.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

শুক্রবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৮


Sent Mail

তুচ্ছকবিতা-৮
----------------------
আবুল কাসিম তাপাদার

কী চাও,তবে?
আমাকে ফিরিয়ে নাও।
সম্ভব-অসম্ভবের কথা বলছি না,যে-সব লোকের বলা কথা---। এসব লোক কত-অ বলেছে--ঘরের আসবাবপত্র ভাঙতে-ভাঙতে,
বোতল  গ্লাস ভাঙতে-ভাঙতে।
আমি যে কথাটি বলছি,সেটি হচ্ছে--
আমাকে ফিরিয়ে নাও।
বরণীয় কবির কথাও এড়িয়ে বলছিনা।
তুমি কী কোনোদিন জেনেছিলে তখন?
তুমি কি সত্যিই জানতে না
অথবা জানতে তখন,
যে-কোঁরদড়ি এঁটে দিয়েছ,
তাতে আমার কোমর আঁটবে না একদিন?
তবে,সেইমাত্রই কি সীমিত ছিল
তোমার অঙ্কের ফুল?
আমার তো কোঁরদরি
কবেই সরু হয়ে ছিঁড়ে গেছে।
তোমার অঙ্কের খাতার বাইরে
অসংখ্য অপরিকল্পিত ধাপ হয়ে
আমি যে কবেই নেমে পড়েছি অতল শূণ্যে,
কেবল-ই এভাবেই মনে হয়।
তোমার 'শুদ্ধচিহ্ন' প্রত্যাশা-করা অংশের অনেক-ই
বাইরে আমি যে
মনে-নেই কবে থেকে
ক্রমাগত বন্ধুর-মসৃন-মাঠ, পাহাড়-সমতল-জল অতিক্রম করছি।উঠছি নামছি পড়ছি উঠছি।
অকসর-ই বোধ হয়--
আমার কোমর তোমার পরিকল্পনা মতন নয়,
একটা ইন্ডিসসিপ্লিন্ড,
পথের ধারে-ধারে ঘোরা
বাবার দায়িত্বহীন ছেলের মত যত-পারছে বেড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
কেউ কিচ্ছু বলবার দরকার বোধ করে না,
কেউ দাবি করে গালাগাল করে না,
রৌদ্রে কেন রে? বৃষ্টিতে কেন রে?
পথচলতি হকারের কাছ থেকে কি কিনিস রে, প্রতিদিন?
লক্ষ্য করেছিস,কতদিন-ধরে একটা দড়িমাত্র চপ্পল পরে হাঁটছিস?
পায়জামা নোংরা হয়েছে,এই কথাটি কে সিলমোহর বসিয়ে বলতে পারে?
মুখখানি 'শুধু চলতে হয় না-চাওয়া আয়োজনের দিকে'।
যে-কোমর শুধু-ই বেড়ে যাচ্ছে, তোমার দাঁড়ি ভেঙে,
আর কে দাঁড়ি দেবে?অপরিকল্পিত, ছুটেছে গাড়ি।
চা-আ-কা যখন ঘুরছে--একটা দিকে ত যেতেই হয়,এভাবেই বাড়ছে কোমর।
তুমি যেখানে দাঁড়ি দিয়েছ, অথবা
যেখান থেকে আর আঙুলও তুলবার অপেক্ষা ত্যাগ করে দিয়েছ,
সেখান থেকে,আমি নির্বোধ হয়ে যত মেঘের চাকা নিয়েছি মাথায়,
নির্দোষ হয়ে জটিল অঙ্ক মেখেছি পিঠে,দোষী
হেঁটেছি করুণ চাদরের মত বৃষ্টির ভেতর। কাঁদিনি,কারণ সব অবোধ নিজের কান্নার বোধ-ছুঁতে পারে কি ?
শুধু হেঁটেছি বিশাল বৃষ্টির ভেতর।
যে-কোমর বাড়ছে,
বেড়ে উঠছে যখন
হেঁটে এসেছি মলিন টিনের-ঘরের
সংকীর্ণ গলি,কোমরে লেগেছে,
হেঁটে এসেছি কত ব্যস্ত-বাসস্ট্যান্ড
হকারের চিৎকার করতে-করতে
দ্রুত মোটর-গাড়ির কোণ ছুঁয়েছে,কোমর।একা-একা ঘুরতে-ঘুরতে
আরও একা ঘুরেছি। অবোধ অপরাধী হাতে
কত অগাধ-জলভর্তি অন্ধকার হাতলেছি,
জল ভর্তি হয়নিকো মোটকেয়,
পাঞ্জাবীর পিঠে সাঁটা সে-কবের-ই একছিন্ন কাঠি নিয়ে,একা-একা। পথ চলার বিষমতা কখনও
হাতে উঠে আসেনি।
আয়োজন টানেনি, টানছে না,
দাঁড়ি ভেঙেছি--শুধুই যে তার ভেতরে থাকার কথা ছিল,
শুধু কি তার ভেতরেই থাকার কথা ছিল?
দাঁড়ি ভেঙেছি বলে আমি আয়োজেনের পথে হাঁটছি,
দাঁড়ি না-ভাঙলে কি আমি আয়োজনের পথে হাঁটতাম না?
আয়োজন টানছে না, আয়োজন সে-যত বড় হোক
আমার কোমরের মাপ দিয়ে তার কিছুই পাবার নেই।তবু ছুটছি অনবরত,কোমরে সংঘর্ষণ দিয়ে যায়,পথের রাজস্ব যারা আদায় করে কোমর শক্ত করে পথ চলছে ,হ্যাঁ,পথ কিনে-কিনেই ত
হাঁটছে,উপেক্ষা করবার নয়।
তারা দ্রুতচলতি সিপাহি, অথবা এম্বুলেন্স,
কোমরে সংঘর্ষণ দিলে আপত্তি করব কেন?
আর,আপত্তি ত আমি দাঁড়ির ভেতরে,কতকাল আগে ওপারে ছেড়ে এসেছি।
এত আয়োজন জানলে কি আনতে,আমাকে?
এত আয়োজনের কথা কি স্বপ্নেও ভাবনি।
শুধু কি দাঁড়ির ভেতরেই তোমার অঙ্ক ছিল?
শুধু কি দাঁড়ির ভেতরেই ফুল-ফোটা ছিল?
আমার কোমরের হিসেব নিতে নয়,কোমর মাপতে এখন কে ফিতা নিয়ে ছুটে আসবে?
এত উৎকম্প পথ কি তোমার জানা ছিল না,
অথবা এতসব আয়োজনের কথা তুমি কি আগে জানতে?
আমি এখন লাটিম--প্রচণ্ড বেগ লেগেছে গায়।উঠে গেছি।নামবও।প্রচণ্ড আঘাত হবে। শব্দ হবে।
চোখ যদি পড়ে---তোমার চাওয়া ঘূর্ণনাংশ কেটে নিও, বাকিটুকুতে যখন ইচ্ছে বলতে পার--'কাট'!কাট!
বাকিটুকু থাক ঘোর বৃষ্টির ভেতর,
বাকিটুকু থাক অরণ্যে,
পথপ্রান্তরে বোতলের, শিশের ছাটে যত পা কেটেছি নিজের,
যত রক্ত শুষেছে বালু,যত শুকিয়েছে কোথায় কোথায়
দিনরাত কতখানে যে ঘুরেছি ঘাসে।
আমাকে ফিরিয়ে নাও।
আমাকে ফিরিয়ে নাও।
যে-কোনও বলার মত করে নয়
সহজভাবে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলি,
আমাকে ফিরিয়ে নাও।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন