহযাত্রী সে চিরন্তন। হাত ধরি নেশাতুরভাবে।
হঠাৎ মিলিয়ে যায় অনন্তে
মোহের চোরাটানে আজ সে এক নিদারুণ কায়া,
আমিত্বের ধ্বংসের প্রান্তরে
থেকে যায় ছায়া...
শুধু ছায়া...

বাংলাদেশ


(স্বাধীনতা দিবসে, উৎসর্গ )
।।  চিরশ্রী দেবনাথ।।

(C)Image:ছবি












দুই ফোঁটা রক্ত বাংলাদেশের
বাসা বেঁধে আছে আমার পঙ্খনীলে
উড়তে পারিনি তবু কোনদিন
আমার মাথায় একটি বালিশ শিমুল তুলোর
দুরন্ত ঝড়ের দিনে যে  তুলো ফুল পথ হারিয়েছিল
তারাই আমাকে কিছু স্বপ্নচূর্ণ এনে দিতে চায় বার বার ঘুমের ছলে
একথা ভীষণ সত্যি
কোনদিন স্বপ্নে তোমাকে দেখি না  আমি  "বাংলাদেশ "
আশ্চর্য সব নদী আছে তোমার
শুকিয়ে গেছে তাদের সানুদেশ, জঙ্ঘা
আমার কোন স্পর্শ নেই সেই জলভরা অতীতে
বৃষ্টির সন্ধ্যায় এই যে আমি চোখ ডুবিয়ে পড়ছি বই
মনে হয় চারপাশে জমে উঠেছে আমার প্রিয় বাবা গন্ধ
একটি দাঙ্গা, যাকে দিয়েছে এক ভুল সাম্প্রদায়িক জীবন
যার ভিড়ে আমার ছোটবেলা ঘুরেছে    
কখনো নেমেছে অন্ধকার
এখন রাস্তা আলো করে হেঁটে যায় আমার  চোখ
মনে হয় আসলে বাবার মনে ছিল এক নির্দোষ মেঘ
কতটা ভুলে গেলে এখনো প্রতিদিন সীমান্তের ওপারেই বাবার বর্ষা নামে অঝোরে
চৌষট্টিতে বাবা মা সে দেশ ছেড়ে এসেছিল
ঊনআশিতে আমি, ততদিনে তাদের শরীরে
জমেছে সীমান্তের এ পারের বাস্তুচিহ্ন, পাথরের অভিঘাত
মাঝে মাঝে শিউরে উঠি তবু শাপলার রক্তক্ষরণে
কারা সে মানুষ, দাদুর রক্ত, ঠাকুমার বহ্নি বেলা?
কতো কতো নদীর বাহুতে প্রবাহিত কবেকার প্রেমের গল্প, পাতানো সই, ঝুরো মাটির বিকেল
শুধু জেনো মনে হয়
কাঁটাতারের বেড়া  পেরিয়ে ফুটছে কোথাও অবেলার পায়েসান্ন
জন্ম দেওয়া ভুলে গেছো বাংলাদেশ?
একটি একটি সন্তান চাই তোমার, বারুদের হৃদয়, মোমের শরীর, তলোয়ারের মতো শাণিত গ্রীবায় পলাশের  স্খলিত পায়ের ছাপ
হেমন্তের শেষবেলায় ঘরে ফেরা কৃষকের চোখে ফুটে ওঠে
যাবতীয় ঋণের যন্ত্রণার সেতার
সেই অনাগত সন্তানের ডহর গলায় ঐ কষ্ট যেন চীৎকার হয়ে ফেটে পড়ে দমকে দমকে
ধুলোমাখা আদিগন্ত চুল ঐ ছেলের
পুড়ছে সেখানে  সীমান্তের বৈধ যতিচিহ্ন
গন্ধে  মাতাল  এ দেশের মেয়ে, বাস্তুসাপ তার বিশ্বস্ত বন্ধু
পাড়ি দেবে জিরো বর্ডার, হৃদয়ে নোনা হেমন্ত
আগুনে ভাঁপে লাল হয়ে গলছে পিঠেপুলির মায়াবী সকাল
মাটির আড়ালে তালশাঁসের অগভীর জলজ প্রাণ
এমন বেঁচে থাকায় শুধু মেয়েরা হেঁটে যেতে পারে
অপেক্ষা প্রেমের, টগবগে এক তরুণের,
কখনো ভুলে যায় সে মেয়ে, যেন হয়ে ওঠে কুমারী মা
কাঁখে ও পিঠে তার  দুই  দেশ
ক্ষুধা নিয়ে জেগে আছে,
আকাশে একই সূর্য, কোনদিন  সূর্যগ্রহণ, সন্ত্রাস কালো
কোনদিন গণতান্ত্রিক ...ঘন সবুজ, লালে লাল

Friday, March 24, 2017

মুর্শিদ হে


(C)Image:ছবি














।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন।।

লমটা কি বেচে দেব বলো না গো মুর্শিদ হে,
কলমেরই তরঙ্গেতে ত্রিবেণীর ওই ধারা বহে ৷
রত্নাকর তার দস্যু নামটি ঘুচিয়েছে যে কলমে,
কালিদাস হন মহাকবি কলমেরই খোশনামে,
জয়দেব আর পদ্মাবতীর অমরগাথা গীতগোবিন্দ ,
কৃত্তিবাস আর কাশীরাম কলমে ধরেন ছন্দ,
ভারতচন্দ্র দৌলতকাজির আরবি ফার্সির দ্বন্দ্ব যে-
কলমটা কী বেচে দেব বলো না গো মুর্শিদ হে ,
কলমেরই তরঙ্গেতে ত্রিবেণীর ওই ধারা বহে ৷
হাসন রাজা লালনগানে ধর্মাধর্মের নেইকো বাধা,
মন্দির আর মসজিদেতে খোদার সঙ্গে কৃষ্ণরাধা ,
ভেদাভেদ যে সরে গেল তা কী আমি ভুলব হে -
কলমটা কী বেচে দেব বলো না গো মুর্শিদ হে,
কলমেরই তরঙ্গেতে ত্রিবেণীর ওই ধারা বহে ৷
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের মানবতার জয়গান,
নজরুলের সাম্যবাদের উদারসুরে আহ্বান,
জগৎ জুড়ে যে ডাক পাঠায় বাংলামায়ের সন্তান,
নতুন হাওয়ায় মেতে গিয়ে সে সব কিছু ছাড়ব হে-
কলমটা কী বেচে দেব বল না গো মুর্শিদ হে,
কলমেরই তরঙ্গেতে ত্রিবেণীর ওই ধারা বহে ৷
পল্লীকবি জসীমউদ্দিন আর শামসুর রাহমান,
ওই কলমেই রেখে গেছেন বাংলাভাষার মানসম্মান,
বাহান্নর ভাষাশহিদ উনিশের শিলচরে,
জাতিধর্মের ধুয়া তুলে তাদেরও কী ছাড়ব হে-
কলমটা কী বেচে দেব বলো না গো মুর্শিদ হে -
কলমেরই তরঙ্গেতে ত্রিবেণীর ওই ধারা বহে ৷
অন্ধকারে ছাইল আকাশ ভাঙন ধরে নদীর বুকে,
বাতাস যদি ভাগ করতে চাই থাকব কী আর পরমসুখে,
আকাশ বাতাস এই দুনিয়ায় সবই তো তাঁরই দান,
কেউ বা আল্লা কেউ বা গড কেউ বা বলেন ভগবান,
এসব কথা ভুলে গেলে আমরা কী আর বাঁচব হে-
কলমটা কী বেচে দেব বলো না গো মুর্শিদ হে-
কলমেরই তরঙ্গেতে ত্রিবেণীর ওই ধারা বহে ৷
বাউল পূর্ণানন্দে বলে, সহজকথা ভুলে গেলে ,সহজ মানুষ কি আর মেলে ৷
হানাহানি হিংসা ভুলে, দেলের ভেতর বাতি জ্বেলে, ভালোবাসো মানুষে হে-
কলমটা কি বেচে দেব বলো না গো মুর্শিদ হে-
কলমেরই তরঙ্গেতে ত্রিবেণীর ওই ধারা বহে ৷

আরো পড়তে পারেন

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...